আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, গুলি

সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গতকাল রোববার ছাত্রলীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দুই পক্ষে গুলিবিনিময় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে এক সাংবাদিকসহ ছয়জন আহত হন।
ছাত্রলীগের সূত্র জানায়, কলেজের শিক্ষাপ্রকৌশল বিভাগের উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবির অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থকে কেন্দ্র থেকে বরখাস্ত করা হয়। এর পর কলেজের আধিপত্য নিতে পংকজ ও তাঁর সমর্থকেরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিতে গেলে জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরন মাহমুদের সমর্থকদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ শুরু।


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে পংকজ তাঁর সমর্থকদের নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। একই সময় কলেজের পার্শ্ববর্তী টিলাগড়ে সমর্থকদের নিয়ে হিরন মাহমুদ অবস্থান নেন। বেলা ১২টার দিকে হিরনের পক্ষের একদল কর্মী ‘ধর ধর’ বলে চিৎকার দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকে। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে পংকজের সমর্থকেরা গুলি চালায়। হিরন সমর্থকেরা পাল্টা গুলি চালালে দুই পক্ষে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় গুলিবিনিময় ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পংকজের পক্ষ ক্যাম্পাস থেকে চলে যায়। সংঘর্ষকালে উভয় পক্ষে পাঁচজন আহত হয়। এর মধ্যে ছাত্রলীগের কর্মী মিঠু তালুকদার, উজ্জ্বল, তুষারকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, দুই পক্ষে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ ও মহড়া দেওয়ার সময় সিলেট মহানগর পুলিশের শাহ পরান থানার একদল পুলিশসদস্য ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিল।

উভয় পক্ষের সমর্থকদের দোনলা বন্দুক থেকে প্রতিপক্ষকে গুলি করতে দেখা গেছে। এ সময় ছবি সংগ্রহ করতে গেলে প্রথম আলোর আলোকচিত্রী আনিস মাহমুদসহ একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদক ও চিত্রগ্রাহক ধাওয়ার মুখে পড়েন। অস্ত্রধারীরা একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদক ও চিত্রগ্রাহককে মারধর করে ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করে। ক্যামেরা উদ্ধার করতে গেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা ওই চ্যানেলের প্রতিবেদক আবদুল আহাদকে মারধর শুরু করে। পরে উপস্থিত কয়েকজন সংবাদকর্মী তাঁকে উদ্ধার করেন।


শাহ পরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী প্রথম আলোকে জানান, ক্যাম্পাসে তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের ২০-২৫ জন সদস্য অবস্থান করছিলেন। গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে। তবে কারা গুলি করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ছিলাম। সবকিছু একসঙ্গে করা সম্ভব না।


ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরন মাহমুদ অভিযোগ করেন, ‘বরখাস্ত হওয়া সাবেক সভাপতি পংকজ একদল সশস্ত্র বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। এ সময় ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধাওয়া করে তাঁদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ’
তবে পংকজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ক্যাম্পাসে তাঁর পক্ষের নিরীহ ছাত্রদের ওপর হিরনের সমর্থকেরা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ সময় তাদের হামলা ঠেকাতে গেলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। প্রতিপক্ষের লোকজনেরা বন্দুকসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র বহন করছিল।


সাংবাদিকদের প্রতিবাদী অবস্থান: দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার প্রতিবাদে বেলা দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত এমসি কলেজের মূল ফটকের সামনে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদী অবস্থান করেন সাংবাদিকেরা। এতে শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন। সাংবাদিকেরা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাহ পরান থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি করেন। বিকেল তিনটায় সাংবাদিকদের প্রতিবাদী অবস্থানস্থলে গিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার এজাজ আহমেদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। ।

সোর্স: http://www.prothom-alo.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.