আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একদলীয় নির্বাচন হলে সহিংসতা হবে

বাংলাদেশে একদলীয় নির্বাচন হলে সহিংসতা হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে। এদিকে অপর এক বিবৃতিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ আনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ব্রিফিংয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মেরি হার্প ৯ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশে একদলীয় নির্বাচন হলে দেখা দেবে সহিংসতা। এতে শেষ পর্যন্ত যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তাতে সংবিধানবহির্ভূত শক্তির জন্ম হতে পারে। সৃষ্টি হতে পারে সাংবিধানিক সংকট।

তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে একমাত্র সমাধান দৃশ্যত আলোচনা। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার মধ্যে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। আলোচনার জন্য এটা যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে একটি চমৎকার ইঙ্গিত। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের আহ্বানের পর পরই যুক্তরাষ্ট্র এ আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সহিংসতা এড়ানোর জন্য এ আলোচনার ওপর এত গুরুত্ব দিয়েছে।

যদি একদলীয় নির্বাচন হয় তাহলে সহিংসতা হবে। সংখ্যালঘুদের ওপর হুমকি আসতে পারে। কট্টর ইসলামপন্থিদের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশে সৃষ্টি হতে পারে সাংবিধানিক সংকট। আমি (মেরি হার্প) সতর্কতার সঙ্গে শব্দটি উচ্চারণ করছি- এর ফলে আসতে পারে সংবিধানবহির্ভূত শক্তি।

তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সৃষ্টিতে দৃশ্যত এখন একটিই সমাধান হলো আলোচনা।

অন্যদিকে, ১০ সেপ্টেম্বর আরেক প্রশ্নের জবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা বার বার বাংলাদেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। তাদের বলেছি নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে তাদের একমত ও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজি হতে। এর পরে কী হবে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোই ঠিক করবে। তবে যে কোনো সমাধানের জন্য প্রয়োজন সহিংসতা এড়িয়ে চলা।

ইউনূসের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ আনায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

নোবেলজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ আনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ন্যায় ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চালাতে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করেছে।

মঙ্গলবার দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, 'আমরা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারের ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ প্রতিবেদনের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। ইউনূস বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত নাগরিক বিশেষ করে নারীদের জন্য কাজ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এর প্রশংসা করেছে ও সমর্থন দিয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে দেশের আইন ও ধারা অনুযায়ী ন্যায় ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রক্রিয়া চালানোর আহ্বান জানাচ্ছি। বিবৃতিতে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে বলা হয়, 'গ্রামীণ ব্যাংক সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরিতে ও লক্ষাধিক বাংলাদেশির সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইঞ্জিনের কাজ করছে। দরিদ্র বিশেষত নারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এর অবাক করা রেকর্ড রয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণের অর্থনৈতিক মডেলের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক সাধারণ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনে সচ্ছল জীবন ও ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখতে সাহায্য করেছে।

'

এতে আরও বলা হয়, একটি বিশেষ আইনের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক সৃষ্টি হয়েছে। এ আইনের অধীনে বোর্ডের পরিচালকরাই সব ক্ষমতা ধারণ করবেন। আর প্রফেসর ইউনূস যা-ই করেছেন, বোর্ডের অনুমতিসাপেক্ষেই করেছেন।

 

 

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.