আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার ম্যাচ

পাঁচ দিন পর এশিয়া কাপ। এশিয়ার সবচেয়ে বড় আসরটির প্রস্তুতি চলছে জোর গতিতে। আসরের 'হোস্ট ডিরেক্টর' বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল ঢাকায় এসেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দিনভর সভা করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিভিন্ন কমিটির সঙ্গে। বুলবুল ব্যস্ত টুর্নামেন্টের সফল আয়োজনে।

অন্যদিকে মুদ্রার উল্টোপিঠের মতো এশিয়া কাপের আগে ধুলোয় মিশিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে চাইছেন মুশফিকরা। ৪৮ ঘণ্টা আগে পরিচিত উইকেটে যে ধারায় হেরেছে টাইগাররা, সে ধাক্কা সামলে নিতে হয়তো বেগ পেতে হতে হবে ব্যাপক। তারপরও সব ভুলে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চান মুশফিকরা। জয় পেতে চায় টাইগাররা। আবারও স্বপ্ন দেখাতে চান ক্রিকেটপ্রেমী বাঙালিকে।

গত বছর দ্বীপরাষ্ট্রের বিপক্ষে সর্বশেষ মুখোমুখিতে জয় পেয়েছিল মুশফিকবাহিনী। সেবারও ম্যাচটি ছিল কার্টেল ওভারে। গত সোমবারের ওয়ানডেও ছিল কার্টেল ওভারের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এর আগে যে ৩৪টি ম্যাচ খেলেছিল টাইগাররা, তার কোনটিতেই এতটা বাগে পায়নি দ্বীপরাষ্ট্রকে। ২০০৯ সালে এই মিরপুরে ১৪৭ রানে অলআউট করেছিল শ্রীলঙ্কাকে।

কার্টেল ওভারের ওই ম্যাচটি জিতেছিল টাইগাররা। কিন্তু এমন বিপাকে ফেলতে পারেনি দ্বীপরাষ্ট্রকে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ভেজা উইকেটের সুবিধা নিয়ে ৬৭ রানে তুলে নিয়েছিল শ্রীলঙ্কার ৮ উইকেট। তখন মনে হচ্ছিল বোধহয় প্রথমবারের মতো শয়ের নিচে গুটিয়ে যাবে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ক্যাচ মিসের মহাযজ্ঞে মেতে উঠে শুরুর ধারাটা শেষ পর্যন্ত আর ধরে রাখতে পারেননি মুশফিকরা।

চার চারটি লোপ্পা ক্যাচ মিস করেন সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন ও সোহাগ গাজী। এরমধ্যে দলীয় ৭৪ রানে থিসারা পেরেরার সহজ ক্যাচটি সোহাগ ফেলে দেওয়ার পর আর রশি ধরে রাখতে পারেনি টাইগাররা। পেরেরা অসাধারণ ব্যাটিং করে রাশ নিজেদের দিকে টেনে আনেন। যে দল কাঁপাকাঁপি করে শয়ের নিচে গুটিয়ে যেত, তারাই ১৮০ রানে থামে। ওভারপ্রতি রান রেট মাত্র ৪.২০।

ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য কোনো বড় প্রতিবন্ধকতা নয়। ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৪ রান তোলার পর যখন মনে হচ্ছিল, জয়টি সহজলভ্য। তখনই সবকিছু গুবলেট হয়ে যায় সাকিব, নাসির, রিয়াদদের আত্মাহূতিতে। এমন সব আত্মাহূতি, যে হাসিও পেতে হয়েছে। ৬২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা শামসুর রহমান শুভ ব্যাট ছাড়া ক্রিজে প্রবেশ করতে চাইলে রান আউট হন।

সাকিব রান আউট হন নিজের ডাকা কলেই। নাসির ক্যাচ দেন সেনানয়েকের স্পিন না বুঝে ফরোয়ার্ড খেলতে যেয়ে। এসব ছোট ছোট ভুলই ধীরে ধীরে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়ে টাইগারদের উপহার দেয় কষ্টের হার। বেদনার হার। আজকের ম্যাচে এ ভুলগুলো শুধরে নিতে চায় জানান শামসুর, 'গত ম্যাচে আমাদের বেশ কিছু ভুল হয়েছে।

কালকের (আজ) ম্যাচে সেই ভুলগুলো আর করতে চাই না। ভুলগুলো শুধরে খেলতে চাই। '

টিম ম্যানেজমেন্ট বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিল প্রথম ওয়ানডের একাদশ। দলের দুই ভরসা তামিম ইকবাল ও মাশরাফি বিন মর্তুজার জায়গা হয়নি একাদশে। আজ ফিরতে পারেন তামিম ও মাশরাফি।

এক্ষেত্রে বসে থাকতে হতে পারে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। আবারও উইকেটের পিছনে দাঁড়াতে দেখা যেতে পারে মুশফিককে। গত মাচে কিপিং করেননি টাইগার অধিনায়ক। যদি মুশফিক কিপিং করেন, তাহলে ওয়ান ডাউনে দেখা যেতে পারে এনামুলকে। ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে নাঈম ইসলামেরও।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ৫৪.৩৩ গড়ে ১৬৩ রান করেছিলেন নাঈম। রুবেল হোসেনের সঙ্গী হিসেবে আল-আমিনের জায়গায় দেখা যেতে পারে মাশরাফিকে।

একাদশে পরিবর্তন এনে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা টাইগারদের। তবে এশিয়া কাপের আগে আত্মবিশ্বাসের গ্রাফটাকে চূড়ায় তুলতে জয়ের বিকল্প নেই। আর সেই পথেই হাঁটতেই মরিয়া টাইগাররা।

এখন শুধু অপেক্ষার পালা।

 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।