আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রক্ষা হলো না হোয়াইটওয়াশ

সেই পুরাতন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। আস্থাহীন এক দল। প্রতিপক্ষকে দেখে যারা কাঁপে। ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষায় নেই আত্মবিশ্বাসের দীপ্তি। তেজোদীপ্ত অবয়ব হারিয়ে টাইগাররা যেন বিড়ালের মতো মিউ মিউ করছে।

তাই ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে, ঘরের মাঠে বাংলাদেশ 'লঙ্কাওয়াশ' অর্থাৎ হোয়াইটওয়াশ। গত কয়েক বছর ধরে ওয়ানডেতে যে লড়াকু বাংলাদেশকে দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব, এটি তো সেই বাংলাদেশ নয়! ২০১১ সালের পর যারা ঘরের মাঠে কোনো সিরিজ হারেনি। আগের বছর এই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেই তাদের মাটিতে সিরিজে পিছিয়ে পড়েও সমতা এনেছিল মুশফিকরা। নিউজিল্যান্ডের মতো ক্রিকেট শক্তিকে দ্বিতীয়বারের মতো 'বাংলাওয়াশ' করার স্মৃতি তো এখনো উজ্জ্বল। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে সে কী তেজ! এতো দ্রুতই কি হারিয়ে গেল সেই দিনগুলো! কদিন পরেই শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ।

তারপর টি-২০ বিশ্বকাপ। আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সিরিজে বাংলাদেশ কিনা হারিয়ে ফেলল সঞ্চিত আস্থাটুকুও। সিরিজ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল আগের ম্যাচেই। কাল ব্যবধানটা কেবল ৩-০ হয়ে গেল। মুশফিকদের লজ্জায় ডুবালো শ্রীলঙ্কা।

যেন লজ্জায় পড়েছিলেন স্টেডিয়ামে আসা দর্শকরাও। তাই তো ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই গ্যালারি ফাঁকা হয়ে যায়। বাংলাদেশ যেখানে ধুঁকতে ধুঁকতে ৮ উইকেটে করল ২৪০ রান। শ্রীলঙ্কা জয়ের টার্গেটে পৌঁছে গেল চার উইকেট হারিয়ে এবং ১৫ বল হাতে রেখেই। কুশল পেরেরার দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির সঙ্গে দিনেশ চন্ডিমলের হাফ সেঞ্চুরি।

১০৬ রান করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন পেরেরাই। আর শেষ ম্যাচ না খেলেও সিরিজ সেরা কুমার সাঙ্গাকারা। কাল বাংলাদেশ দলে ছিলেন না তিন তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাশরাফি বিন মর্তুজা। তারপরেও তো দলীয় স্কোরে যোগ হতে পারতো অন্তত আরও ৩০-৪০ রান, যদি না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নিজের মতো করে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে না আসত! দলীয় মাত্র ১৭ রানে অবিবেচকের মতো আউট হয়ে যান এনামুল হক বিজয়। ধাম্মিকা প্রসাদের প্রথম ওভারের শেষ বলে তিনি উইকেটের পেছনে তুলে দিলেন সহজ ক্যাচ।

মমিনুলের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ভালোই খেলছিলেন শামসুর রহমান শুভ। কিন্তু লঙ্কান বোলার প্রসাদের করা শর্ট বলে হুক করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে থাকা ফিল্ডার পেরেরার তালুবন্দি হয়ে গেলেন। শুভ যেন জানিয়ে দিলেন এখনো শর্ট বলের জুজু কাটেনি বাংলাদেশের।

মমিনুলের রান আউটকে দুর্ভাগ্যজনকই বলা যায়। মুশফিকের সঙ্গে তার ৪৬ রানের জুটিটা বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল।

হাফ সেঞ্চুরি করে 'প্রিন্স অব কঙ্বাজার' খেলছিলেন স্বাচ্ছন্দ্যেই। কিন্তু হঠাৎ এক দমকা হাওয়ায় সব এলোমেলো হয়ে যায়। ৬০ বলে ৬০ রান করে সাজঘরে ফিরে যান মমিনুল। আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিকও। প্রসাদের বাউন্স বল খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন।

পঞ্চম উইকেটে নাঈম-নাসিরের ৫৪ রানের জুটি ছিল সম্ভাবনাময়। নাসির তার স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করলেও নাঈম ব্যাটিং করছিলেন অত্যন্ত সর্তকভাবে। আগের সিরিজে সর্বোচ্চ স্কোরার হওয়ার পরেও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম দুই ওয়ানডেতে তার জায়গা হয়নি। তাই শেষ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে দলের চেয়ে নিজের প্রতি যেন বেশি মনোযোগী ছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরেও তো বড় স্কোর করতে পারেননি।

৫৫ বলে ৩২ রান করে তিনি সাজঘরে ফিরেছেন মিড অফে সহজ ক্যাচ দিয়ে। ভরসার প্রতীক নাসির হোসেনও স্থায়ী হতে পারেননি। ৪৩ বলে ৩৮ রান করে তিনিও মিড অফে ক্যাচ তুলে দেন। আর মাহমুদুল্লার পুরা সিরিজটাই কাটল বাজেভাবে। এ ম্যাচে ৫ রানের বেশি করতে পারলেন না।

আউটও হয়েছেন বাজেভাবে, লং অনে সহজ ক্যাচ দিয়ে। শেষ দিকে সোহাগ গাজী মাত্র ১৩ বলে ২৩ রান করলেও তার আউটটি দৃষ্টিকটূ লেগেছে।

ফিল্ডিং নিয়েও স্বস্তির উপায় নেই। শ্রীলঙ্কার দলীয় ২২ রানের মাথায় পয়েন্টে নাসির যেভাবে থিরিমান্নের সহজ ক্যাচটি ফেলে দিলেন, তা হাস্যকর। তাছাড়া পুরো সিরিজেই তো বাংলাদেশের ফিল্ডিং ছিল যাচ্ছেতাই।

যার খেসারত এই লঙ্কাওয়াশ।

 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.