আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রাজপথে দুর্নীতি!!

অচেনার মাঝেও নিজেকে চেনার নিঁখুত অভিনয় করি

২০০৯ সালের জুন মাসের দ্বিতীয় দিন। ২ নং গেইট। সময় ৮.৪৫। বিপ্লব উদ্যানের গেটের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছি বন্ধু সুজন সহ। চা হকার দুটো ফ্ল্যাক্সে নিয়ে চা বিক্রী করছে।

এক ট্রাফিক পুলিশ এসে চা বানাতে বলল। রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। এজন্য হয়ত চা খেয়ে চাঙা হতে চায়। এসময় দেখি একটা সি এন জি আসে। দুজন যাত্রী নামে।

ট্রাফিক পুলিশটি সিএনজি টি দেখা মাত্র সেদিকে ছুটে যায়। ড্রাইভারকে কি যেন বের করতে বলে। দূর থেকে চা আলাকে বলে দেয় চা পরে বানাতে। একটু পর ট্রাফিক পুলিশটি সিএনজিতে উঠে বসে। সিএনজি ঘুরানো হয়।

৬/৭ মিটার পথ গিয়ে সিএনজি দাঁড়িয়ে যায় ঐপাড়ে। তা দেখে আমরাও রাস্তা পার হয়ে সিএনজির কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াই। ট্রাফিক পুলিশটি খুব আয়েশের সাথে সিএনজির বড় সিটটাতে বসা। বাহিরের কোন দিকে খেয়াল নেই ওনার। ড্রাইভারের সাথে কথা বলছে।

আশেপাশে চলাচলরত গাড়ি গুলোর প্রচন্ড শব্দে কথা গুলো আমরা বুঝতে পারি না। মোবাইল স্ক্রীণে দেখি ৯.০৭। অথ্যাৎ ট্রাফিক পুলিশটি রাস্তার ডিউটি বাদ দিয়ে ২০ মিনিট ধরে সিএনজিতে বসে আছে। চিন্তা করুন অবস্থা। সময় বয়ে চলে।

আমরাও নাছোড় বান্দা। কি হয় দেখেই যাবো। আরো কিছুক্ষণ পর সিএনজি ড্রাইভার তার পকেটে হাত দেয়। মানি ব্যাগ নেই। ভাজ করা কিছু টাকা বের করে আনে।

সেখান থেকে আলাদা করে কিছু টাকা। সেগুলো ডান হাতে নেয়। তারপর কুঁজো হয়ে ডান হাতটা নিচু করে হাটুসম উচ্চতায় ট্রাফিকের টাকা ধরিয়ে দেয়। টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে এরকম কৌশল সত্যিই দেখার মত। অতি আবছা আলোয় আমরা বুঝতে পারি না ট্রাফিক পুলিশটি সন্তুষ্ট হলো কিনা? ট্রাফিক পুলিশটি আগের জায়গায় ফিরে যায়।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চায়ে চুমুক দেয়। আমরা সিএনজি ড্রাইভারকে ডাক দিই। অল্পবয়সী। আমাদের মতই বয়স হবে। : ভাই তোমার দোষটা কি? জানায়, সিএনজি চট্টমেট্রোর লাইসেন্স করা না।

এজন্য শহরে ঢুকতে পারে না। কেস হলে ৭০০ কিংবা ২০০০ টাকার জরিমানার ব্যবস্থা আছে। এরকম ঘটনা রাস্তায় যারা চলাচল করে তাদের চোখে প্রায় সময়ই ধরা পড়ে। অতিউৎসাহীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে। প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না কাউকে।

কেননা যারা অপরাধ করছে তারা থাকে সরকারী পোশাকে। আর সরকারী পোশাকে থাকা ব্যক্তির কর্মকান্ডে বাধা দিলে তার যে কত মাশুল দিতে তা একটু বুদ্ধিমান হলেই বোঝা যায়। কতিপয় সার্জেন্টের ক্ষেত্রে সামান্য লজ্জাবোধ কাজ করে। ঐসব সার্জেন্টরা ওয়ারলেসটা বুক পকেটে রাখে। ওয়ারলেসের পিছে নামটা উল্টোভাবে লেপ্টে থাকে।

যার কারণে নাম দেখা যায় না। এভাবে ওয়ারলেস দিয়ে নাম যদি আড়াল করতেই হয় তাহলে নেম প্লেট আর কিজন্য লাগানো? তা আমার মাথায় ঢুকে না। সচরাচর রাস্তায় এরকম দুর্নীতি ঘটে বলে তা আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে। আমরাও অভ্যস্ত চোখে দেখি। আর বার বার দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ান তকমাটা আমাদের কপালে নিজেরাই যতœ করে লেপন করি।

দুর্নীতি দমণ কমিশন হয়েছে অথচ কোন দুর্নীতিবাজ ট্রাফিক সার্জেন্টকে সেখানে হাজির করার নজির নেই। জনগণ জেনে গেছে ওরা দুর্নীতি করলেও শাস্তি পাবে না। তাই কেউ আর এ বিষয়ে নাক গলায় না। কি দরকার নাক গলিয়ে ঝামেলায় পড়ার। এ নির্লজ্জ অবস্থার পরিবর্তন যদি আমরা করতে না পারি, দিনের আলোতে প্রকাশ্যে যদি রাজপথে এভাবে দিনের পর দিন দুর্নীতি চলে তাহলে ভবিষ্যত যে প্রজন্ম আসবে তারা কিভাবে দেশটাকে আলোকিত করবে? অযথা দিন বদলের কথা বলে লাভটা কি? সরকারের কাছে আবেদন মিডিয়ার সামনে বড় বড় কথা না বলে দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দিয়ে দেখান।

তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। জনগণকে স্বপ্ন দেখাতে হবে না। বাঙালীরা এম্নেই স্বপ্নবাজ। কাজ করে দেখান। কাজ করে দেখান।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।