আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

দেশে শতকরা ৪০ ভাগ প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সম্পর্ক বিদ্যমান- একজন লেখকের উদ্বৃতি।



এটা হতে পারে এবং এটা দুর্ভাগ্যজনক। বিশেষ করে যে মেয়েরা/ তরুণীরা বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যায় তাদের দুঃখ-কষ্টকে আমি আমার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে দেখেছি। শারীরিক সম্পর্কের পরে যাকে প্রেমিক ভাবে সে তখন ছেঁড়া ন্যাকড়ার মতো তাকে পরিত্যাগ করে চলে যায়। যে মেয়েই বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছে আমি এ পর্যন্ত সুখী কাউকে পাই নি। যার সাথে জড়িয়েছে সেও তাকে বিশ্বাস করে না।

এটাই বাস্তবতা। আর প্রেমিক-প্রেমিকা শব্দটাও পুরোপুরি অর্থহীন বাজে শব্দ। প্রেম দিতে জানে, প্রেম কিন্তু চায় না। অথচ আমাদের প্রেমিক-প্রেমিকা চায়, দেয় না। ‘দে ওয়ান্ট টু বি লাভড্’ তারা প্রেম দিতে চায় না।

একজনের সাথে কথা বলতে ভাল লাগে, দেখা হলে কাছাকাছি হতে ভালো লাগে আর তার নাম হয়ে গেল প্রেম। বিশাল কিছু, মহৎ কিছুর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিলাম। এটা মোহ ছাড়া কিছু নয়। প্রেম দিতে জানে, প্রেম নিতে জানে না। আপনি যাকে প্রেমিক ভাবছেন যদি তাকে অন্য কারো সাথে দেখেন তখন প্রেম আর থাকে না।

ছেলে হলে নাক ফাটাফাটি আর মেয়ে হলে শক্তি থাকলে চুলের মুঠি ধরে শাস্তি দেয়া; এটা প্রেম নয়, নষ্টামির একটা সুন্দর নামকরণ। কারণ যেকোনো জিনিসের ভাল লেবেল না থাকলে তা চালানো যায় না। আমি প্রেম করছি এটা অন্যরা শুনলে যেন খারাপ মনে না করে। যদি প্রেমের মধ্যে, বিশেষত ছাত্র জীবনে শারীরিক সম্পর্কের মধ্যে কোনো মঙ্গল থাকতো, কল্যাণ থাকতো, উপকার থাকতো, শান্তি থাকতো তাহলে ইউরোপ আমেরিকার তরুণ-তরুণীরা সবচেয়ে সুখী হতো। কারণ তাদের মতো খোলামেলা সম্পর্ক অন্য কোনো সমাজে নেই।

সেখানে প্রথমে প্রেম করে পরে বিয়ে হয়। অথচ আশির দশকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিয়ের পরে শতকরা নববই ভাগ ক্ষেত্রে ডিভোর্স হয়ে গেছে। যদি প্রেম থাকতো তাহলে আমার প্রেমিক বা প্রেমিকার জন্যে আমি জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে দিতে পারি। তখন প্রেমিক যদি অন্য কারো সাথে ঘোরে ঘুরুক। আমি তার জীবনে শান্তি দেখতে চাই।

কিন্তু আমরা তা পারি না। ‘ইউ ওয়ান্ট টু বি লাভড্’ গত ত্রিশ বছরে আমার কাছে তরুণ-তরুণীরা এই সমস্যা নিয়েই আসতো। তাদের কষ্টের কারণ ‘প্রেম’ শব্দটির ভুল ধারণার জন্যেই। তারা মনে করছে নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। কিন্তু উজাড় করে দিচ্ছে না বরং চাচ্ছে।

চাচ্ছে বলেই এত অশান্তি। ছেলেরা ধোয়া তুলসি পাতা হয়ে যায়। বিপদের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। বিয়ের আগে যে ছেলেরা কতরকম কথা বলে যারা বিয়ে করে নি বুঝতে পারবে না। বিয়ের পরে ছেলেদের রূপ কী হয় তা বিবাহিত মহিলাদের জিজ্ঞেস করলেই জানা যায়।

সেই প্রেমিকের কী রূপ হয় জানতে পারলে নিজের পড়াশোনা, জ্ঞানার্জন, যোগ্যতাকে বাদ দিয়ে তথাকথিত প্রেমের পেছনে কোনো ছেলে বা মেয়ে ঘুরতো না। কিন্তু যখন তথাকথিত কাম বা আসক্তিতে আপনি জড়িয়ে পড়ছেন তখন তা লিমিটকে অতিক্রান্ত করছে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.