আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নির্লজ্জ মগজের স্থূলতা এবং একটি দশ টাকার নোট

আমি এমন এক সাধারন মানুষ হতে চাই যে অসাধারন হবার পেছনে দৌঁড়ায়না এবং বিনা প্রশ্নে কিছু গ্রহন করেনা ।

সেমিনারে দুর্দান্ত বক্তিমা ঝেড়ে আসবার পর ফুরফুরে মেজাজে রিকশা খুঁজে খুঁজে হয়রান হবার পর কিছুদূর হেঁটে আবার রিকশার সন্ধানে যাবেন চিন্তা করতে করতে অবশেষে রিকশা পেয়ে গেলেন । হৃষ্টচিত্তে রিকশায় উঠে সেমিনারের সময়টা স্মরণ করতে থাকলেন । বহুদিন পর আজকে কষে টানা ২০ মিনিট যাবত ঝেড়েছেন । যাদের বিরুদ্ধে ঝেড়েছেন সেই সংস্থা থেকেই মাস শেষে থোক টাকা আসবে নিশ্চিত ।

তাদের প্ল্যান অনুযায়ীই তার এখানে আসা । যেই পারফরম্যান্স দেখালেন তাতে শ্রীঘ্রই আরো চার - পাঁচ জায়গা থেকেও বক্তৃতার অফার আসবে বুঝে নিতে কষ্ট হচ্ছেনা । আসন্ন সুখের কথা ভাবতে ভাবতে মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করতে লাগলেন রিকশাওয়ালাকে । পেটানো , শক্ত শরীর বেয়ে টপটপ করে ঘাম পড়েই যাচ্ছে থামার নাম নেই । রাস্তার চারপাশে জ়োরসে ওয়াজ হচ্ছে ।

লক্ষ্য করবার চেষ্টা করলেন যে এসব শুনে রিকশাওয়ালার প্রতিক্রিয়া কি । হাভাতে , মজুরের জাতের লোকেরা এসব শুনে আবেগে আত্মহারা হয় বলেই জানেন । দেশটা তো এদের দিয়েই ভর্তি । পাশ থেকে রিকশাওয়ালাকে দেখে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন যে ওয়াজের প্রতিক্রিয়ায় বেটা দাঁত-মুখ খিচড়াচ্ছে । হুজুরের ওয়াজে চালের দাম কেজিতে আট আনাও কমেনা ।

কি যুক্তিতে এই বয়ানে কান দেবে অধ্যাপক সাহেবের দামী মগজে এই প্রশ্নও উঠলোনা । রিকশা ঢিমেতালে সামনে এগোতে থাকে । অফিস সেরে মানুষজন যার যার মত বাড়ি ফিরতে ব্যস্ত । রিকশার ঠেলাঠেলি লেগেই আছে । কিন্তু চোস্ত সাদা কালারের যেই প্রাইভেট কারটা আগে যাবার তাড়নায় বিতিকিচ্ছিরি জায়গায় গাড়িটা ঢুকিয়ে শত মানুষকে খাম্বা বলদের মত দাঁড় করিয়ে রেখেছে অধ্যাপক সাহেবের চোখ তাও এড়িয়ে গেলো ।

ভিড়টা কোনমতে পার হয়ে আবার খোলা রাস্তায় চলতে শুরু করলো রিকশা । ট্রাফিক জ্যাম নিয়ে পত্রিকায় কলাম লিখবেন বলে মনঃস্থির করে বসলেন । নিজের মনেই গজগজ করতে লাগলেন রিকশাগুলোর জ্যাম বাঁধানোর প্রবণতা নিয়ে । রিকশাওয়ালা ভ্রুক্ষেপ করবার প্রয়োজনবোধ করলোনা । একটা রিকশাও ভিআইপি রোডে চলেনা তবুও কেন সেখানেও গেলে পৌঁছতে ত্রাহি দশার উপক্রম হয় প্রশ্নটা করাই যেতো ।

অধ্যাপককে নীরবে দুই - চারটা খিস্তি করে অবশেষে ঠিকানায় এসে পৌঁছালে দেখলো যে ভাংতি না থাকায় ভাড়ার থেকে দশ টাকা বেশী দিয়ে সফেদ পোশাকের অধ্যাপক পরম অহংকারে বাড়ির দিকে হাঁটা ধরতে লেগেছে । চোখ-মুখ শক্ত হয়ে গেলো রিকশাওয়ালার । খানকীর পোলা বলতে না পারার কারণে তড়িৎ অপশন খুঁজতে গিয়েই লেবুর শরবতের সরঞ্জামসহ একজনকে বসে থাকতে দেখলো । এদিকে দশটা টাকা বেশী দেওয়ার খয়রাতি সাহায্য দিতে যাওয়া অধ্যাপক ভেবে পাচ্ছিলেন না তাকে দাঁড় করিয়ে রাখার মানে কি । সেখান থেকে ধীরে সটকে পড়তে যাবেন সেই সময়েই বেটা রিকশাওয়ালা তার সামনে এসে দাঁড়ালো ।

প্রবল তাচ্ছিল্যে দশ টাকার এক পরিষ্কার নোট হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে বসলো ' অহন যান । ' কচকচে নোটের রাডার দিয়ে মানুষ দেখতে শেখা বেয়াক্কেল অধ্যাপকের সামনে দিয়ে স্বগর্বে ধুলো উড়িয়ে রিকশা ছুটতে লাগলো ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।