আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সমাধানের পথে আসুন

মহাভারতে বর্ণিত, জন্মান্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্রের সঙ্গে গান্ধার রাজ সুবলের মেয়ে গান্ধারির বিয়ে হয়েছিল এবং এই বিয়ের ফলে রাজমাতা গান্ধারি একশত পুত্র সন্তান ও দুঃশলা নামের একটি মেয়ে জন্ম দেন। গান্ধারি অতীব পতিব্রতা নারী ছিলেন। অন্ধ পতিকে জীবনের কোনো ক্ষেত্রে অতিক্রম করবেন না বলে তিনি প্রতিজ্ঞা করেন এবং বিয়ের দিনে একটি বস্ত্রখণ্ড ভাঁজ করে চোখের ওপর বাঁধেন। অর্থাৎ পতির অন্ধত্বকে বরণ করে নিলেন সর্বকালের জন্য। তার এই ত্যাগ নারীর আত্দত্যাগের দৃষ্টান্ত থেকে গেল যুগে যুগে।

এই আখ্যান কেন আনছি, তা পরে বর্ণনা করা যাবে। আমাদের দেশ এক অদ্ভুত ক্রান্তিকালে আবর্তিত হচ্ছে। প্রজাকুল কোনোভাবে সুখে নেই। কুশাসন ও দুঃশাসনে নিষ্পিষ্ট হয়ে তারা এমন হতদরিদ্র হয়েছে যে, এ থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথও দেখতে পাচ্ছে না। চারদিকে হাহাকার।

জনগণের সহায়-সম্পদ শাসকগোষ্ঠীর কৃপায় এমনভাবে লোপাট হয়েছে যে, কয়েক শতকে এর নজির দেখতে পাওয়া যাবে না। শাসককুলের লুণ্ঠন ও দুর্নীতির কারণে ধনহীন মানুষ বাঁচার সম্বল হারিয়ে অদৃষ্টকে দোষারোপ করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় ক্ষমতার অনেক বাইরে চলে গেছে। প্রশাসন এমনভাবে দলীয়করণ হয়েছে যে, কোথাও দাঁড়ানোর ঠাঁই নেই। গুম-খুন অহরহ হচ্ছে।

অর্থাৎ সমগ্র প্রজাকুল নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। অর্থনীতি উৎপাদন ও বাণিজ্যবান্ধব নয় এবং এককথায় শ্রীহীন ও ভবিষ্যৎহীন হয়ে পড়েছে।

হালাকুখান বা দিলি্ল আক্রমণকারী নাদিরশাহ যেভাবে বাগদাদ বা দিলি্ল দলন করেছিল, অবস্থা তার চেয়েও দুর্গতসম্পন্ন। এখন কথা বলার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদীকে লাপাত্তা করার পদ্ধতি চালু হয়েছে।

কথা বললেই এ দেশে এখন ইলিয়াস আলীর মতো গুম হতে হবে। অর্থাৎ লাশও পাওয়া যাবে না। জাতি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সরকার বা বিরোধী দল সবাই গণতন্ত্রের জন্য হা-হুতাশ করছে। কিন্তু দারিদ্র্য এমন একটি অসুখ যে, তার কাছ থেকে উঠতে না পারলে, গণতন্ত্র বা কোনো কিছুই অর্থপূর্ণ হয় না।

একজন ভিক্ষুক শুধু হাত বাড়ায় না, তার মানসিকতা তাকে নতমুখী করে। সে গণতন্ত্রের স্বাদ কি গ্রহণ করতে পারে? শিক্ষা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন সবই বিকল হয়ে পড়ছে। মানুষ কোথায় যাবে, কার কাছে দাঁড়াবে, কাকে বলবে এরূপ নিঃসহায় হতবিহ্বল অবস্থা জাতিকে উদ্যমহীন এবং অসহায়-পঙ্গুত্বে নিয়ে যায়। সরকার তার ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্য কারণে-অকারণে এবং কোনো যোগসূত্রতা ছাড়াই বিরোধী দল বা যে-ই প্রতিবাদী হয়, তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সোচ্চার হয়। কেউ দোষ দেখিয়ে দিলে সরকার তার ব্যর্থতা স্বীকার না করে, ওই প্রতিবাদীর ঘাড়ে সব দায়-দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়।

সরকার চারদিকে সাফল্য ও উন্নয়ন দেখছে। এটা যে সত্য নয়, এ কথা বললে পিণ্ডি চটকিয়ে দেওয়া হয়। মহাভারতের পতিব্রতা নারী গান্ধারির কথা বলেছিলাম কেন, সেটাই জানাতে চাই। বর্তমান শাসককুল বাংলাদেশে শাসনের নামে দলীয়ভাবে লুটপাট করে প্রজা সাধারণকে যে দুর্ভোগে ফেলেছে, তাতে তারা চান, যেন প্রজাসব গান্ধারির মতো চোখে পট্টি বেঁধে আজীবন অন্ধত্ববরণ করেন। অর্থাৎ তারা শাসকের অন্যায়-অত্যাচার জন্মের মতো দেখতে না পায়।

সবাই যেন নরকূণ্ডে যন্ত্রণায় পড়েও শাসকের গুণ-কীর্তন দিন-রাত জপ করে। অবস্থা বর্তমানে একেবারেই হীরক রাজার দেশের মতো হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ যত নিগ্রহ হোক না কেন, সবাইকে শুধু বলতে হবে 'আহা বেশ বেশ'। সরকারের শুরু থেকে শেয়ারবাজার কারসাজির মাধ্যমে অতি সাধারণ মানুষের অর্থ লোপাট হয়ে যায়। সম্পদহারাদের আহাজারি এবং মিডিয়ায় তোলপাড় হওয়ায় সরকার দুষ্কৃতকারীদের শাস্তি না দিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলতে লাগল।

শেয়ারবাজারে এই সাড়ে চার বছরে শেয়ারের লাগাতার দরপতন অব্যাহত রয়েছে। বাজারে টাকা উঠিয়ে নিলে দর আর কীভাবে ওঠানামা করতে পারে। ব্যাংক ও অন্য অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা সত্যিকার অর্থেই নাজুক।

সোনালী ব্যাংকের দুর্নীতি ও হলমার্ক কেলেঙ্কারি সর্বজনবিদিত। দুর্নীতির সবচেয়ে বড় নজির পদ্মা সেতু নির্মাণ তো দূরের কথা, এর পরিকল্পনাতেই যে দুর্নীতি হয়েছে, তাতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করতে ভয়ে পিছিয়ে গেছে।

আর তার মুখ ঘোরানো যাচ্ছে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় সরকার স্বপ্ন বলে একটি পণ্য বেচাকেনা করতে পারবে। মানুষ এরূপ বিশ্বাস করে। অথচ কেউ প্রতিবাদ করলে টকশো বা পত্রপত্রিকা বা টিভি চ্যানেলে তার আর রক্ষা নেই এবং সে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যাবে। সাগর-রুনীর মতো সাংবাদিক লাশ হয়ে গেছে, এর কোনো জবাব নেই।

মাহমুদুর রহমানের মতো সাংবাদিক প্রতিবাদ করায় এখন চৌদ্দশিকের পেছনে তসবি গুনছে। তার পত্রিকাটি বলা বাহুল্য, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরূপ আরও একটি পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল বন্ধ হয়ে আছে। সরকার বলছে, আমরা মিডিয়াবান্ধব, কোনো লাইসেন্স বাতিল করিনি। কিন্তু একের পর এক মিডিয়া কেন নিশ্চুপ হয়ে গেল এর কে উত্তর দেবে।

সরকার টকশোতে দুই একজন বক্তার কথায় ফুলের আঘাত পেলেও শিউরে ওঠে এবং প্রায়ই বলে থাকে এই টকশোগুলো বাজে এবং এদের বন্ধ করা উচিত। এতে মনে হয়, সরকার চাচ্ছে মহাভারতের ধৃত রাষ্ট্রের মহীষী গান্ধারির মতো বাংলাদেশের জনগণ পেটে খাক আর না খাক চোখে পট্টি বেঁধে শুধু বলতে থাকুক_ আহা বেশ বেশ। সরকার ট্রাইব্যুনাল করে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম নামের এক ব্যক্তিকে ৯০ বছরের জেল দিয়েছে। ওই ব্যক্তির বয়স নাকি ৯৩ বছর। তা হলে আর তিন বছর জেল বাড়িয়ে দিলেই ক্ষতি কি ছিল।

কিন্তু এই ট্রাইব্যুনালের বিচারে বাদী-আসামি কেউ সন্তুষ্ট নয়। এখন বাদী অর্থাৎ সরকার আপিল করছে এবং আসামিও আপিল করছেন বিষয়টি ঘোলাটে। সরকার যেটা অাঁচ করেছিল সেটার ওপর নির্ভর করে মহাভারত বর্ণিত গান্ধারি যেরূপ শত পুত্রের জন্ম দিয়ে রাজাকে, রাজত্বকে বিপদবিহীন করার চিন্তা করেছিলেন অনুরূপভাবে বর্তমান সরকারও রেসকোর্স মাঠ ও শাহবাগ মোড় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দিয়ে স্তাবকদের আহার, বাসস্থান এবং আনুষঙ্গিক সব কিছু ফ্রি করে বসিয়ে দিয়েছেন। মাঝে মাঝে তাদের পাহারাও দিতে হচ্ছে, যাতে অন্য কেউ না তাড়ে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

যত দুর্বল হোক না কেন মানুষের আর্তি সৃষ্টিকর্তার আরশ পর্যন্ত পেঁৗছায়। কোনো রাজনৈতিক দল নয়, কোনো ধর্মীয় সংগঠন নয়, কোনো ইজমের অনুসারী নয় সেই আমজনতা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে মুহূর্তের মধ্যে এবং তার আর্ত রব শাসকের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। যা সেদিন মতিঝিলের হেফাজতের মঞ্চের কাছে দেখা গিয়েছিল। কোনো সাংবাদিক বা টিভি মিডিয়ার কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। শত শত ফ্লাশ লাইটের ঘটনা জনগণের মুখে লাগাম, চোখে পট্টি তাই অন্ধকার রয়ে গেল।

শাসককে কেন তার উন্নয়ন বা সফল কর্মকাণ্ডকে দেখার জন্য আমন্ত্রণ করতে হবে। সামান্য ছিটেফোঁটা যা জানতে পারা যাবে, তা ভয়াবহ ও মর্মান্তিক এবং বিদেশে এর কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যা সরকারের দেখা উচিত। দুর্ভাগ্য এদেশের যে শিক্ষিত বা যাকে সবাই মানি এরা সব কিছুতেই তথ্য বা তত্ত্ব দেখে বেড়ান বা খোঁজেন। সাদা চোখে সাধারণভাবে যা দেখি বা শুনি এদের হাতে পড়লে তার প্রকাশ জটিলতর হয়।

কবিগুরু যেমন তত্ত্ব উপদেশ বাদ দিয়ে নিতান্তই সহজ সরল খুঁজেছেন সেভাবে আমরাও খুঁজছি অনন্তকাল ধরে। প্রতিনিয়তই প্রচার হচ্ছে টিভি মিডিয়াতে যে আমার দেশের শিক্ষার মান গুণগতভাবে অনেক উন্নত হয়েছে। অশিক্ষিত বা নিরক্ষর মানুষ দেশে এখন পাওয়া কঠিন।

সেদিন টিভির টকশোতে দেখছিলাম হেফাজতের আমির আল্লামা শফী সাহেব কি এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, মেয়েদের ক্লাস ফোর-ফাইভের বেশি পড়া উচিত নয়। টকশোওয়ালারা শফী সাহেবের কথা কিছু পুনঃপ্রচার দেখান।

তাতে বেশ কিছু রিঅ্যাকশন হয়েছে বলে মনে হয়। তবে শফী সাহেব যা বলেছেন তা সবটাই সত্য বা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তা শতভাগ অমূলক বলা চলে না হয়তো। তবে এ কথা জানতে হবে যে শফী সাহেব ধর্মচর্চা করেছেন এবং জনমানুষকে ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য তিনি ওয়াজ করে থাকেন গ্রামের সাধারণ মানুষের মতোন। তিনি তার বক্তব্য বাংলা ভাষাতত্ত্ব বা সুপাণ্ডিত্ব্যপূর্ণ শালীন পোশাকী রূপ নিয়ে আমাদের সামনে পেশ করতে পারেননি, হয়তো এরূপ তার কাছে আশা করাও যায় না।

তাই আমি মনে করি বিষয়টি তার মতামত, তার নিজস্ব। এ নিয়ে খুব একটা যে মাতামাতির প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু আমাদের সরকার চুপ থাকার কথা নয়, তাই এ বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা জাতীয় সংসদে হয়ে গেছে। তারই জের ধরে উক্ত টকশোতে একজন আন্তঃলেকচুয়াল মহোদয় নারী শিক্ষার ওপর বলতে গিয়ে ইউরোপের মধ্যযুগের রেনেসাঁর কথা, জার্মানির ব্রান্ডেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্টিন লুসারের ৯৯ পয়েন্টের চার্টারের কথা, ফরাসি ইতিহাসের জোয়ান অব আর্কের যুদ্ধ ও সংগ্রামের কথা বলেছেন।

তারপর টকশোতে আরেকজন উপস্থিত সম্মানিত নারী উপস্থাপিকা উচ্চশিক্ষা ও স্ত্রী শিক্ষার ওপরে জ্ঞানগর্ভ মন্তব্য এবং সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রশংসার সঙ্গে সঙ্গে হেফাজতের আমির আল্লামা শফী সাহেবের বিচারের দাবি আমাকেও উজ্জীবিত করেছে এবং আমার মনে হচ্ছে_ এটাও 'আহা বেশ বেশ'।

তবে পরমুহূর্তে আমি বেদনার্ত হয়েছি_ নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয় নিয়ে এত লন্ডন, প্যারিস ঘোরা কি প্রয়োজন ছিল। সেদিন বিবিসির এক ভাষ্যে পাকিস্তানের মালালার কথা শুনলাম এবং তার একলাইন বক্তৃতা শুনে অভিভূত হয়েছিলাম। জানা গেছে, মালালা ইউসুফজাই একটি কিশোরী বালিকা যে সোয়াতের একটি ছোট গ্রামে দরিদ্র পরিবারে জন্মেছিল এবং ছোটবেলা থেকেই সে জানার চেষ্টা করত। বাল্যকালে সে স্কুলগামী হয়। পাকিস্তানের তালেবানরা স্ত্রী শিক্ষা অনুমোদন করে না।

তাই মালালাকে স্কুলে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিল। কিন্তু মালালা সব কিছু উপেক্ষা করে স্ত্রী শিক্ষা বা জ্ঞান অর্জন করার জন্য অবিচল থেকে স্কুলে যেতে থাকে। ফলে তার মাথায় গুলি করা হয়। চিকিৎসার সুবিধা না হওয়ায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশে-বিদেশের বহু মানুষ, সংস্থা তার এ অসীম সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।

জাতিসংঘ শিক্ষাক্ষেত্রে এরূপ সাহসিকতাপূর্বক ভূমিকার জন্য দিবসটিকে মালালা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। পুরস্কার গ্রহণকালে তাকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করা হয়। এ কিশোরী অতি শালীনভাবে কথা বলতে ওঠে। তার মুখে-চোখে অতি সহজ-সরল অভিব্যক্তি দেখা যায়। কিন্তু হৃদয়ে সত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে সে দাঁড়িয়েছিল এবং এক লাইন কথা বলেছিল কয়েকটি শব্দ দিয়ে।

একটি শিশু, একজন শিক্ষক, একটি বই এবং একটি কলম দিয়ে সারা পৃথিবী পরিবর্তন করা যায়। শিক্ষার এই সর্বজনীন সারকথা এত সহজ-সরলভাবে বলা যায় এ আমি ধারণাও করতে পারিনি।

তাই তত্ত্ব উপাত্তের কানাগলিতে ঘুরপাক না খেয়ে সহজ সরল পথে চলা শ্রেয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয় আওয়ামী লীগের বিজয়ের যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উজ্জীবিত এবং হয়তো আওয়ামী লীগ ঘরানার সবাই আশাবাদী হয়েছেন। এতে ত্রুটি ধরার কিছু নেই, তিনি বয়সে নবীন তার আশাবাদের ভুবন দিগন্তপ্রসারী হতেই পারে, কিন্তু তার সূত্র ধরে আমাদের বিজ্ঞ অর্থমন্ত্রী মাথা নেড়ে সাপোর্ট করেন, তখন শঙ্কা লাগে।

কারণ বিগত সাড়ে চার বছরে অর্থনীতির যে বেহাল অবস্থা করেছেন তার বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় না। যা হোক সব মিলিয়ে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নির্বাচনের কথা ভাবা যেতে পারে।

আমাদের দেশে যারা বর্তমান সরকারের বিরোধিতা করছেন, বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে পরিপক্বতা রয়েছে বলে মনে হয়েছে। সারা দেশের মানুষ যখন সোচ্চার এবং সরকারবিরোধী এবং সরকার যখন অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে সে সময় নানা দাবি-দাওয়ার বোঝা তার ঘাড়ে না চাপিয়ে তাদের একটি সহজ পথে আসার জন্য তারা আহ্বান করেছেন এবং ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বলেছেন। সরকারের শেষ সময়ে আর বাড়াবাড়ি না করে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করাই শ্রেয় ও নির্বাচনে জয়ের আশাবাদকে বাস্তব রূপ দেওয়া কাম্য।

জনগণকে অন্ধ না বানিয়ে সমাধানের পথে আসুন।

লেখক : সাবেক প্রতিমন্ত্রী।

 

 

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.