আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সুপার ফ্লপ পোস্ট গরীবের কথা : দারিদ্রের লক্ষণ এবং প্রকরণ : গরীব মানুষের সমাজ এবং সমাজের গরীব মানুষ



গরীব মানুষের ব্যাপারে সমাজ অতি নির্দয়। একবেলা না খেয়ে থাকা যত না কষ্টের, গরীবের প্রতি সমাজের এই নির্মম আচরণও আরও বেশি পীড়াদায়ক। ধর্ম, রাষ্ট্রযন্ত্র, গণতন্ত্র এবং সমাজ -সবার মূল দায়িত্ব হচ্ছে- গরীবকে আরও দমিয়ে রাখা। কেননা গরীব মানুষ ছাড়া সমাজ চলবে না। একজন মেথর যদি ধনী হয়ে যায়, তাহলে সমাজের গু পরিষ্কার করার কেউ থাকবে না।

রাষ্ট্রে যদি গরীব মানুষ গিজ গিজ না করে তাহলে গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়বে। বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে গরীব বন্ধু না থাকলে নতুন গাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট কিনবার আনন্দ অনেকখানিই ম্লান হয়ে যায়। ধর্ম আমাদের পরকালের স্বপ্ন দেখায়। ধর্ম দারিদ্র নিরসনের কোন পথ দেখায় না, সে কেবল গরীব মানুষকে সাত্ত্বনা দেয়। ধর্ম বলে , টাকা পয়সার দিকে না তাকিয়ে ধর্মের বেদীমূলে তোমার বাকী সর্বস্ব দিয়ে দাও।

এদের গালে সজোরে চপেটাঘাত করেছেন এক বঙ্গসন্তান। স্বামী বিবেকানন্দ খুব স্পষ্ট বলে গেছেন, যে ঈশ্বর তোমাকে এখন ভাত কাপড় দিতে পারেনা, সেই ঈশ্বর তোমাকে স্বর্গে নিয়ে অমৃত খাওয়াবে- এটা বিশ্বাস করো না। যে রাষ্ট্রে যত বেশি গরীব মানুষ থাকে, সেই রাষ্ট্রে গণতন্ত্র নিয়ে ততবেশি মাতম চলে। গরীব মানুষ লটারির টিকেট কেনে, জমি বেচে শেয়ার কেনে এবং পাঁচ বছর পর পর ভোট দেয়। তার উদ্দেশ্য একটাই - ভাগ্য পরিবর্তন।

এবং বলাবাহুল্য, প্রতিবারই সে ঠকে। আরেক মহাপুরুষ অসাধারণ একটা কথা বলেছেন এ ব্যাপারে। বাংলা অতি দূর্বল ভাষা বলে কথাটার অনুবাদ করার সাহস পাচ্ছি না, পাছে ভাব নষ্ট হয়ে যায়। তিনি কনফুসিয়াস। বলেছেন : In a country well governed, poverty is something to be ashamed of. In a country badly governed, wealth is something to be ashamed of. গরীবের প্রতি কী কেবল রাষ্ট্রযন্ত্র কিংবা ধর্মই অসদাচরণ করে? আমরা সাধারণ মানুষরা কী করি? একবার নিজের বন্ধুদের কথা ভাবুন।

দেখবেন আপনার বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে বড়লোক, তাকে আপনি খাতির করেন, কিন্তু ভেতর থেকে পছন্দ করেন না। এটা ঈর্ষা। আবার যে বন্ধুটি সবচেয়ে বেশি গরীব, তাকে তো আপনি দুই চোখে দেখতে পারেন না। এর কারণ কী ? আপনি নিজেও জানেন না, কেন আপনি তাকে পছন্দ করতে পারছেন না, কেন অযথা তার প্রতি আপনার সীমাহীন রাগ, ঘৃণা, অবহেলা , তাচ্ছিল্য। কারণ তার দারিদ্র।

মজার ব্যাপার হচ্ছে দারিদ্রকে ধনীরা তো বটেই গরীবরাও পছন্দ করে না। হা হা হা। একজন কুষ্ঠ রোগী আরেক কুষ্ঠরোগীকে দেখে বিবমিষা বোধ করছে। আমরা খুব সাধারণ মানুষরা গরীবদের সাথে খুব নির্দয় আচরণ করি, নিজের অজান্তেই করি। একটা বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা বলি।

একবার আমরা ১০/১৫ বন্ধু মিলে ঠিক করলাম, লালন মেলায় যাবো। পার হেড ২০০০ টাকা করে চাঁদা। আমাদের গ্রুপের মাত্র ১ জনের অবস্থা খুব খারাপ। দীর্ঘদিন তার কোন চাকরিবাকরি নেই। বন্ধুরা সবাই আমাকে ফোনে বলল, দেখা হলে টাকা দিয়ে দেবো, আপাতত তোমার পকেট থেকে খরচ করো।

আমি দেদারছে খরচ করতে থাকলাম। শুধু ওই চাকরিবিহীন বন্ধুকে ফোন দিয়ে বললাম, ইয়ে মিজান, তোমার টাকা কখন দিবা ? টাকাটা না পেলে তো কিছুই করতে পারছি না। সে খুব বিব্রত হয়ে টাকাটা কোথাও থেকে জোগাড় করে আমার হাতে দিয়ে গেল। তারপর একটা মজার ঘটনা ঘটল। আমরা কুষ্টিয়া গিয়ে দেখলাম, সেখানে আমাদের থাকার ব্যবস্থা ফ্রি, খাওয়ার ব্যবস্থাও ফ্রি।

শুধু যাতায়াত খরচ বাবদ আমাদের খরচ হলো ২০০০ টাকা। যেহেতু সব ফ্রি, কাজেই কেউ তার ভাগের টাকাটা দিল না। ঠকলো কেবল সেই হতদরিদ্র বন্ধুটি। তারই কেবল টাকা খরচ গেল। অন্যরা তার টাকায় ঘুরলো, ফিরলো।

ব্যাংকও কিন্তু একই আচরণ করে। তেলা মাথায় তেল দেয়। যার টাকার দরকার, তাকে টাকা দেয় না। যার দরকার নাই, তাকে সেধে দেয়। আমরা এক ছোটোভাই ব্যাংক থেকে কম্পিউটার কেনা বাবদ ৫০ হাজার টাকা লোন করে স্ত্রীর চিকিৎসা করেছিল।

ব্যাংক কড়ায় গন্ডায় তার কাছ থেকে প্রতিটি পাই পয়সা আদায় করেছে। তার জিহবা বের হয়ে গেছে। তার দু একটি কিস্তি মিস হওয়ায়, ব্যাংক তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে এবং গালাগালিও করেছে। আমি সেই লোনের একজন গ্যারান্টার ছিলাম। আমাকেও ছিলে দিয়েছে bank।

সালমান এফ রহমানের কাছে ব্যাংক কোটি কোটি টাকা পায় এবং তাকে দেখলে বাংলাদেশের সকল ব্যাংক ম্যানেজার চেয়ার ছেড়ে দাড়িয়ে যায়। গরীব মানুষ হিসেবে আমি এইটুকু বুঝি, দারিদ্রের চেয়েও আমার বড়ো সমস্যা সমাজের নির্দয় আচরণ। সমাজ এতো নির্দয় ক্যানো? ( শত বাঁধার মুখেও -এই সিরিজ চলবে) প্রথম পর্ব

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।