আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রাহেলা : তোমার জন্য আরেকবার কষ্ট

প্রথমেই আমি তাকে যাদু করতাম
২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জঙ্গল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাহেলাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের ২৩ দিন পর চিকিৎসাধীন বস্থায় সে মারা যায়। মৃত্যুর আগে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সে মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দেয়। রাহেলা একজন মানুষ ছিল । আন্দাজ করতে বেশী দুরে যেতে হয় না আট দশটা সেলাই কন্যার মত তাকে বেঁচে থাকার জন্য, মাত্র শ'পাঁচেক টাকার জন্য যন্ত্রের মত আঠারো ঘন্টা কাজ করতে হত ।

ক্লান্ত শরীরে মধ্যরাতের শিফট শেষে পায়ে হেটে বাড়ি ফিরতে হত । শহুরে ভ্যালেন্টাইন বা শেরাটনি একত্রিশ পালনের মত বিনোদন রাহেলাদের থাকে না । ২০০৪ সালের ২৯ আগস্ট হরতালের দিন রাহেলা তার এক বান্ধবীকে নিয়ে সাভার সেনানিবাসের চিড়িয়াখানা দেখতে যায়। রাহেলা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ব বিদ্যালয় এলাকা দিয়ে হেঁটে বাড়িতে ফিরছিল। এমন সময় লিটন, কবির, দেলোয়ার ও ফজলুল হক ওরফে ফজর আলী ওরফে ফজা তার পথ রোধ করে টেনে হিঁচড়ে ধর্ষণ করে।

এরপর রাহেলার শ্বাসনালী ধারালো ছুরি দিয়ে কর্তন করা হয় । এসিড ঢেলে শরীরের চামড়া পুড়িয়ে দেয়া হয় । যারা দিয়েছিল তারা তারই এক সময়কার সহকর্মী । কিন্তু রাহেলা হয়তো তারপরও বেঁচে থাকতে চেয়েছিল । ২৯ শে আগষ্ট থেকে পর পর তিনটি দিন খাদ্যজল বিহীন অবস্হায় রোদবৃষ্টিতে শুধু নিশ্বাস কে সম্বল করে টিকে ছিল রাহেলা ।

১ তারিখ সেই লিটনেরা ফিরে আসে লাশের গা থেকে নাককানের দুই চিমটি সোনার লোভে । ফিরে যাবার আগে সারা গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় । আমার চোখের সামনে ভাসে আগুনে পুড়তে থাকা চর্বির বিভত্‍স শব্দে একটি মানুষের করুণ শব্দ । বনের একটি পশুও কখনো এমন মৃত্যু দেখেনা । কী দরকার ছিল রাহেলার তার পরও বেঁচে থাকার? কেনই বা এমন নিশ্চিত মৃত মানুষটি আরই তেইশটি দিন সভ্যতার মুখে থুতু দিয়ে শুয়ে থাকলো ঢাকা মেডিকেলে হাসপাতালের বিছানায়? হয়তো মৃত্যুর আগে দেয়া জবান বন্দীটি রেখে গেল কিছু বিবেকবান মানুষের জন্য ।

গতকাল তার ঘাতকদের মাত্র একজন লিটন প্রচলিত আইনে মৃত্যুদন্ড পেয়েছে । লিটন পলাতক। কবির, দেলোয়ার ও ফজর আলী আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে গেছে বেকসুর হয়ে । তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (স্পেশাল পিপি) অ্যাডভোকেট আবদুল কাইয়ুম রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন।

তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে লিটনের সহযোগী যারা রাহেলার মৃত্যু নিশ্চিত করতে গাঁয়ে আগুন দিয়েছিল, তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এদেশে রায় কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত কোন কোন কিছুর নিশ্চয়তা নেই । মৃত্যুদন্ড কার্যকর হলেও রাহেলার কষ্টের সামান্যতম লিটন পাবেনা । রাহেলা আমাদের বিবেক কে প্রচন্ড ভাবে দগ্ধ করে । শুধু বারবার মনে হয় কী করলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না ।

[সুত্র: Click This Link Click This Link ]
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.