আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হুমকির নাম আফগানিস্তান

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আফগানিস্তানকে কেন সমীহ করতে হবে, তার প্রমাণ কাল শারজায় বেশ ভালোমতোই পেল পাকিস্তান। পাকিস্তান ৬ উইকেটে জিতলেও ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। শুধু তা-ই নয়, একসময় যেখানে মনে হচ্ছিল অনায়াসে ম্যাচটা জিততে চলেছে পাকিস্তান, সেখান থেকে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে আফগানরা।

শেষের ওভারটিতে পাকিস্তান সমর্থকদের বুকও কাঁপছিল অঘটনের আশঙ্কায়। কিছুতেই হার না মানার মানসিকতা আফগানদের রক্তে মিশে আছে।

জাত লড়াকু আফগানরা সেই মানসিক দৃঢ়তা দিয়েই অবিশ্বাস্য দ্রুততায় এগিয়ে আসছে ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে এই আফগানরাই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। শক্তির বিচারে বাংলাদেশ অবশ্যই ফেবারিট। তবে আফগানদের হালকাভাবে নিলে যে সেটা মারাত্মক ভুল হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে সংগ্রহটা অবশ্য খুব বেশি বড় করতে পারেনি আফগানিস্তান।

মোহাম্মদ হাফিজ আর সোহেল তানভিরের ভালো বোলিংয়ে শুরুতে রানের চাকা ঘোরাতে কষ্টই করতে হয়েছে আফগান ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ৮ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে জমা হয়েছিল মাত্র ৩৭ রান। কিন্তু লড়াকু মনোভাবের পরিচয় দিয়ে সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় ক্রিকেট বিশ্বের উদীয়মান এই দেশটি। নাজিবুল্লাহ জারদান ও মিরওয়ালিশ আশরাফের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান।
৩০ বলে ৩৮ রান করে জুনায়েদ খানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন জারদান।

২২ বলে ২৮ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন আশরাফ।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে জয়ের জন্য ১৩৮ রানের লক্ষ্যটা খুব বেশি হয়তো নয়। কিন্তু সেই সহজ লক্ষ্যে পৌঁছাতেই ঘাম ঝরাতে হয়েছে পাকিস্তানকে। উদ্বোধনী জুটিতেই ৪৯ রানের পর তৃতীয় উইকেটে উমর আকমল আর মোহাম্মদ হাফিজের ৪৭ রানের জুটিটা দেখে মনে হচ্ছিল পাকিস্তানের জয়টা শুধুই সময়ের ব্যাপার। ২৪ বলে মাত্র ৩৩ রান দরকার ছিল, হাতে ছিল ৮ উইকেট।

তা ছাড়া হাফিজ আর আকমল যেকোনো সময় ঝড় তোলার ইঙ্গিতও দিচ্ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি অন্য রকম হয়ে গেল আকমল ও শোহাইব মাকসুদ সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পর। পাকিস্তানই উল্টো একসময় পড়ে গেল চাপের মধ্যে।

শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল মাত্র ৬ রান। কিন্তু এই ছয়টি রানই তারা নিয়েছে ঝুঁকির মধ্যে।

একটা চার-ছক্কা তো দূরের কথা, ডাবলসই নিতে পারেননি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। তবে শেষ পর্যন্ত এই লড়াইটাই সান্ত্বনা হয়ে থাকল পাকিস্তানের। স্কোরবোর্ডে লেখা হলো পাকিস্তানের ৬ উইকেটের জয়ই।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের বাধা পেরোনোর লড়াইয়ে নেপাল, হংকং ও আফগানিস্তানের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম অবশ্য আফগানিস্তানকে ‘জুজু’ বানানোর কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি।

কিন্তু আগামী ১৬ মার্চ আফগানদের মুখোমুখি হওয়ার আগে যে সর্বোচ্চ সতর্কতাই অবলম্বন করতে হবে, সে ব্যাপারে কোনোই সন্দেহ নেই। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ছোট্ট একটা ভুলই হয়তো নিয়ে আসতে পারে হতাশার বার্তা।

সোর্স: http://www.prothom-alo.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.