আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সে ফিরে আসুক,প্লিজ ফিরে আসুক



কথা ছিল আমি তাকে কখনোই ফোন দেবনা। সে আমাকে মিসকল দিলেই কেবল আমি ব্যাক করবো। তবু দিন দিন সাহস বেড়ে যাচ্ছিল। সেও প্রশ্রয় দিচ্ছে। তবুও সব মিলিয়ে বছর দুয়েক আগের মতো ওতটা পাগলপারা এবার আর হইনি।

আমার প্রেম-উন্মাদনার জন্য তাকে অনেক কাফফারা দিতে হয়েছে। কোরআণ ছুয়ে শপথ করতে হয়েছে। মিথ্যা বিয়ের উপর আরেকটা ভন্ডামীর প্রলেপ পরানো হয়েছে। একটা নারী তো দূরের কথা একটা নারীকে ভেঙ্গে-চুরে,দুমড়ে মুচড়ে দেওয়ার তাদের এতটুকুও যথেষ্ঠ মনে হয়নি। তার আপাত সুখের বাসস্থান ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

আরো কত কী! আমার প্রতি তার বিতৃষ্ঞাও চরমে পৌছেছিল। যাই হোক,এবার দীর্ঘদিন ধরে তার সাথে কথা হচ্ছে। কোথাও কোন বাধা চোখে পড়েনি। আমাদের অনেক আনন্দ বেদনার সেই প্রথম দেখার দিনটি গতকাল ৫ ই মে আমরা একান্তে উদযাপন করেছি। জ্বরের অজুহাত দিয়ে আমি ছুটি নিয়েছি অফিস থেকে।

সে খুব ভোরে ঘুম থেকে জেগে গৃহস্থালী গোলামী সেরে আমার কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করেছে। অবশেষে আমি আর সে আমাদের গৃহকোন থেকে কাউকে না দেখে শুধু হৃদয়ের চোখ দিয়ে উপভোগ করেছি। মোবাইলের এপাশ-ওপাশ থেকে হাসি-কান্নার রোল নামিয়েছি। বুক ফেটেছে তবু মুখ ফুটিয়ে বলিনি,লাবণী অনেক কিছু তোমার করার ছিল। জানি তোমার রক্ত মাংস-এর গড়া এই শরীরে অনেক কষ্ট বহে গেছে।

পুরো গ্রামের লোক ছি ছি করতে করতে তোমায় বিষাদে ভরিয়ে দিয়েছে। শুধু আমার জন্য,আমার ভুলের জন্য। আমার অবাস্তব অর্জনের প্রচেষ্টার জন্য। তবু ও তুমি পারতে লাবণী,অনেক কিছুই পারতে। কিন্তু আমি বলিনা।

আমি চাইনা একটুখানি অভিমানে একদিনের জন্যও তোমার কন্ঠস্বর আমি মিস করি। আমি চাইনা একটুখানিও আর আমার জন্য তুমি বিমর্ষ হও। তবু হাস,প্রান খুলে হাস আর শুধু আমাকেই ভালবাস। আজ বৃহস্পতিবার। তাই তোমার আমার কথার সিডিউল পরিবর্তন হয়েছে।

কারন ঐ কুত্তার বাচ্চার আজ সিডিউল পরিবর্তন হয়েছে। তবু ঝুকিহীনভাবেই আমরা দুপুর বারোটার মধ্যেই কথা বলেছি। কিন্তু অফিসটাই যত ঝামেলা! কেন যে হঠাৎ কেটে দিলাম আর কেনই বা পুনরায় সাড়ে বারোটাই ফোন দিলাম। তুমি ফোন রিসিভ না করে কেটে দিলে। কই আর তো ফোন করলে না।

তবে হারামজাদা আছে? ভাবলাম,যদি তুমি আর আমিই থেকে যেতাম সেদিন তবে কি আমি অফিসের ফাকে ফাকে এই মধ্য দুপুর তোমাকে দিতে পারতাম? হ্যা,বেশ পারতাম। সমস্ত চাকরি বাকরি গোলামীকে লাথ্থি মেরে আমি তোমার আচলেই সারাক্ষন আশ্রয় নিতাম। আমার ভীষন মন খারাপ হলো। ধরা পড়োনিতো? দুপুরে আপা ফোন করল। এর মাঝেই একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন এল।

রিসিভ করার তাগিদ অনুভব করিনি। আপার সাথে কথা শেষ হলেই সেই নাম্বার থেকে আবার ফোন এল। হ্যালো বলতেই কেটে দিল। তবে কি আমি পুরুষ,এটা নিশ্চিত হল,কু্ত্তার বাচ্চার গোষ্ঠীরা। আবার এল।

রিসিভ করে চুপ থাকলাম। বয়স্ক একটি কন্ঠ বলল,শরীফ বলছেণ? --আপনি কে বলছেন? কাকে চাচ্ছেন? ---আমি দৈবজ্ঞহাটি থেকে পোস্ট মাস্টার মেজবাহ বলছি। পোষ্ট মাস্টার রহমান ভাইয়ের ফোন নম্বরটি মোবাইল চুরির সাথে সাথে হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু উনি তো আমাকে কখনো ফোন দিতেন না। মান্না নামের উনার একটা মেয়ে আছে।

মেয়ের নাম মান্না শুনে লাবণী খুব হাসতো। আমার সব চিঠি উনি লাবণীকে যত্ন করে পৌছে দিতেন। যেদিন লাবনীদের বাড়ির উঠানে মেম্বর,চেয়ারম্যান আর দৈনিক পূর্বান্ঝলের বুলু সাংবাদিক সালিশ বৈঠকে বসেছিল,যখন লাবনী বাথরুমের দরজা লাগিয়ে খুব চিৎকার করে অঝোর ধারায় কাদছিল আর আমাকে অভিশাপ দিচ্ছিল। আমি চাচ্ছিলাম তুমি একটু হলেও জানো আমি তোমার জন্য কিছু একটা করছি। কিন্তু কিছুই হলোনা! সালিশ হলো তোমার বাড়িতে,তোমার গ্রামের মানুষ তোমার নিন্দা করল আর সেই খানকির পুতের অপকর্মের কথা তার গ্রামের কেউ জানলনা।

সে ভালো মানুষের মুখোশ পরের বাড্ডার কোন এক স্কুলে বাচ্চাদের জ্ঞান বিতরন করছিল আর এলাকায় তো নিষ্পাপ ভদ্র লোক। হায় পৃথিবী তুমি কতে নিষ্ঠুর। আমি জানতাম না দুপক্ষের টাকা খাওয়ার জন্য বুলু সাংবাদিক পাগল হয়ে উঠেছিল। যাই হোক মান্নার আব্বাকে ফোনে রিকোয়েস্ট করেছিলাম,আপনি একটু যান। আমার আর কেউ নেই! পুরো বাংলাদেশ তো দূরের কথা সুদূর বাগেরহাটেও।

আমি সেই সালিশে লাবণী সব মিথ্যা স্বীকার করে যাবে,কারন পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করবে,তার পক্ষে দাড়ানোর মতো একটা মানুষও সেখানে নেই এমনকি জন্মদাত্রী মাতাও! জানিনা,পোষ্ট মাস্টার সাহেব গেছেন কিনা হয়তো তিনি যাননি কারন আমার আর লাবণীর জন্য তিনি আর কেন অহেতুক হুমকিতে থাকবেন? তিনি এতদিন পরে কেন আজ আমাকে ফোন দেবেন? কুত্তার বাচ্চারা জানতো ওনার সাথে আমার যোগাযোগ ছিল,তাই বুঝি উনার বেশ ধরেই শরীফের ফোন নম্বরটা তারা নিশ্চিত করছিল? আমি শরীফকে চিনি না বলেই রেখে দিলাম। মনটা ভীষন কাদছে লাবণী। আর কত ব্যথা নেবে তুমি? ভালোবাসা কেন এক কষ্টের? আমি তো তোমাকে ভুলে যেতে পারতাম। মজে যেতে পারতাম কোন নবীন কিশোরীরর তুলতুলে গালে। কিন্তু না পারিনা।

তোমার অদৃশ্য ছায়া আমারে পাহারা দেয়। শুদ্ধ করে দেয়। আমি তোমায় ভুলতে পারিনা। যেদিক তাকাই তুমি ছাড়া কাউকে দেখিনা। তুমি কি আর ফোন দেবেনা।

যদি তোমার মোবাইলটা আটক করা হয়। মোবাইলে কিভাবে ইন্টারনেটে গিয়ে ফেসবুকে ঢুকতে হয়। কিভাবে সেখানে রক্ষিত আমার ছবিগুলো দেখতে হয়,দীর্ঘ ছয় বছর পরস্পরকে লেখা আমাদের প্রানের চিঠিগুলো-যেগুলি তোমার মা তোমার সামনেই আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছিল-সেগুলো কিভাবে দেখতে হয়,তোমাকে দাবী করে যুগান্তরে আমার যে ইন্টাভিউ ছাপা হলো যা তোমাকে দেখানো হলো আমার ছবিটি কেটে,ছবিসহ সে হাহাকারটি কিভাবে ইন্টারনেটে দেখতে তা এ কদিনে আমি তোমাকে শিখিয়েছি। যদি মোবাইটি না থাকে তবে তো তাও তুমি হারিয়ে ফেলবে। প্লিজ ক্ষমা করো আমার চির জীবনের সাথী।

আমায় ক্ষমা করো। আমার সমস্ত আশংকাকে ধুলোয় উড়িয়ে দিয়ে আমার মোবাইলের পর্দায় ভেসে উঠুক তোমার রিংটন টি। প্লিজ খোদা সে ফিরে আসুক,যেন কিছুই হয়নি। ০৬/০৫/২০১০ ২.৪৫ দুপুর

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.