আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

INCEPTION এবং কিছু গোলমেলে কথা

আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ !! আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ

ক্ষমা প্রার্থনাঃ এই ব্লগটি এর বিষয়বস্তুর কারণে একঘেয়ে সুরে লেখা হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও সাবলীল ভাবে লিখতে পারিনি। সে জন্য সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এছাড়া ব্লগ এর বক্তব্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে লেখক নিজেই সন্দিহান।

আমি শুধুই আমার ধারণার কথা গুলো লিখছি। ধারণা ভুল হতেই পারে। তাই ব্লগটি পড়ার পরে অবশ্যই আপনার ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করবেন। *************************************************** কল্পনা করুন, আপনি ডান দিকে পাশ ফিরে শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখছেন। আপনি বিশাল এক মখমলের পালঙ্কে শুয়ে আছেন।

হাল্কা বায়ু বইছে। আপনার চারপাশে মৃদু সংগীত বাজছে ইত্যাদি ইত্যাদি .................. এমন সময় হঠাৎ করে আপনি বাস্তবের জগতে ঘুমন্ত অবস্থায় ডান পাশ থেকে বাম পাশে ফিরলেন। বলেন তো স্বপ্নের জগতে কি ঘটবে? এই প্রশ্নের উত্তর পরে দেয়া হবে। বিজ্ঞানের ভাষায় বলতে স্বপ্ন মানুষের মস্তিষ্কের স্মৃতি হতে সৃষ্ট চিন্তা চেতনার প্রতিবিম্ব মাত্র। জন্মের পর থেকেই মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

অধিকাংশ স্বপ্নই মানুষ মনে রাখতে পারে না। কখনো কখনো স্বপ্ন মানূষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আর তাই যুগ যুগ ধরে এই স্বপ্নকে কেন্দ্র করে গল্প, কবিতা, গান, চলচ্চিত্র ইত্যাদি রচিত হয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান এর INCEPTION ছবিটি, যা অবচেতন মন বা স্বপ্নজগৎ কে কেন্দ্র করে রচিত, সকলের যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছে। নোলান এর প্রতিটি ছবিই একই রকম খ্যাতি লাভ করেছে।

এবং আমি ব্যক্তিগত ভাবে তার ছবি গুলোকে আমার জীবনে দেখা সেরা ছবি বলে মনে করি। আশা করি আপনারাও আমার সাথে একমত। তবে INCEPTION ছবিটি দেখতে গিয়ে কিছু প্রশ্ন আমার মাথায় ধাক্কা দিল --------------------------------------------------------------------------------- প্রথমত, সিনেমা দেখে মনে হয়েছে এক স্তর অবস্থান এর প্রভাব তার পরের স্তরে পরা খুবই স্বাভাবিক। যেমন- গাড়ি উল্টে যাওয়ায় পরের স্তরের দৃশ্যে হোটেলের ঘূর্ণন দৃশ্য বা গাড়ির মুক্ত ভাবে পতনের ফলে হোটেলের লিফট এ ওজন শূন্যতার দৃশ্য এমন ভাবে দেখানো হয়েছে যেন এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে আপনার স্বপ্নে আপনি ছাদ এর দিকে ধাবিত হবেন।

আর একজন মানুষ ঘুম এর সময় বেশ কবার পাশ ফিরে থাকে। আর যদি স্বপ্ন দেখার সময় এটা ঘটে আপনার স্বপ্ন তো চরকির মত ঘুরতে থাকবে। অন্য ভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, এই ধরণের ঘটনা কোন ভাবেই সম্ভব না। কারণ, অবচেতন মন কিন্তু সব সময় পৃথিবীর অভিকর্ষজ বল এবং এর প্রভাব কে বিবেচনায় রেখে যেকোন কল্পনা করে। এর একটা উদাহরন 'অবচেতন মন এর ক্ষমতা কতটুকু ?' ব্লগটিতে দেয়া হয়েছে।

সুতরাং, আপনি ঘুম এর মধ্যে যতই নড়াচড়া করুন না কেন স্বপ্নে এর প্রভাব পরবে না। এবার আপনি নিজেই বলুন- আপনার স্বপ্নের কি হবে ? আপনি কি খাট থেকে ছাদ এর দিকে পড়ে যাবেন নাকি টেরই পাবেন না যে আপনি পাশ ফিরেছেন ? ------------------------------------------------------------------------------ দ্বিতীয়ত, সিনেমাটিতে দেখান হয়েছে মানুষ স্বপনের ভেতরও স্বপ্ন দেখতে পারে। এবং মজার ব্যাপার হ্ল মানুষ স্বপ্নের মধ্যে যে সময় টুকু ব্যয় করে বাস্তবে তা অনেক কম। যেমন- INCEPTION এ বলা হয়েছে স্বপ্নের ১ ঘন্টা হল বাস্তবের ৫ মিনিট এর সমান। এটা সত্য যে অবচেতন মন অনেক দ্রুত কল্পনা করতে পারে।

আমি আমার 'অবচেতন মন এর ক্ষমতা কতটুকু ?' নামক ব্লগটি তে লিখেছিলাম মানুষ এর মন কি করে একটা জটিল গাণিতিক হিসাব অতি দ্রুত করতে সক্ষম। কিন্তু একটা স্বপ্নের ভেতর আবার একটা স্বপ্ন দেখার ব্যাপারটা কিছুতেই যৌক্তিক মনে হ্ল না। সেক্ষেত্রে, দ্বিতীয় স্বপ্নটি বাস্তব জগতের চেয়ে আরো বেশি দ্রুত দেখা যাবে বলে বলা হয়েছে। অনেকেই হয়তো বলবেন যে আপনারাও একটা স্বপ্নের ভেতর আর একটা স্বপ্ন দেখেছেন। আমার ধারনা, এটা সম্ভব না।

স্বপ্নের ভেতর আরেকটা স্বপ্ন দেখার অর্থ হ্ল- মস্তিষ্কের 'অবচেতনমন' অংশের কোষ গুলো স্বাভাবিক এর চেয়ে আরো দ্রুত গতিতে কাজ করতে শুরু করেছে। এবং স্বপ্নের স্তর ( layer ) যত বাড়তে থাকবে, এই গতি আরও বেড়ে যাবে। মস্তিষ্ককে দ্রুত কাজ করাতে হলে এর বিপাকপ্রক্রিয়ার হার বেড়ে যাবে। যার জন্য বেশি অক্সিজেন লাগবে। এই অক্সিজেন সরবরাহ করতে আপনার হৃদপিন্ডটি কে দ্রুত রক্ত পাম্প করতে হবে।

তার সাথে তাল মিলিয়ে দ্রুত শ্বাস নিতে হবে। ফলাফল- ঘুম কে আর কেউ বিশ্রাম বলতে সাহস পাবে না। তাই এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে মানুষ স্বপ্নের ভেতর স্বপ্ন দেখতে সক্ষম না। বরং সে এক স্বপ্ন দেখা অসম্পূর্ণ রেখে আরেক স্বপ্ন দেখতে পারে। ব্যাপারটা অনেকটা এক সিনেমা অর্ধেক দেখে অন্য সিনেমা দেখতে যাওয়ার মত।

আর স্বপ্নের গতি প্রতিটি ভাগে এই সমান থাকে। যা বাস্তব জগতের চেয়ে বেশি। অনেকেই বলবেন INCEPTION এ চার স্তর এ চার জন মানুষের স্বপ্নের জগত ব্যবহার করা হয়েছে। তাই স্বপ্নের গতি বহূগুণ বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একটু ভেবে দেখবেন, এই চার জন ছাড়া বাকিদের অবচেতন মন চারটি স্তরেই ব্যবহৃত হয়েছে।

সেক্ষেত্রে তাদের শারীরিক অবস্থা কি হবে তা আমি আগেই বলেছি। আর যদি এমন হয় যে অবচেতন মন এক স্তর থেকে বের হয়ে অন্য স্তরে প্রবেশ করছে সেক্ষেত্রে এর গতি দ্বিতীয় স্তরে আর বাড়ার কথা না। অর্থাৎ পুরো ব্যাপারটাই অনেক জটিল হয়ে উঠবে। কেউ কেউ বলবেন- বাস্তবের পরিবেশ প্রায়ই আপনাদের স্বপ্নে প্রভাব রাখে। যেমন স্বপ্নের মধ্যে হয়তো কাক এর ডাক শুনতে পাচ্ছেন, এমন সময় ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখবেন যে বাইরে আসলেই কাক ডাকছিল।

একটু ভেবে দেখুন স্বপ্নে কিন্তু সব ঘটনা দ্রুত ঘটে। তার মানে আপনি ঐ সময় 'আধো ঘুম- আধো জাগরণ' অবস্থায় ছিলেন। এছাড়া আরো কিছু প্রশ্ন আছে ? কিন্তু তার রহস্য ভেদ করার ক্ষমতা আমার নাই। তাই ব্লগ এখানেই শেষ করলাম।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.