আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সেলুকাস! গুলশানে লুঙ্গি পড়ে ঢোকা যাবে না!

যখন বিকাল হতে থাকে, হতে হতে সূর্যটা ঢলে পড়ে, পড়তে থাকে

মহাখালী-গুলশানের মধ্যে যে ব্রীজটা রয়েছে সেখানে সবসময় একটা চেকপোস্ট থাকে। কখনও পুলিশ, কখনও বিডিআর পাহারা দেয়। সিএনজিওয়ালাকে ধরলো লুঙ্গি পরিহিত বলে। আমার হাতে সময় নেই, তারউপরে জাতিয় পোষাক লুঙ্গি নিয়ে বিডিআর এর গোয়ার্তুমি দেখে নামলাম। একটা বক্স-টাইপের ঘরের মধ্যে অফিসার বসে আছে।

ড্রাইভারের গেঞ্জি ধরে টেনে নিয়ে গেল। মোটামুটি ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করলাম, লুঙ্গি পড়ে সিএনজি চালানো যাবে না কেন? অফিসার মুখ না তুলে জবাব দিলেন, আইন! বললাম, আপনি কি জানেন, লুঙ্গি আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক? গুলশানে ড্রাইভাররা পড়তে পারবে না! মুখ তুলে বললেন। বললাম, আশ্চর্য্য! কি পোষাক পড়ে সিএনজি চালানো যাবে আর যাবে না - এমন কোন নিয়ম তো থাকতে পারে না! দ্যাখেন ভাই, আমাদের অর্ডার আছে, লুঙ্গি পড়ে যেন না ঢুকতে পারে! কি করবো? এবার একটু নমনীয় শোনা গেল অফিসারের গলা। আমি নাছোড়বান্দা। বললাম, এদেশের কত ভাগ মানুষ লুঙ্গি পড়ে আপনি জানেন? খুঁজে দেখেন গুলশানের ৯৯ জন পুরুষ লুঙ্গি ছাড়া ঘুমাতে পারে না।

আপনি কি লুঙ্গি পড়েন না? লোকটা এবার একটু হেসে দিল। ভাই আপনি তো বিপদে ফেলে দিলেন! আমিও বেশ হাসিহাসি মুখ করে বললাম, আসেন চা খেতে খেতে গল্প করি। সে হাক দিলো, একটা চেয়ার দেখিয়ে বসতে বললো। আমার হাতে সময় নাই, তারপরেও মনে হলো লুঙ্গিকে অসম্মানিত হতে দেয়া যায় না। বললাম, আপনার বাবার যদি গুলশানে বাড়ি থাকতো, তিনি কি লুঙ্গি পড়তো না? লোকটা এবার একদম ইজি হয়ে গেলো।

বিডিআর এর সেপাইটাকে বললো, এ-ই, ড্রাইভারকে ছেড়ে দে! আমার দিকে তাকিয়ে বললো, কি করবো বলেন, এমন সব আজগুবি নিয়মনীতি মাঝেমাঝে পালন করতে হয় মেজাজ গরম হয়ে যায়।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।