আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আওয়ামী লীগকে অন্ধ অনুকরণ করছে ১৮ দল

আওয়ামী লীগ বিরোধী দল হিসেবে খুবই সফল। তারা ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। আমরা মাত্র ৩০ দিন করেছি। তাদের যে মারদাঙ্গা পার্টি আছে বা তাদের মহিলা কর্র্মীরা যে কুংফু-কারাত জানেন তা বিএনপির পুরুষরাও পারেন না। তাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল এখন আওয়ামী লীগকে অন্ধ অনুকরণ করছে।

বুধবার মাছরাঙা টেলিভিশনের টকশো 'দলের চেয়ে দেশ বড়'-সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন খান (বীরবিক্রম) এসব কথা বলেন। রেজোয়ান হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ জমির, সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাছির হোসেন।

হরতাল ছাড়া কি কোনো বিকল্প নেই?- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, হরতাল বিরোধী দলও চায় না। আমাদের মনের কোনায় এখনো রয়ে গেছে, সরকারি দল আমাদের সংলাপে আমন্ত্রণ জানাবে, সেখানে গিয়ে হয়তো দেশের এই সমস্যার সমাধান খুঁজে নিতে পারব। কিন্তু সংলাপে তো আমাদের আহ্বানই জানানো হয়নি।

যেটা হয়েছে সেটা ডেড টেলিফোনে। পরে এডিসির টেলিফোনে যা বলা হয়েছে তা দেশবাসী শুনেছেন। ওই টেলিফোনটার উদ্দেশ্যই ছিল বিরোধী দলের নেত্রীকে বেকায়দায় ফেলা। ওটা রেকর্ড করা হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার সামনে কোনো ক্যামেরা নেই।

বিরোধী দলের নেত্রীও তার মতো করে কথা বলেছেন। এগুলো তার অনুমতি ছাড়া বাইরে প্রকাশ করা তো অনৈতিক। সুতরাং সরকার কত নিচে নামতে পারে!

তিনি বলেন, বিরোধী দলের রাজনীতি করাই যেন বিরাট অপরাধ বলে গণ্য করছে সরকারি দল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে কি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে গ্রেফতার করা হয়েছিল? শীর্ষ নেতাদের হয়তো এক-আধবার করা হয়েছিল। এখন বিরোধী দলের মহাসচিব পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

তাকে পাঁচবার গ্রেফতার করা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে পুলিশ। তারা রাতে ঘুমাতে পারেন না। এই রাজনৈতিক পীড়নে বিরোধী দল আরও ক্ষুব্ধ হচ্ছে। কঠিন থেকে কঠিনতর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই হরতালে আমরা কেউ বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে যেতে পারিনি। আমাদের নেত্রীর বাড়ি চারদিক থেকে পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখে। সরকারি দলের লোকেরা পিস্তল হাতে গুলি করছেন। আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিলও করতে পারি না। রাজধানীতে এই অবস্থা, বাইরের উপজেলাগুলোতে কী তাণ্ডব চালানো হচ্ছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

দেশের মানুষ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। হাফিজউদ্দিন খান বলেন, দেশে আজ গণতান্ত্রিক সংকট, শাসনতান্ত্রিক সংকট, রাজনৈতিক সংকট ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সংকট। এই সংকট সৃষ্টি করেছে সরকারি দল এবং দলের চেয়ে বেশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তার 'বিকৃত' ইচ্ছাই এখন আইন। এতদিন ঝুলিয়ে রেখে দুর্নীতি দমন আইনে যে সংশোধন আনলেন, তা দুর্নীতির জন্য রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে।

তারা ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রতিবছর মন্ত্রীরা সম্পদের হিসাব দেবেন। একবারও দেননি। প্রতি পদে পদে ভুল করছেন। মন্ত্রীরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আবার গাড়িতে পতাকা লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ক্ষমতায় এসে সংবিধানের ৫১টি আর্টিকেলকে অপরিবর্তনীয় করে দিয়েছেন।

 

 

 

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.