আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

চাঁদে পানি, হয়ত আছে প্রাণও



চল্লিশ বছর আগে বিজ্ঞানী নীল আর্মস্ট্রং প্রথম চাঁদের বুকে পা রেখেছিলেন৷ মহাকাশ থেকে তিনি নিয়ে এসেছিলেন চাঁদের নানা তথ্য৷ তারপর ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা চাঁদের বুকে পা রাখেন৷ তিনি বয়ে এনেছিলেন চাঁদের মাটি৷ এবার চন্দ্রযান নিয়ে এল চাঁদের বুকে জলের অস্তিত্বের খবর৷ ইসরোর বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের প্রয়াসকে সার্থক করে চন্দ্রযান চাঁদে পানির খোঁজ করেছে৷ চন্দ্রযানের এই সফলতা মহাকাশবিজ্ঞানের জগতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে৷ পানি থাকা মানে সেখানে নিশ্চয়ই প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে৷ ইসরোর বিজ্ঞানীরাও সেই অনুমানই করছেন৷ তবে চাঁদে যদি কোন প্রাণী থাকে তাহলে তার হাঁটা-চলা বা ওড়ার কোন শক্তি থাকবে না৷ কারণ চাঁদে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নেই৷ সেখানে যে প্রাণীই থাকবে তাকে ভেসে থাকতে হবে৷ আসা যাক ইসরোর এই সফলতার প্রশ্নে৷ দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা প্রয়াস চালাচ্ছিলেন চাঁদ সংক্রান্ত নতুন তথ্য আবিষ্কার করার জন্য৷ তবে ইসরোকে এই ব্যাপারে সর্বতোভাবে সাহায্য করেছে নাসা৷ চন্দ্রযান তার মিশনে সফল হবার পরে এই খবরটি নাসাই প্রথম মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করে৷ চন্দ্রযানের পেছনে ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল৷ ভারতের মত দেশের পক্ষে এটা কোন সহজ ব্যাপার ছিল না৷ অতি সন্তর্পনেই চাঁদে এই স্পেসক্রাফ্টটাকে পাঠানো হয়৷ তবে চন্দ্রযানের অভিযানটি সফল হওয়ার সঙ্গে এই ব্যয় সর্বোপরি স্বার্থক হয়েছে বলা যায়৷ চাঁদে যে পানি আছে তার প্রথম প্রমাণ ইসরোর বিজ্ঞানীরা পেয়েছিলেন ব্যাঙ্গালুরুতে৷ হাইপর স্পেক্ট্রাল বিজ্ঞানীদের চাঁদে গামা রে এবং স্পেক্টোমিটারের সন্ধান দিয়েছে৷ মুন মেনরোলজি যখন চাঁদের উত্তর-দক্ষিণ প্রান্তের স্ক্যানিং পাঠায় তখন বৈজ্ঞানিকরাও সেই স্ক্যানিং দেখে আশ্চর্য হয়ে যান৷ এরপর নাসা এবং ইসরোর বিজ্ঞানীরা মিলে এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন৷ নাসার কিছু পুরোনো মিশনের তথ্য খুঁজে বার করা হয়৷ এর আগে নাসার মিশন 'কসিনি' শনি গ্রহের পথে চাঁদের কিছু ঝলক পাঠিয়েছিল৷ তার মধ্যে চাঁদে হাইড্রোজেনের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল৷ তার আগে নাসার ' ডিপ ইম্পেক্ট' চাঁদের যে ছবি পাঠিয়েছিল তাতে হাইড্রোজেনের উপস্থিতির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল৷ চন্দ্রযান পাঠানোর আগে বিজ্ঞানীরা এইসব পুরোনো তথ্যগুলোকে নেড়েচেড়ে দেখেন৷ তারপরেই চন্দ্রযানকে পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন৷ চন্দ্রযান চাঁদ সংক্রান্ত অনেক অজানা তথ্য বার করতে সফল হয়েছে৷ চন্দ্রযানের আবিষ্কৃত তথ্য অনুয়ায়ী চাঁদে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন মিলে পানির সৃষ্টি করেছে৷ চাঁদের উত্তর-দক্ষিণ প্রান্ত যা সব সময় অন্ধকারে ঘেরা থাকে সেখানেই রয়েছে পানি৷ চন্দ্রযান-১ এর সফলতার পরে ইসরোর বিজ্ঞানীরা চন্দ্রযান-২ এর মিশনকে সফল করার কাজে জুটেছেন৷ চন্দ্রযান-২ এর সঙ্গে বিজ্ঞানীরা একটা রোবোটিক রোবার পাঠাবেন যা চাঁদে জলের গভীরতার পরিমাণ জানতে সাহায্য করবে৷ চন্দ্রযান-২ হয়ত চাঁদ সংক্রান্ত আরও অজানা তথ্যের সন্ধান নিয়ে আসবে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।