আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

স্বাচ্ছন্দ্যের ট্রেন এখন আতঙ্কের বাহন

রেল দুর্বৃত্তদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না তাদের। ডাকাতি, ছিনতাইয়ের পর চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা, টানা-গামছা-মলম পার্টি, পকেটমার, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ট্রেনের বগিতে আগুন, রেললাইন উপড়ে ফেলা, চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে হত্যাসহ নানা অপকর্ম নিরাপদ এই বাহনটিকে আতঙ্কের বাহনে পরিণত করেছে।

রেলের নিরাপত্তার জন্য জিআরপি পুলিশ ও আরএনবি থাকলেও তারাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছেন না। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জিআরপি পুলিশের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০। অন্যদিকে রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী আরএনবির সদস্য সংখ্যা ২ হাজার ২৯০ জন। আরএনবি সদস্যরা ট্রেনে কোনো ডিউটি করেন না। তারা রেলের গুদাম ও রেলের নিজস্ব স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় কাজ করেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সারা দেশে রেলপথ আছে ৪ হাজার ৪৪৩ কিলোমিটার। আর জিআরপি ও আরএনবির মোট সদস্য সংখ্যা ৩ হাজার ৯৯০ জন। রেলের নিরাপত্তার জন্য কমলাপুর স্টেশন ছাড়া কোনো স্টেশনেই ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা নেই। কমলাপুরে যে কয়টি ক্যামেরা আছে সেগুলোও অকেজো হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে।

সূত্র জানায়, ট্রেনে ছিনতাই, পকেটমার, টানা পার্টি, গামছা পার্টির অন্যতম একটি বড় ঘাঁটি বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন। চিহ্নিত অপরাধীরা এই স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে নির্বিঘ্নে তাদের অপকর্ম সেরে চলন্ত ট্রেন থেকে নেমে পড়ে। এমনকি ছিনতাই শেষে চলন্ত ট্রেন থেকে যাত্রী ফেলে দিতেও দ্বিধা করে না। ট্রেন থেকে এভাবে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। অভিযোগ আছে বিমানবন্দর থানা, বিমানবন্দর পুলিশ বঙ্, বিমানবন্দর রেলওয়ের নিরাপত্তা শাখা ও বিমানবন্দর রেলওয়ে ফাঁড়ির কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসব অপরাধীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে নিরাপত্তা বাহিনী, রেলওয়ে পুলিশ, আনসারসহ রেল কর্মচারীরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের ভালোভাবে চেনেন। বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করার সুযোগে অনেকের সঙ্গে তাদের সখ্য সৃষ্টি হয়। এসব অপরাধীদের কাছ থেকে তারা নিয়মিত মাসোহারা পেয়ে থাকে।

রেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেল কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই রেলপথের অর্ধশতাধিক স্থানকে 'ডেঞ্জার পয়েন্ট' হিসেবে চিহ্নিক করে। সাম্প্রতিক সময়ে রেলে নাশকতা রোধে কমলাপুর রেলস্টেশনে নামানো হয় 'লাল বাহিনী'। কিন্তু এসব কোনো কিছুই কাজে আসছে না। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় রেলপথ ও ট্রেন। রেল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত এক মাসে এরকম ১০৪টি নাশকতার ঘটনায় রেলের ক্ষতি হয়েছে ১৪ কোটি টাকা।

শুধু ট্রেনের ভেতরেই নয় ট্রেনের বাইরে থেকেও দুর্বৃত্তরা হামলা করছে রেল যাত্রীদের ওপর। রেলের বিভিন্ন রুটের নির্দিষ্ট কিছু স্থান দিয়ে ট্রেন অতিক্রম করার সময় বাইরে থেকে ছুড়ে মারা হচ্ছে পাথর। এরকম পাথরের আঘাতে গত ১০ আগস্ট মারা যান প্রীতি দাস নামে এক মহিলা প্রকৌশলী। এর আগে ১৯৯৭ সালে দুর্বৃত্তদের ছুড়ে মারা পাথরের আঘাতে মারা যান এক জেলা নিবন্ধন কর্মকর্তা। জানা যায়, ঢাকা- চট্টগ্রাম রুটের তেজগাঁও থেকে গাজীপুরের টঙ্গী ব্রিজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে গঙ্গাসাগর, কুমিল্লার ময়নামতি থেকে কুমিল্লা রেলস্টেশন এবং চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত স্থানে পাথর ছুড়ে মারার ঘটনা বেশি ঘটছে। রেল পুলিশের ডিআইজি সোহরাব হোসেন জানান, সামাজিক ও জনসচেতনতা ছাড়া বাইরে থেকে ট্রেনের ভেতর পাথর ছুড়ে মারার ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়। তাই চিহ্নিত কিছু এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষ সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে।

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.