আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মুমিন ও কাফিরের দৃষ্টিতে দুনিয়া-

দুনিয়ার জীবনে মুমিন ব্যক্তি স্বাধীন নয়। সে দুনিয়াতে মূলত জেলখানার কয়েদীর ন্যায়। অর্থাৎ জেল কোডের বাইরে কয়েদীর যেমন কিছু চাওয়া কিংবা বেশী কিছু পাওয়া কোনটাই সম্ভব নয়, দুনিয়াতে একজন মুমিনও তদ্রুপ। বন্দী জেলখানায় নিজ ইচ্ছা ও বাসনা-কামনা অনুসারে কোন কাজই করতে পারে না। বরং ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক প্রত্যেকটি কাজ তাকে করতে হয় নিজের ইচ্ছাকে বলি দিয়ে।

কুরআন মাজীদও তাই বলে: “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থাকে না”। (সূরা আহযাব : ৩৬) আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দীন কায়েমের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন নবী-রাসূলকে জেল-যুলুমের শিকার হতে হয়েছে। হযরত ইউসুফ (আ.)-এর কারাবাস, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর তিন বছর শিআবে আবু তালিবে বন্দী জীবন ইসলামের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এছাড়াও দীনের পতাকাবাহী অসংখ্য ইমাম, মুজতাহিদ ও মুজাদ্দিদকে তদানীন্তন স্বৈরাচারী শাসকের জেলে অবরুদ্ধ জীবন-যাপন করতে হয়েছে। ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালিক, ইমাম আহমাদ, মুজাদ্দিদে আলফেসানী (র.) তাঁদের অন্যতম।

এযুগেও পৃথিবীর বহু দেশে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বিনাবিচারে কারাবাস করেছেন। উপমহাদেশেও এ দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে, কাফির পৃথিবীতে অবাধ স্বাধীন জীবন-যাপন করে। তাঁকে আল্লাহর বিধানের পরোয়া করতে হয় না। কারণ সে তো আখিরাতের জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে না।

মুমিন ব্যক্তি যেমন জান্নাতে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করবে, কাফির দুনিয়াতেই সেই স্বাধীনতা ভোগ করে। অপরদিকে মুমিন জান্নাতে যেমন অবাধ জীবন যাপন করবে দুনিয়ার জীবন তাদের তদনুরূপ স্বাধীন নয়। বরং তাকে আল্লাহ প্রদত্ত ও মহানবী (সা.) প্রদর্শিত বিধান আবশ্যিকভাবে মেনে চলতে হয়। কুরআন মাজীদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: “কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার ভার তোমার উপর অর্পণ না করে, অত:পর তোমার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বন্তকরণে তা মেনে নেয়”। (সূরা নিসা: ৬৫) মহানবী (সা.) বলেছেন: “দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা আর কাফিরের জন্য স্বর্গ”।

(তিরমিযী) অপর এক হাদীসে আছে: “মুমিন ব্যক্তি তার গুনাহ সম্পর্কে এত ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে যে, সে মনে করে যেন কোন পাহাড়ের পাদদেশে বসে আছে এবং প্রতিটি মুহূর্তে সে এই ভয় করে, পাহাড় তার উপর ভেঙে পড়তে পারে। কিন্তু আল্লাহদ্রোহী পাপিষ্ট লোক গুনাহকে মনে করে একটি মাছির মত যা তার নাকের ডগার উপর দিয়ে উড়ে গেছে (এবং সে তাকে হাত দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে)। এই বলে হাদীস বর্ণনাকারী নাকের উপর হাত দ্বারা ইশারা করলেন”। (বুখারী) অতএব বলা যায়, মুমিন ব্যক্তি দুনিয়ায় আদৌ অবাধ-মুক্ত ও স্বাধীন নয় বরং আল্লাহর বিধানের শেকলে শক্তভাবে বাধা। কোন অবস্থায় তার আল্লাহর বিধানের বাইরে থাকার সুযোগ নেই।

তাই মুমিন ব্যক্তিকে দীনের উপর অবিচল থাকতে গিয়ে সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হয়। ইসলামের ইতিহাসে এরূপ অসংখ্য বর্ণনা পাওয়া যায়। কাজেই মুমিন ও কাফিরের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.