আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মালয়শিয়ায় প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি পণ্য

অভিজাত হোটেল থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং মল, ছোট বিপণীবিতানসহ সব খানেই এখন মিলছে প্রাণের জুস, চকলেট, বিস্কুটসহ ৫০টির মতো পণ্য।
২০১০ সাল থেকে মালয়শিয়ায় প্রাণ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি পণ্য রপ্তানি শুরু করে। প্রথম বছর রপ্তানির পরিমাণ ছিল এক কোটি টাকা।
এ বছর রপ্তানি একশ’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মালয়শিয়ার কান্ট্রি ম্যানেজার আসিফ সাইগাল।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ভারতীয় এই নাগরিক বলেন, “আগে মালয়শিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রাণের পণ্য কিনতো।

এখন মালে (মালয়শিয়ান মুসলিম) এবং মালয়শিয়ান ভারতীয়রাও প্রাণের পণ্য কিনছেন। ”
প্রতিদিনই প্রাণের পণ্যের চাহিদা বাড়ছে দাবি করে আসিফ বলেন, প্রাণের পণ্য মালয়শিয়া সরকারের ‘জাকিম হালাল’ সার্টিফিকেট পাওয়ার পর আমাদের পণ্য বিক্রি বাড়ছে।

“২০১০ সালে বাংলাদেশী টাকায় এক কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল। এখন প্রতি মাসেই ৭/৮ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছর বিক্রি একশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।


কুয়ালালামপুর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সানগাই বুলো শিল্প এলাকায় ২৬ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে  প্রাণের অফিস।
সেখানে তিনটি বড় ‘ওয়্যার হাউজ’ রয়েছে। এগুলোতে প্রাণের বিভিন্ন ধরণের পণ্য সাজানো রয়েছে।
চিনিগুঁড়া চাল থেকে শুরু করে মরিচের গুড়া, ক্যান্ডি চকলেট, টোস্ট বিস্কুট, ড্রাই কেক, নানা ধরণের জুস ভর্তি করে রাখা হয়েছে ওই তিন ওয়ার হাউজে।
প্রাণের মালয়শিয়া অফিসের বিপণন বিভাগের নির্বাহী এস এম সাইফুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশ থেকে সমুদ্র পথে প্রাণের পণ্য মালয়শিয়ায় বন্দরে আসে।

সেখান থেকে পণ্যগুলো এনে ওয়ার হাউজে রাখা হয়। ”
“এরপর এই পণ্যগুলো রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। ”
আসিফ সাইগাল বলেন, “দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের ৭০টির মত গাড়ি রয়েছে। মালয়শিয়ায় সবমিলিয়ে দুইশ’ জনের মত লোক কাজ করে। এরমধ্যে কুয়ালালামপুরে কাজ করে একশ জন।


বাজার সম্প্রসারণের ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “২০১৪ সালের মধ্যে আমাদের জনবল চারশ’ জনে দাঁড়াবে। গাড়ির সংখ্যা বাড়িয়ে দুইশ করা হবে। ”
“আর একশ কোটি টাকার বাজার দুইশ’ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। ”
তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছাড়াও প্রাণে মালয়শিয়া (মালে) ভারত ও চীনারা কাজ করেন।
আসিফ সাইগাল বাংলাদেশের মতো মালয়শিয়াতেও প্রাণের পণ্য জনপ্রিয় করতে মোটা অংকের টাকা খরচ করা হয় জানিয়ে সাইফুল্লাহ বলেন, কুয়লালামপুর শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রাণের বড় বড় বিলবোর্ড বসানো হয়েছে।

স্থানীয় রেডিওতেও নিয়মিত বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়।
আসিফ সাইগাল
কুয়ালালামপুরে অন্যতম বৃহত্তম শপিং মল মাইডিন গিয়ে দেখা যায়, প্রাণের বিভিন্ন ধরনের পণ্য সেখানে বিক্রি হচ্ছে।
মাইডিনের বিক্রয় প্রতিনিধি ইব্রাহিম খলিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের এখানে প্রাণের পণ্য বেশ ভালই বিক্রি হয়। বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশিরাই এই পণ্য বেশি কেনেন। ”
ইব্রাহিমের বাড়ি রাজশাহীর নাটোরে।

চার বছর ধরে তিনি মালয়শিয়ায় রয়েছেন।
আরেক শপিং মল নাফিসা। এখানেও কাজ করেন অনেক বাংলাদেশি।
এ মলের বিক্রয় প্রতিনিধি মোশাররফ হোসেন বলেন, “প্রাণের জুস বেশ ভালই বিক্রি হয় এখানে। ”
বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মালয়শিয়ায় ছয় লাখের বেশি বাংলাদেশি অবস্থান করছেন।


সোর্স: http://bangla.bdnews24.com     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।