আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

চট্টগ্রামে সাধারণ ঘটনায় খুনের হার বাড়ছে!

চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমাগত হারে বাড়ছে খুনের প্রবণতা। কথাকাটাকাটি, হাতাহাতি, পারিবারিক কলহ, সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ কিংবা তুচ্ছ ঘটনায় একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটে চলেছে। সর্বশেষ ১১ দিনে ঘটেছে ১৯টি খুন! কখনো পিতার হাতে সন্তান, ভাইয়ের হাতে ভাই ও স্ত্রীর হাতে স্বামী বা স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হচ্ছে। ক্রমাগত হারে খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় 'সাধারণ অপরাধে' পরিণত হচ্ছে খুন! প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব হত্যাকাণ্ডকে চিহ্নিত করা হচ্ছে 'সামাজিক সমস্যা' হিসেবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আদর্শচ্যুত এবং পারিবারিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে খুনের প্রবণতা। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীতে গত এক মাসে ১৯টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ১১ দিনেই ১৬টি খুন হয়। এমনকি এক দিনেই হয় চার খুন। পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিংহভাগ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ছিল পারিবারিক কলহ, কথাকাটাকাটি, হাতাহাতি এবং সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের। যারাই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং যারা সংঘটিত করেছেন তাদের সিংহভাগেরই অতীত অপরাধের কোনো রেকর্ড ছিল না। খুনের শিকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রায় সবাই নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। সমাজবিজ্ঞানী ড. গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, পারিবারিক বন্ধন বিনষ্ট হওয়ায় এবং বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসনের কারণে মানুষ দিন দিন নীতি ও আদর্শ হীন হয়ে পড়ছেন।

যারা নীতি-আদর্শ হীন হয়ে পড়েছেন, তারাই পরিবারিক সেতুবন্ধনের কথা ভুলে খুনিতে পরিণত হচ্ছেন। এ সমস্যা উত্তরণের বিষয়ে তিনি বলেন, 'দেশীয় সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে। এ ছাড়া পাঠ্যবইয়ে সামাজিক মূল্যবোধ শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে।'

এ ব্যাপারে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) বনজ কুমার মজুমদার বলেন, 'সামাজিক সমস্যার কারণে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি সামাজিক সমস্যা হওয়ায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে অপরাধীরা শাস্তি পেলে অনেকাংশ কমে আসবে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড।'

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, 'মনস্তাত্তি্বক, পারিবারিক, শিশু বেড়ে ওঠার পরিবেশ এবং জেনেটিক কারণে মানুষের আচরণ দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণেই মূলত পারিবারিক হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।' এ সমস্যা থেকে উত্তরণের বিষয়ে তিনি বলেন, 'ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ এবং পারিবারিক সেতুবন্ধন তৈরি হলেই এ ধরনের হত্যাকাণ্ড রোধ করা সম্ভব হবে।'

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.