আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রোবটিক পরিবর্তনের আশায়..................বাংলাদেশ

সততায় মৃত্যুও ভালো..........

হার্ভার্ড থেকে ফিরে আসা একজন রোবটিক্স প্রকৌশলী আলফা। গবেষণা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণাগারে। গবেষণার বিষয় ‘সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় রোবটিক্স’ (তবে ‘এসো বাংলাদেশ গড়ি’ নাম্মী রোড শো জাতীয় কিছু নয়)। আলফা হার্ভার্ড স্কলার। পড়ালেখা শেষ করেছে।

পার্ট টাইম জবও করেছে বেশ কয়েকটি নামকরা রোবট্রিক্স কোম্পানীতে। আমেরিকা-ইউরোপ-জাপান ঘুরে এখন এক বুক স্বপ্ন নিয়ে নিজের দেশে। হঠাৎ একদিন জাপানের গবেষণাগারে গবেষণা করতে গিয়ে বেশ জোড়ে চিৎকার দেয় একজন রসায়ণ অধ্যাপকের গ্রাম্য সন্তান আলফা। অন্যরা ছুটে আসতেই বেশ সপ্রতিভ বুদ্ধিমত্তার পরিচয়ে নিজের ভেতরে লুকিয়ে ফেলে তার নতুন মাত্রার জানাকে। একটু মুচকি হেসে হালকা করে দিল ‘নাহ বেশ আলস্য লাগছিল তাই একুট হাই তুললাম-সরি’।

আর সেই চিৎকারের সাথে সাথে জন্ম নিল দেশে ফেরার টান। চোখের সামনে ভেসে উঠল বিভৎস্য সব রূঢ় অনলাইন নিউজের হেড লাইন। দেশে ফেরার আগ্রহ বেশ মাথা চারা দিয়ে উঠতেই জমান অর্থের টাকা দেশে পাঠিয়ে, চাকুরীর ইস্তফা দিয়ে দেশে ফিরে এল আলফা। বিদেশের মাটিতে রবীন্দ্র নাথের একটা গানের লাইন বেশ বাজতো ওর মাথায় ‘অচেনাকে ভয় কি আমার ওরে......’ । এখন চেনা পথ আর চেনা মানুষের এরকম নৈতিক অবক্ষয় আর বাজেট বিহীন স্বপ্নচারীর আকাশ ভ্রমণ দেখে বেশ হতাশ হলো আলফা।

এরই মধ্যে ও যোগযোগ করেছে বেশ কিছু জায়গায় আর সব কিছু প্রায় ঠিক। ‘সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় রোবটিক্স’ এই প্রকল্পের জন্য জনবল নিয়ে শুরু হবে যেদিন, সেদিন কিছৃটা আশ্চর্য হলো আলফা। হল রুমে আশা করেছিল তার সহযোগীদের আর সেই সাথে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারে এমন কিছু মানুষ। বরংচ হল রুম ভর্তি কাগজ কলম হাতে চেনা অচেনা সাজে রমনীয় উৎসুক সাংবাদিক আর বিচিত্র সব লোগো সম্বৃদ্ধ ক্যামেরা সমেত ক্যামেরাম্যান। ঠিক এগারোটায় একজন ভারী মাপের বোদ্ধা গোছের সঞ্চালক ঘোষণা করলেন তরুণ গবেষক আলফা দেশের স্বার্থে বিদেশী চাকরীর রঙধনুময় স্বপ্নের দেশ থেকে নিজ দেশে ফিরেছেন।

আর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ‘সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় রোবটিক্স’ প্রকল্প বাস্তবায়নে। প্রিয় অতিথিবৃন্দ আপনাদের সামনে ‘সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় রোবটিক্স’ প্রকল্পের নির্বাহী রোবটিক্স প্রকৌশলী আলফা আর প্রকল্পের শুরুর কথা শোনাতে আসছেন। মোটা কঁাচের চশমা আর ডেনিম জিন্স ও কালো টি শার্ট পড়া ছয় ফুট উচ্চতার আলফা উঠে এল ডায়াসের সামনে। একটু মৃদু হেসে রাখ ঢাক ছাড়াই শুরু করলেন তার বক্তব্য। একদম প্রায় বেকার গোছের নীরব কিছু ছেলেকে গত একমাস ধরে নিবিড় চোখে বেছে নিয়েছি।

যাদের লক্ষ উঁচু কিন্তু সৎ। যাদের শ্রদ্ধাবোধ আছে কিন্তু তেলামী করে না। কিন্তু আমি বেশ হতাশ এই আয়োজনের অনুমতি দিয়ে। কারণ আমর আশা ছিল কিছু বিজ্ঞান মনষ্ক ছাত্র শিক্ষক আসবেন। আর কিছু সৎ যোগ্য বিনিয়োগকারী; যারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করবে শতভাগ ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রদান করেও লাভবান হওয়া যায়।

আমি তাদের কিছু আশার কথা শোনাব আর তাদের কাছে তাদের সৎ স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা শুনব। হায় স্বদেশ! আপনাদের আগমন মনে করিয়ে দিচ্ছে স্পিলবার্গের কোন সায়েন্স ফিকশন ফিচার ফিল্মের প্রিমিয়ার শোয়ের কথা। একটি বাস্তব সত্য কথা হয়তো কিছুটা রূঢ় লাগতে পারে এখন। আগামীর কোন অনুষ্ঠানে এই প্রজেক্টটির বাস্তবায়ন জানতে এলে অনেকেই হয়তো বা এই বিশাল হল রুমের বাহিরে থাকতে হতে পারে-এই প্রকল্প এর কল্যাণে। (দর্শক সারির অনেকে নড়ে বসলেন।

অনেকে এ ওর দিকে তাকালেন প্রশ্নবোধক চোখে। ) একটু থেমে আবার শুরু করলেন আলফা। প্রিয় দর্শক, আমার রোবটিক প্রজেক্টটির কিছু মানব সুলভ প্রোগ্রামেবল ষ্টাকচার মাত্র কিন্তু প্রায় অঘটন পটিয়সী বলা যায়। আপনাদের কাজে সাহায্য করলেও আমার প্রজেক্টটি আপনাদের চাকুরী চুত্যি বা বেকারত্ববৃদ্ধি করবে না, তা নিশ্চয়ই। কিন্তু ‘সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় রোবট্রিক্স’ মানুষের সাথে একাকার হয়ে সাহায্য করবে মানুষকে তার পথে সঠিক থাকতে।

মনে করুন একটি গাড়ীতে একটি রোবট ডাইভিং সিটের ডাইভারকে সর্তক করবে আর যাত্রীদের সাহায্য করবে সঠিক গন্তব্যে সঠিক সময় পৌছে দিতে। পাড়ার মোড়ে দাঁড়ানো রোবটটি নজর রাখবে অসর্তক গতি বিধির। আর অচেনা পথিককে জানিয়ে দিবে তার চাহিদার ঠিকানার সঠিক লোকেশন। আপনাদের মনে হতে পারে এমন রোবট আর নতুন কি, তাই না? হ্যাঁ সত্যিই নতুন কিছু না; তবে আমার প্রজেক্টের নতুনত্বের রহস্য অন্য খানে। পাড়ার মাস্তান ডলিকে উঠিয়ে নিয়েগেছে।

কিন্তু কিছু ক্ষণের মধ্যেই ডলি তার বাড়ীতে সম্ভ্রমে ফিরে এল। একদল পুলিশবাহিনী তাদেরর কর্তব্যেই কাজটি করেছে। সেই বাহিনীর এসিআর আর কোন ঘুষ খোর বসকে লিখতে হবে না। কারণ এরই মধ্যে ইন্টিলিজেন্ট রোবটিক্স টিম সেই অফিসার সহ বাহিনীর সবার ভার্চুয়াল ডায়েরীতে পোষ্ট করে দিয়েছে সেই প্রাপ্ত মার্ক ও কমেন্টস। মাস্তানটি তার অপরাধ সংশোধন শেষে ফিরেছে পাড়ায়।

ডলি চলছে নিরবিঘ্নে কলেজ আর তার আনুসংগিকের সাথে। হঠাৎ এরকম দৃশ্যে আপনারা আশ্চর্য হলেন নিশ্চয়ই। ইতিমধ্যে মাস্তানটি জেনে গেছে পাড়ার মোড়ে দাঁড়ানো রোবটটিই ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে মেসেজ পাঠিয়েছিল নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে আর সেই তথ্য তাৎক্ষণিক চলে গিয়েছিল রাষ্ট্র প্রধানের দপ্তরেও। এমন সব আশ্চর্যের কাজ করছে ফেরী ঘাটে, বাস টার্মিনালে, রেল ষ্টেশনে আর ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে। তবে কি আর অপকর্মকারীরা ঘুমিয়ে থাকবে! তাদের রক্তের মাতনে গুড়িয়ে দিতে চাইবে সেই সব রোবটদের।

যেমন নিজের ভিতরে দঁাড়িয়ে থাকা রোবট (বিবেক)কে ধ্বংস করেছে স্বার্থের নেশায়। ধর্মীয় বিধি নিষেধ আর সাংবিধানিক কাঠামোকে বাস্তবায়নের জন্য ভিতরের রোবট গুলি এবার রূপাকারে দাড়িয়ে থাকবে চোখের সামনে। অপকর্মকারী শাস্তী চোখের সামনে হওয়ায় স্বর্গ-নরক বা বেহেস্ত-দোযখের সেই সুখানুভূতির চেয়ে পৃথিবী আরো সন্দুর হবে। আরো সৎ নিষ্টাবান হবে নামাজী-পুজারী-পাদ্রী-ভিক্ষুদের মত পথ প্রদর্শকরা। মাস্তান বা পথহারা পথে আসবে কারণ আমার রোবট নশ্বর নয় বরং মানুষ তার স্বার্থে তাকে কখন নষ্ট করবে না।

এমনি রোবট দাড়িয়ে থাকবে আমার সীমান্তে। আর সীমান্ত রক্ষীরা মানবীয় হাতে মানব সেবা করবে; বিকাশমান হবে পর্যটন শিল্প, আমদানী-রপ্তানী হবে সঠিকতায়। এত সব স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে এই জন্য যে, ‘সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় রোবট্রিক্স’ প্রকল্পের রোবটটি ধ্বংসের সাথে সাথেই দাড়িয়ে যাবে দ্বিগুণ শক্তিতে আর চারগুণ সংখ্যায়। অথাৎ সীমান্ত রক্ষাকারী রোবটটি ধ্বংসের সাথে সাথে চারটি রোবটে রূপান্তরিত হবে। আর তাই বলছিলাম সকালে আপনার কৃত কর্মের জন্য বেলা ১১:০০টায় এই অনুষ্ঠানের অনুমতি নাও পেতে পারেন ভবিষ্যতে।

‘সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় রোবটিক্স’ এই প্রকল্প এখন স্বপ্ন নয় বরং ইচ্ছা সাপেক্ষমাত্র। সামনের সারিতে বসে থাকা দৃঢ় চেতা কীতিমৃখগুলো এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জীবনবাজী রাখা যোদ্ধা। তারা মনে করে তাদের না করতে পারা মুক্তিযুদ্ধ আবার এসেছে। তাদের হাত ধরে ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা......’ আমার সোনার বাংলায় হবে প্রকৃতির মেল বন্ধন প্রযুক্তির সাথে। প্রিয় দর্শক স্বাগতম আপনাদের আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আগামীর পথে।

যারা এতক্ষণ ধরে কান্তিকর এই স্বপ্নপুরীর গল্প শুনলেন তাদের জন্য আমি নিয়ে এসেছি একটি রোবমেট্রিক্স ক্রিষ্টাল ফুল্। এই ফুলেও যুক্ত করা আছে সেই ধারণার খানিক ছোঁয়া। তবে এটি দ্বিগুণ শক্তিধর আর চারগুণ সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে না। ফুলটি ছিড়লে ছেড়া অংশ একটি পুর্ণাঙ্গ ফুলে রূপ নেবে। এই দেখুন........( ফুলটি ছিড়ে একটি নিজের হাতে রেখে অন্য অংশটি দর্শক সারিতে নেমে এসে প্রথম দর্শকের হাতে তুলে দিলেন।

) আমি একটি রেখে আপনাকে একটি দিলাম, আমার মত ফুলটিকে ছিড়ে অন্য জনকে দিন। প্রিয় দর্শক এই রোবমেট্রিক্স ক্রিষ্টাল ফুলটি সহস্রতম সংখ্যা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। আর আজ এই অনুষ্ঠানে আমি ছাড়া ৯৯৯ জন উপস্থিত নিশ্চিত করেছেন। ধন্যবাদ সবাইকে রোবমেট্রিক্স ক্রিষ্টাল ফুলের......।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।