আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

'মানুষ থুইয়া খোদা ভজো, এ মণ্ত্রণা কে দিয়াছে?//মানুষ ভজো কোরান খোঁজ, পাতায় পাতায় সাক্ষী আছে''- জালাল খাঁ



'আল্লাহ তোমার সবচে নিকটবর্তী শিরার চেয়েও নিকটে অবস্থান করেন' আজ বাউল সম্রাট লালনশাহের প্রয়ান দিবস। ছেঁউড়িয়া আখরায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। আজ এই খবর শুনে খুব মন খারাপ হলো যে সম্মানীত হজ্জযাত্রীদের দেলে যেন আঘাত না-লাগে তাই বিমানবন্দরের সামনে থেকে বাউল মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাই জালাল খাঁর স্মরণ নিয়ে লিখতে বসেছি। মনে প্রশ্ন জাগছে, পয়লা কার্তিকে বাউল মূর্তি সরিয়ে ফেলার বিষয়টা কি প্রতীকি? আমার মনে ঘোর লাগছে, সন্দেহ জন্মাচ্ছে।

মনে হচ্ছে, হাজীদের 'আহত না-করাটা' দোহায় মাত্র। তলে আরও বড় আয়োজন চলছে। মনে হচ্ছে এদেশের ভাবমূর্তি ও ইসলামকে খাটো করার আয়োজন সম্পন্ন হয়ে এলো প্রায়। এসবের মাধ্যমে এদেশবাসী ও ইসলামের কোনো লাভ হবে না- লাভ হবে অন্য কারো...যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন- জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং জঙ্গী ইসলামপন্থী দলগুলো, যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করেন- ভিখারী, মোল্লা, মোয়াজ্জিন, মাদ্রাসা,যারা ঝরফুক তাবিজকবচ করেন, এবং যারা এদেশে ইসলামী জঙ্গীপনা জাগিয়ে তুলে ইরাক, আফগানিস্থানের মতো দখলিসত্ব কায়েম করতে চায়...তারাই লাভবান হবেন। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুয়ের জন্য সেটা সর্বার্থেই অশনি শঙ্কেতের মতো।

আল্লাহ তো আমার-আপনার কিংবা একজন হাজীর নিকটবর্তী ধমনীর চেয়েও নিকটে অবস্থান করেন। তাহলে আর মূর্তি নিয়ে ভয় কেন? না-সরালে কি আল্লাহর মহীমা ক্ষুন্ন হবে বা ইসলাম বিপন্ন হবে? না তা হবে না। ইসলাম এবং আল্লাহ এতো টুনকো নয়---খাঁটি মুসলমানেরা সেকথা জানের। তবে নিশ্চয় বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠী আহত হবে। আর তাছারা অন্যভাবেও যদি দেখি, বিমান বন্দরের সামনে থেকে না-হয় মূর্তি সরানো হলো ধর্ম রক্ষার্থে, মনের মূর্তি কে সরাবে? ঘরে ঘরে টেলিভিশন চলছে, রাস্তায় বেরোলে বিলবোর্ড-বিজ্ঞাপন...আমাদের কল্পনায় গড়া ধ্বনিমূর্তি, ভাবমূর্তি...এতো এতো মূতি কীভাবে সরাবেন তারা, কীভাবেই বা ধর্ম রক্ষা করবেন!! তাই, মূর্তি সরানোর মাধ্যমে তারা 'ছোট' বা 'বড়' কোনো জিহাদেই জয়ী হচ্ছেন না।

মূর্তি-সরানো বিষয়ে দার্শনিক ভাবনাগুলো আরও সবিস্তারে আজ রাতেই লিখব...ইউকে বেঙ্গলি বা দৃষ্টিপাতে প্রকাশিত হবে। এখানে ভাবনার বিস্তার না-করতে পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এখানে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করলাম---যা আমাদের ভাবনার জন্য কাজে লাগতে পারে বলেই মনে করি। আপনারা কি লক্ষ করেছেন, ধ্বনিগত দিক থেকে মুসলমান এবং মাসলম্যান শব্দ দুটো খুবই কাছাকাছি। যারা মূর্তি সরিয়েছে তারা মাসলম্যানের কাজই করেছে, এবং এখন যারা মূর্তি সরানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং সবসময় নেয় তারা মাসলম্যানের পক্ষই কাজ করে, ইসলামের পক্ষে নয়।

ইসলামকে আমি মাসলম্যানের ধর্ম বলে মনে করি না। এই বাংলায় ইসলাম তলোয়ার দিয়ে কায়েম হয় নাই। ইসলাম সম্পর্কে সীমাবদ্ধ ধারণাই এর কারণ। যারা ইসলাম এবং 'অপ্রতিদ্ধন্দী' আল্লাহর নাম করে মূর্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে তারা মহান আল্লাহর মহীমাকেই খাটো করে। কারণ, তারা মানব-মূর্তিকে আল্লাহর প্রতিপক্ষরূপে খারা করে।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.