আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আপিল করলেন রবিন-রুবেল

বিপিএল ফিক্সিং  অভিযুক্তদের আপিল করার শেষ দিন। তাই গতকাল সকাল থেকেই ক্রিকেট বোর্ডে সাংবাদিকদের ভিড়। ফটো সাংবাদিকরা ক্যামেরা হাতে প্রস্তুত। কখন অভিযুক্ত ক্রিকেটার ও তাদের আইনজীবীরা আসেন। দুপুর গড়িয়ে যায় কিন্তু অপেক্ষার পালা শেষ হয় না।

কে কে আপিল করছেন তাও জানা যাচ্ছিল না। অবশেষে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিসিবি কার্যালয়ে আসেন মোশারফ হোসেন রুবেল ও মাহবুবুল আলম রবিনের দুই আইজীবী ব্যারিস্টার নুর-উজ-জামান সাদিক ও সাইফুজ্জামান তুহিন। জানালেন, উদীয়মান দুই ক্রিকেটারকে নির্দোষ প্রমাণ করতে তারা আপিল করেছেন। দুই জনই এক সঙ্গে কাজ করছেন। তারা দুটি আবেদন করেন একটি বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের বরাবর, আরেকটি অ্যান্টি করাপসন প্যানেলের কাছে।

দুই আইনজীবী সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হয়েছিলেন। বিস্তারিত কিছু না বললেও দুই ক্রিকেটারকেই নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।

ব্যারিস্টার নুর-উজ-জামান সাদিক বলেন, 'মাহবুবুল আলম রবিন ও মোশারফ হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। একেবারেই মনগড়া অভিযোগ। যেহেতু এটা বিচারিক বিষয় তাই আগেই আমরা বিস্তারিত কিছু বলছি না।

তবে পরে আপনাদেরকে বিস্তারিত জানাব। ' তিনি বলেন, 'তারা দুইজনই নির্দোষ। আমরা পুরো ব্যাপারটি জেনেছি। আমার কাছে ভিত্তিহীন মনে হয়েছে। আকসু কিংবা আইসিসির এ বিষয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার নেই বলে আমি মনে করি।

'

ব্যারিস্টার সাইফুজ্জামান তুহিন বলেন, 'অভিযোগগুলো সাধারণ মানুষ দেখলেও বুঝতে পারবে যে এগুলো ভিত্তিহীন। এখানে আমরা দেখব এই ক্রিকেটারদের জড়ানোর ব্যাপারে কোনো ষড়যন্ত্র হয়েছে কিনা। দুজনেই উদীয়মান ক্রিকেটার। তাদের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তাদের বিষয়ে বিসিবি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চিন্তা-ভাবনা করবে বলে আমি মনে করি।

তাছাড়া আমরা দেখেছি দেশের বাইরেও এমন অনেক ঘটনা ঘটে। কিন্তু আগে থেকেই ক্রিকেটারদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয় না। তাই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেও আবেদন করেছি। ' দুই আইনজীবীই জোর দিয়ে বলেছেন, তারা আত্মবিশ্বাসী দুই ক্রিকেটারই নির্দোষ। এর আগে রবিন ও রুবেল মিডিয়ার কাছে বলেছেন, তারা নির্দোষ।

বিপিএল ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অপরাধে মোট নয়জনকে অভিযুক্ত করে গত ১৩ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে আইসিসির নিরাপত্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশন (আকসু)। অভিযুক্তদের মধ্যে ছয়জনই বাংলাদেশি। রবিন-রুবেল ছাড়াও রয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল, মোহাম্মদ রফিক, ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিক সেলিম চৌধুরী ও তার ছেলে শিহাব চৌধুরী। এর মধ্যে মোহাম্মদ রফিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দুর্নীতির বিষয়টি জেনেও কর্তৃপক্ষকে না জানানোর জন্য। বাকি পাঁচজন সরাসরি ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে আকসু।

১৪ দিনের মধ্যে অভিযোগ খণ্ডানোর জন্য আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। গতকাল শেষ দিনে রবিন ও রুবেল ছাড়া বাকিরা কেউ আর আপিল করেনি।

মোহাম্মদ আশরাফুল আগেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তারপরেও আপিল করার কথা ছিল তার। কিন্তু গতকাল শেষ দিনেও তিনি আপিল করেননি।

কেন আপিল করেননি তা জানার জন্য আশরাফুলের মোবাইলে বার বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোহাম্মদ রফিকও তার মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছিলেন। আর সেলিম চৌধুরী তো আগেই বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করবেন।

প্রসঙ্গত, সরাসরি ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাঁচ বছর থেকে আজীবন নিষিদ্ধ এবং ফিক্সিংয়ের বিষয়টি জেনে চুপ করে থাকার জন্য এক বছর থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধের সুপারিশ করছে আকসু। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের।

 

 

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।