আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ডেটলাইন ২৫ অক্টোবর

ডেটলাইন ২৫ অক্টোবর। রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া দেবেন আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি। উদ্বিগ্ন দেশবাসী তো বটেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব মহলের দৃষ্টি ওই দিনটির দিকে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো দেখা যায়নি। বরফ গলবে এমন আলামতও দেখা যাচ্ছে না। সর্বত্র প্রশ্ন, ২৪ অক্টোবর সংসদের মেয়াদ শেষে ২৫ অক্টোবর থেকে কী ঘটতে যাচ্ছে রাজনীতিতে- টানটান উত্তেজনা নিয়ে সবার তৃষ্ণার্ত কৌতূহলী চোখ।

 

আগামী ২৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হলে ২৭ অক্টোবর থেকে অসহযোগে যাবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ঈদের পর ২২ অক্টোবর বরিশালের বিভাগীয় সমাবেশ থেকেই এ ঘোষণা দিতে পারেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া।

একতরফা নির্বাচনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো আদেশ না মানতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাবেন তিনি। এ ছাড়াও অবরোধ, ঘেরাও এবং টানা হরতালসহ বিভিন্ন রকমের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে। তবে বরিশালের নির্ধারিত সমাবেশ কর্মসূচিতে ব্যত্যয় ঘটলে ২৫ অক্টোবর কিংবা তার আগে বিবৃতির মাধ্যমেও অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাখ্যান করে উলি্লখিত কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন বেগম খালেদা জিয়া। ২৫ ও ২৬ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন থাকায় ২৭ অক্টোবর রবিবার থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে বিরোধী দলের মূল আন্দোলন। আওয়ামী লীগের একতরফা নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি চেয়ারপারসন ইতোমধ্যেই সারা দেশে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রভিত্তিক সংগ্রাম কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

যার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। এ ছাড়াও নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, দাখিল, বাছাই, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা এবং সর্বশেষ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন কঠোর প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি দেওয়া হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতিটি কার্যক্রমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি।

জানা গেছে, একতরফা নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন সারা দেশে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এবং একই সঙ্গে ঢাকায় নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ ছাড়া চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে লাগাতার ঘেরাও, অবরোধসহ থাকবে টানা হরতাল কর্মসূচি।

দুটি বিভাগীয় সমাবেশের পর ঢাকায় ব্যাপক লোক সমাগমের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টির বিষয়টিও রয়েছে বিরোধী দলের পরিকল্পনায়। এ সময় রাজধানীর পাশাপাশি সব বিভাগীয় ও জেলা শহরেও জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানানো হতে পারে। এভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে যত রকমভাবে অসহযোগিতা করা যায় তার সবকিছুই করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ঈদের পর ২২ অক্টোবর বরিশালের জনসভায় বক্তৃতা করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর পরপরই তিনি চট্টগ্রামে জনসভা করবেন।

কিন্তু তা নির্ভর করবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। এর আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে চট্টগ্রামের সমাবেশ করার সুযোগ নাও পেতে পারেন খালেদা জিয়া।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যেই সরকার পতনের কাউন্টডাউন শুরু করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আয়ু আর মাত্র ২০ দিন। এরপরই তাদের বিদায় নিতে হবে।

কারণ দেশে আজ এক গভীর সংকট সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ, তাই তাদের না হটানো পর্যন্ত এই সংকট কাটবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ বেসামাল হয়ে পড়েছে এবং জনরোষে পড়তে যাচ্ছে অচিরেই। ২৫ অক্টোবরের পর থেকে যে আন্দোলন শুরু হতে যাচ্ছে তাতে ১৮ দল তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

আন্দোলন সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঈদের পর ঢাকাসহ সারা দেশে সর্বাত্দক আন্দোলন শুরু হবে। সরকারকে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে সরকারের মনোভাবের দিকেও নজর রাখছে বিএনপি। আন্দোলনকে সামনে রেখে সরকার যে তার শেষ সময়ে ব্যাপক ধরপাকড়ের ছক এঁটেছে সেটিও হিসাবে রাখা হয়েছে। যথাসম্ভব গ্রেফতার এড়ানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করে ফেলেছেন অনেক নেতা। তাদের ধারণা ও বিশ্বাস, ২৫ অক্টোবরের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরের নির্দেশ তেমন একটা আর কাজ করবে না। এতদিন বিএনপির কিছুসংখ্যক নেতা সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিরোধিতা করলেও আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে আন্দোলনের বিপক্ষে দলের কোনো নেতা-কর্মী এখনো পাননি বেগম খালেদা জিয়া।

এবার সবাই একমত হয়েছেন। এমনকি ঢাকা মহানগরীসহ কেন্দ্রীয়ভাবেও সারা দেশে আন্দোলনের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে ইতোমধ্যেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ইতোমধ্যেই তাদের কাজকর্মও শুরু করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

 

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।