আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ডলারের দিন শেষ! বলে কি??

গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম--@জিপিএস

হ্যাঁ, বেশ জোরেশোরেই এই আওয়াজটা উঠছে। কথা যদিও শুরু হয়েছিল আগেই, তেমন একটা জোর পায় নাই। বিষয়টাও রাজনৈতিক ক্ষমতার টানাপোড়েনের বাইরে তেমন একটা ফোকাস পায় নাই বা তৈরি হয় নাই। মাঝে সাদ্দাম হোসেনের ডলারের বাইরে আসার চেষ্টাকে কেবল মার্কিন বিরোধিতা বলে অনেকে দায় সেরেছেন। বিরোধিতা ছিল বৈকি, তবে আরো একটু বেশি কিছু ছিল।

সাদ্দামের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা না থাকুক দূরদৃষ্টি যে ছিল সেটা হাতেনাতে প্রমাণিত। তিনি ডলার সাম্রাজ্যের বুকে প্রথম আঘাতকারীই নয় পতনেরও প্রথম ইঙ্গিত দাতা। সে ইতিহাস একদিন নিশ্চয় আলোচিত হবে। তবে আজ আমাদের প্রধান আলোচ্যসূচি অন্যত্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন চিপায় ইওরোপ সহ উন্নত অর্থনৈতিক শক্তির দেশ বলে বিবেচিত রাষ্ট্রসমূহ পড়েছিল যে বাধ্য হয়ে মার্কিন মোড়লের হাতে প্রায় নিজেদের সকল আর্থিক নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থাকে বন্ধক দিতে হয়েছিল।

পরে আস্তে আস্তে করে তা একটু কমেছে বা বেড়েছে। সাকুল্যে সবাইকেই তাদের কারেন্সির অধীনতা মেনে নিতে হয়েছে। শুরুতে যদিও কিছু নিয়ম-কানুনের দোহাই ছিল। পরে আমেরিকা অন্যদের কলা দেখিয়ে তাও আর মানেনি। কারো বিশেষ করার কিছু ছিলনা।

সেই থেকে ভৌতিক মুদ্রা হিসেবে ডলারের একক দাপট। যাকে তারা বলে পেপার কারেন্সি-- যার পিছনের ফেডারেল রির্জাভ ব্যাঙ্কের সমপরিমাণ সোনা রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা নাই। এ এক অদ্ভূত মুদ্রা যার মানদন্ড আমেরিকার খেয়ালখুশি। টোটাল ফিকশন। তাই চলতেছিল সমানে, বছরের পর বছর।

কাগজ ছাপানোর ব্যবসা। সম্পদ আছে কিনা সেই হিসাব দেবার বালাই নাই। চলতে কেন পারলো? সে বহু ফিরিস্তি দেবার মামলা। শুধ একটা উদাহরণ দিলে প্রধান একটা দিকের কিছুটা আন্দাজ পাওয়া যাবে। যেমন চীনাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা নিজের কারখানার মাল বেচাবিক্রি নিশ্চিত করার জন্য ভোক্তা হিসেবে আমেরিকাকে দরকার।

আর আমেরিকা আরামে কাগজ ছাপায়া, সরকারী বন্ড বেইচা, সেইটাও আবার চীনাগো কাছে, সেই জিনিষ কিনা গেল। দুই জনেরই কাম সারলো। মজার লেনদেন। কিন্তু এই মজা তো বেশিদিন চলতে পারে না। এও পুজির আরেক ডাইলেমা।

বেচাও লাগবো আবার মূল্যও উসুল করতে হবে। এখন সবই হইতেছিল ডলারে। অর্থাৎ চীনাদের সম্পদ বলে যা কিছু তৈয়ার হইতেছে তা আসলে ডলার। এই এক অসামান্য তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার জন্ম। মাল চীনাদের কিন্তু মালিকানা আমেরিকার।

এখন সেই ফেরকায় পইড়া তারা নিজ দায়িত্বে ডলার রক্ষার যুদ্ধ কইরা আসছে সমান তালে আমেরিকার লগে। উপায় নাই, ছিলো না। এইবার অর্থনৈতিক ধ্বসের পর আর আর দেশেরও সমস্যাটা যখন প্রকট রূপ নিয়েছে এটারে মোক্ষম সময়ে সমাধা করার মওকা কোনোভাবেই কেউ হারাইতে চাইতেছে না। মুল মাজেজা হইল এখানে। তাই চারদিক থেকে আমেরিকার বন্ধু কইমা যাইতেছে।

কে আর এই চক্করে পইড়া থাকতে চায়?? তয় কিনা, জাপান আর মধ্যপ্রাচ্যের মতো অতিশয় অনুগত রাষ্ট্রগুলাও ব্রাজিলের মতো তাজা রক্ত নিয়া তড়পাইতেছে...। এও দেখতে হইবো আমেরিকারে! চীন, রাশিয়া তো আছেই লগে ভারতও চামে ভিড়া গেছে। ব্যাপারটা আর মামুলি রাজনৈতিক মুলামুলিতে নাই। অর্থনৈতিক ক্ষমতার আমূল পুর্নবিন্যাসের দিকে ধাবিত হইতেছে। যথারীতি পূজিঁর নিজস্ব নিয়মে।

কিন্তু কি দাঁড়াবে এখান থেকে? সার্বিকভাবে কি আকার নিতে যাচ্ছে আগামী দিনের দুনিয়া? আমাদের অবস্থান কী হবে?? এখানে কিছু লিংক দিলাম, হালচাল বোঝার জন্য। The demise of the dollar(Click This Link) The end of the dollar spells the rise of a new order(Click This Link) China will overtake America, the only question is when(Click This Link)

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.