আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বনাম সর্বদলীয় নির্বাচন কালীন সরকার ।

সৎ ভাবে চলা। দেশের জন্য কাজ করা। অপরের সাথে শেয়ার করা।

হ্যাঁ । ভাল কথা ।

আমার বন্ধু লতিফের কথার বা বক্তব্যের পরি প্রেক্ষিতে এই লিখা । পড়ুন এবং ভাল লাগবে । প্রথম কথা হল তত্ত্বাবধায়ক সরকারটা কি ? তত্ত্বাবধায়ক সরকার হল সরকারী দল ও বিরুধি দল এর পছন্দের ৫জন ও ৫জন করে এবং একপ্রকার তাদের সিলেক্টেড বা প্রদত্ত তালিখা থেকে নিয়েই যে সরকার হয়ে থাকে তাকে বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার । আর সর্বদলীয় সরকার হল গত নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভিতর থেকে সরকারী দল ও বিরুধি দল এবং সাথে অন্যান্য দল (জমাত বাদে) যারা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতেছে - তাদের দিয়ে নির্বাচন কালীন যে সরকার তাকে বলে সর্বদলীয় নির্বাচন কালীন সরকার । যা পূর্বের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতই - এবং এক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়েই হচ্ছে সর্বদলীয় নির্বাচন কালীন সরকার ।

বর্তমান পরিস্থিতির কারনে আওয়ামী লীগ এই সর্বদলীয় নির্বাচন কালীন সরকারে আনুপাতিক হারে সংখ্যায় বিএনপিকে তাদের উপযুক্ত পাওয়া থেকেও বেশী দিতেও রাজী হয়েছে । দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে - এই সরকারের প্রধান বা এই সময়ে প্রধান মন্ত্রী কে হবেন বা থাকবেন ? হ্যাঁ এই প্রশ্নটারই সমাধান করার জন্য প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরুধি দলীয় নেতা বেগম খলেদা জিয়াকে আলোচনার জন্য ফোন দিয়েছিলেন । এবং হরতাল স্থগিত করেই আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন । বেগম জিয়া সেই আমন্ত্রণের ব্যাপারে বা বিপরীতেই একগাদা কথা প্রধান মন্ত্রী কে শুনিয়ে দিয়ে হরতাল অব্যাহত রাখলেন । এপর্যন্ত পুড়িয়ে, ভোমা মেরে, জবাই করে অর্ধশতের বেশী লোককে খুন করা হল ।

অসংখ্য গাড়ি, ও বাড়ি আগুনে পুড়া হল । এখন প্রশ্ন হল - এর দ্বায় দায়িত্ব কে নেবে ? নিশ্চয় বিএনপি তথা বেগম খলেদা জিয়াকেই নিতে হবে । এখানেই উল্লেখ করতে চাই – প্রধান মন্ত্রীর আমন্ত্রণ এখনও অব্যাহত আছে । সেই ব্যাপারে কখন বিএনপি আলোচনায় আওয়ামী লীগের সাথে বসতে চায় তা জানিয়ে আওয়ামী লীগকে ফোনে জানিয়ে দিলেই তো – আলোচনা শুরু হয়ে যাবে । এবং সেই আলোচনাতেই আগামী নির্বাচনের জন্য কি কি পদক্ষেপ নিলেই নির্বাচন অবাধ, সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হবে – তা নির্ধারণ করা যায় ।

সে ব্যাপারেই এখন বিএনপির উচিৎ ফোনে বা অন্য যে কোন উপায়েই আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনা করা এবং বিএনপির প্রস্থাব উপস্থাপন করা । তা হলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে । এবং বাংলাদেশে একটা অবাধ, সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । যার দিকেই বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্ব থাকিয়ে আছে । এটা না করে হরতাল দেওয়া হচ্ছে এবং লাশের উপর লাশ উপাহার দিচ্ছে বিএনপি তথা জমাত শিবির ও ১৮ দল ।

এখান থেকেই আমরা মুক্তি চাই । হরতাল প্রত্যাহার করতে হবে । আলোচনায় বসতে হবে । সর্বদলীয় সরকারের সাথে বিএনপিকে সংযুক্ত হতে হবে । এক্ষেত্রে কোন ভাবেই অনির্বাচিত কাউকে দিয়ে কোন সরকারই আমরা মেনে নিতে পারি না।

কারন অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি তা আমরা ২০০৬ সালে দেখেছি । যে সরকার বেগম জিয়ার বড় ছেলে জনাব তারেক জিয়ার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে বা বাকা করে দিয়েছে – যা এখনও চিকিৎসা নিতেই হচ্ছে । তাও আবার লন্ডনে । দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে এই একটা কারণে গত পাঁচ বছর একবারের জন্য হলেও জনাব তারেক জিয়া বাংলাদেশেও আসতে পানেনি । তা হলে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্থাবের ভুল কোন জায়গায় ? আসল কথা হল বিএনপির ঘাড়ের উপর সওয়ার হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের দল জমাত - শিবির ।

যে জমাত শিবির বিভাগীয় জনসভা সমূহে প্রকাশে দিবালোকে বিএনপি ও ছাত্রদলের লোকজনকে লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে জনসভার সামনের জায়গা দখন করেছে । এবং এখন সেভাবেই বেগম ঘালেদা জিয়াকে বিএনপিএ নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে –জমাত শিবির । যেখান থেকে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে পারতেছে না । এই সত্যি কথাটা বা ঘটনাটা বিএনপির পক্ষে স্বীকার করা সম্ভব না । তাই আজ দেশের এই অবস্থা ।

এখান থেকে আমরা মুক্তি চাই । তাই বিএনপিকে অনুরধ করবো বেগম খলেদা জিয়াকে জমাত – শিবিরের কবল থেকে উদ্ধার করুন এবং নির্বাচনে জাপিয়ে পড়ুন । আপনাদের বিজয় সুনিশ্চিত – এটা আপনারাই বলে থাকেন এবং আচার আচরণে ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বুঝাছেন আমাদেরকে । তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর চেষ্টা করে কোন লাভ হবে না। এই বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই হবে – ইনশেল্লাহ ।

জয়বাংলা । জয় বঙ্গবন্ধু ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।