আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মন্ত্রীরা এত অদ্ভুত অদ্ভুত কেন?

থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে, দেখবো এবার জগৎটাকে ১. আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী তৃণমূল বিস্তৃত রাজনৈতিক দলের মন্ত্রীরা এত অদ্ভুত অদ্ভুত কেন? এত বড় দলে কি মানুষের ভাষা বোঝার নেতার অভাব! যেমন এবারের রাজনৈতিক মন্ত্রী তেমনি আমলা মন্ত্রী। যেমন কাজ তেমন কথা, অদ্ভুত যত ভঙ্গি! শিক্ষাঙ্গন থেকে খলনায়ক সোহেল রানা গ্রেফতার পর্যন্ত সব দায়িত্ব নিতে হয় প্রধানমন্ত্রীকে! মন্ত্রীরা শুধু বকবেন। মানুষ শুধু ক্ষেপবে। এটাই কি তাদের কাজ? জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ দলটি স্বাধিকার, স্বাধীনতা সংগ্রামের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পথ হেঁটে সুমহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিল। প্রতিটি গণতন্ত্রের সংগ্রামে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখে দলটি গণমানুষের অধিকার আদায়ে যে ভূমিকা রেখেছিল আজকের ধুসর, বিবর্ণ চেহারা দেখলে অবিশ্বাস্য লাগে।

এমনকি '৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে পরিবার-পরিজনসহ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় জীবনে অমানিশার ঘোর অন্ধকার নামিয়ে শীর্ষ চার নেতাকে কারাগারে হত্যা করে, হাজার হাজার নেতা-কর্মীর ওপর অবর্ণনীয় জেল-জুলুম-নির্যাতন নামিয়ে রোখা যায়নি। সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন, আবদুল মালেক উকিল, তোফায়েল আহমেদসহ নেতা-কর্মীরা আবদুর রাজ্জাককে মধ্যমণি করে আদর্শবান কর্মীনির্ভর সংগঠন হিসেবে ঘুরে দাঁড় করান। '৮১ সালে এক কঠিন পরিস্থিতিতে আজকের প্রধানমন্ত্রী মুজিবকন্যা শেখ হাসিনাকে দলের নেতৃত্ব দিলে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে দেশে ফিরে এক দুঃসহ পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর '৯৬ সালে আওয়ামী লীগকে তিনি ক্ষমতায় এনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারসহ শক্তিশালী প্রাজ্ঞ গণমুখী রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে এককালের দাপুটে আমলাদের নিয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। সেই সরকারে আমলা থেকে রাজনীতিতে আসা শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও এ এইচ এস কে সাদেকের মতো মন্ত্রীরা দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখান।

রাজনৈতিক মন্ত্রীরা গণমানুষের ও দলীয় কর্মীদের আবেগ-অনুভূতি, চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুশাসন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও শেখ হাসিনার '৯৬-এর সরকার গুণে, মানে, রাষ্ট্র পরিচালনায় অনন্য সাধারণ ভূমিকা রাখে। দলের বাইরে থেকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও আ স ম আবদুর রব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছেন। সেবার সরকার ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মহাজোট তিন-চতুর্থাংশ আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করে।

সরকারের চার বছরের মাথায় এসে মন্ত্রীদের চেহারা দেখে দলের ভেতরে-বাইরে জিকির উঠছে- এই সরকার আওয়ামী লীগ সরকার নয়। কমিউনিস্ট সরকার। এককালের আদর্শচ্যুত দেউলিয়া আশ্রিত বামপন্থিদের দাপট সরকারের আত্দায় দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধকে যে দল বলেছিল, 'দুই কুকুরের কামড়াকামড়ি' ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকে জানিয়েছিল স্বাগত, সেই সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়ার নির্বাচনী এলাকা বা কর্মী না থাকলেও হয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। মন্ত্রীর চেহারা বা কাপড়-চোপড়ে ভাগ্য বদল করলেও সরকারের দিন বদলে কি ভূমিকা রেখেছেন তা দৃশ্যমান নয়।

এবারের মতো মন্ত্রী-এমপিরা '৯৬ সালে সরকারকে দফায় দফায়, পরতে পরতে বিতর্কিত করেননি। অতি কথন ও বিতর্কিত মন্তব্যে এবং ভঙ্গিমায় যারা দলের নিবেদিতপ্রাণ ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বিব্রত করেছেন এবং দেশবাসীকে সময়ে সময়ে ক্ষুব্ধ-ব্যথিত করেছেন তাদের শীর্ষে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। সর্বশেষ সাভারের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উঠে আসা সারি সারি লাশ, আহত পঙ্গুদের বিবর্ণ চেহারা ও স্বজন হারানোর বেদনায় গরিব মানুষের শোকের মাতমে গোটা বাংলাদেশ যখন শোকে মুহ্যমান এবং মুনাফালোভী ভবন ও গার্মেন্ট মালিক আর প্রশাসনের দুর্নীতিবাজদের ওপর চরম রুষ্ট, প্রধানমন্ত্রী নিজে যেখানে ব্যথিত, মর্মাহত, সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অমানবিক মন্তব্য দেশবাসীকে আরেক দফা ধাক্কা দিয়েছে। শোকে মুহ্যমান ক্রুদ্ধ মানুষ যখন ভবন ও গার্মেন্ট মালিকদের বিচারের দাবিতে ক্ষোভে ফুঁসছে সেই মুহূর্তে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বললেন, তথাকথিত হরতাল সমর্থক লোকজন কারখানা বন্ধ করার জন্য ফাটল ধরা স্তম্ভ আর ফটক ধরে টানাহেঁচড়া করেন। এর ফলে ধস হয়েছে কিনা বা ধস ত্বরান্বিত হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখতে হবে।

তার এ বক্তব্যের জন্য মহাজোটের প্রধান শরিক এরশাদ তার পদত্যাগ চেয়েছেন। দলের নেতা থেকে অন্য শরিকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবুও তিনি বহাল। অতিকথনে পারদর্শী কালো বিড়ালে খেয়ে নেওয়া দফতর হারিয়েও বিরামহীনভাবে কথা বলেই যাচ্ছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। আওয়ামী লীগের '৯৬ শাসনামলে যুক্তরাজ্যে হাইকমিশনার ছিলেন মাহমুদ আলী।

এবার গণজোয়ারে নৌকায় চড়ে সংসদে এসে শেষ বেলায় হয়েছেন দুর্যোগ মন্ত্রী। সাভারের ধ্বংসস্তূপের দিকে ছুটে গেছে গোটা বাংলাদেশ। সময়মতো যাননি এই মন্ত্রী। বাড়িঘর তালা মেরে ঈদের ছুটিতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন মন্ত্রী সাহারা খাতুন। আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রূপ ও বাচন শুনতে শুনতে মানুষ বলছেন হায় আল্লাহ! এর চেয়ে সাহারাই কত ভালো।

বাণিজ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কর্নেল (অব.) ফারুক খান কাঁচাবাজারে গিয়ে জনগণকে মোবাইল ফোন দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিকে নিয়ে জোটের শরিক দলের মন্ত্রীরাই মন্তব্য করেছিলেন, তিনি আমাদের মন্ত্রী নাকি ভারতের মন্ত্রী বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। দিল্লি যেখানে বলছিল, মনমোহনের সফরসঙ্গী হয়ে মমতা আসছেন না, তখন দীপু মনি বলেছিলেন তিনি আসছেন। তামাম দুনিয়া সফর করে দীপু মনি আলোচিত হলেও বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক '৯৬ সালের মতো উষ্ণ নয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের জন্য গোটা দেশ যখন ব্যথিত, ক্ষুব্ধ তখন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছিলেন, গরু-ছাগল চিনলেই লাইসেন্স দেওয়া যায়। নৌপথে মানুষ মরছে অথচ এই মন্ত্রী শহীদ মিনারে শ্রমিক সমাবেশ করে শাসিয়েছেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত মানুষদের। মন্ত্রিত্ব থেকে সৈয়দ আবুল হোসেনকে বিদায় করেও পদ্মার কলঙ্কের গ্লানি মুছতে পারেনি সরকার। শাহ এ এম এস কিবরিয়া যেখানে '৯৬ সরকারে শেয়ার কেলেঙ্কারির নায়কদের ত্রিসীমানায় প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেছিলেন, সেখানে এবার তাদের হাতেই শেয়ারবাজারে রিক্ত-নিঃস্ব হয়েছে ৩২ লাখ বিনিয়োগকারী। সরকারের গঠিত ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটির আলোকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দূরে থাক, উল্টো অসহায় অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেছেন, তাদের হাত অনেক বড়।

তারা প্রভাবশালী। হলমার্ক কেলেঙ্কারি এদেশের ব্যাংক ঋণ জালিয়াতিতে নতুন রেকর্ড গড়ে যেখানে দেশের মানুষকে বিক্ষুব্ধ করেছে, সেখানে অর্থমন্ত্রীর হরেক রকম মন্তব্য সরকারের ইমেজে আঁচড় বসিয়েছে। শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা, অস্ত্রবাজি, সন্ত্রাস ও আন্দোলন সময়মতো মোকাবিলা করে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বার বার ব্যর্থ হয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্য রাজনীতিতে তোলপাড় তৈরি করলেও সরকার যেন বোধহীন। প্রধানমন্ত্রী '৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যা মন্ত্রিসভা ও এমপিদের নিয়ে মোকাবিলা করেন দক্ষতার সঙ্গে।

এবার সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, মন্দির, বৌদ্ধ পল্লী আক্রান্ত হলেও মন্ত্রী-এমপিরা স্থানীয়ভাবে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা দূরে থাক, এলাকা থেকেই পালিয়ে বেড়িয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ১২ দিন পর যান এলাকায়। এবারের মতো এত বিতর্ক '৯৬ শাসনামলে আসেনি। এবারের মতো অদ্ভুত অদ্ভুত মন্ত্রী আর অদ্ভুত সব মন্তব্য অতীতে কখনো জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেনি। বিএনপি জোটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেনকে হার মানিয়েছেন মহাজোট সরকারের মন্ত্রীরা।

মাঠে-ময়দানে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা সিন্ডিকেট নিয়ে চলতে গিয়ে হয়েছেন জনবিচ্ছিন্ন। হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উঠে এসেছে বিসমিল্লাহ গ্রুপের কেলেঙ্কারি। আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী বিশাল দলে কি আজ মন্ত্রিত্বের যোগ্যতাসম্পন্ন প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের আকাল পড়েছে? না হয় হাতেনাতে কালো বিড়াল ধরা পড়ার পরও মানুষের অনুভূতিকে আমলে নিয়ে মন্ত্রী বিদায় হয় না। দফতর হারায়। পদ্মায় সরকারের ইমেজ ডুবলেও এ নিয়ে মন্ত্রীদের কথার বাহার কখনো বন্ধ ছিল না।

অর্থমন্ত্রী একেকবার একেক কথা বলেছেন। বিশ্বব্যাংক থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর নোবেল জয়ী ইউনূসকে একহাত নিতে নিতেই যেন সংসদের ভেতরে-বাইরে কেটেছে অনেক মন্ত্রীর সময়। ২. শেয়ার কেলেঙ্কারি, ব্যাংক কেলেঙ্কারির মতো ঘটনার পরও বহাল থাকেন অর্থমন্ত্রী! দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্ব গতির মুখে কম খাওয়ার উপহাস করে মন্ত্রিত্ব থাকে বহাল! গোটা দেশের বাতাস যখন সাভারের ধ্বংসস্তূপের শোকে ভারী তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্বহীন মন্তব্য করে থাকেন বহাল! দুর্যোগ মন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে সারি সারি লাশের দৃশ্য দেখেও যান না সেখানে! তবুও তিনি মন্ত্রী! গতকালও প্রধানমন্ত্রী পঙ্গু হাসপাতালে বিষণ্ন চেহারায় দাঁড়িয়েছেন আহতদের শয্যায়। পরম স্নেহে রেখেছেন আহতদের মাথায় হাত। এই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারে সরকার মরণপণ লড়াই করেছে।

সরকারকে ধন্যবাদ দিতে হয়। বুকভরা বেদনা নিয়ে অভিনন্দন দিতে হয় দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও মানুষকে। মানুষ মানুষের জন্য, জাতি হিসেবে যে আমরা হৃদয়বান তা ফের প্রমাণ করেছি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ছুটে গেছেন স্বজনহারা মানুষের মাঝে। ধ্বংসস্তূপের পাশে।

যারা ফাটল দেখার পরও শ্রমিকদের ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে এই দেশ আজ তাদের বিচার চাইছে। এখন নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সময়। এখন স্বজনহারাদের পাশে থাকার সময়। আহত, পঙ্গু ও মৃতদের পরিবারের পাশে চিকিৎসা ও আর্থিক এবং পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণের দায়ভার নেওয়ার সময়। দুর্নীতির গর্ভ থেকে যে রানারা এ ধরনের ঝুঁকিবহুল ভবন উঠিয়েছে তাদের সংখ্যা অনেক।

একটি ভয়ঙ্কর বিভৎস ধ্বংসস্তূপ একজন মুনাফালোভী রানা ও কয়েকজন গার্মেন্ট মালিককে চিহ্নিত করেছে। আরও ঝুঁকিবহুল ভবন এই নগরীতে বহাল তবিয়তে রয়েছে। যেখানে সেখানে গার্মেন্টই নয়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে। ক্যাম্পাস নেই, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তার কথা না ভেবে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। স্পেকট্রামের ঘটনা থেকে, নিমতলীর আগুন থেকে, তাজরীনের অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া মানুষের সারি সারি অঙ্গার দেহ দেখে আমরা শিক্ষা নেইনি।

সরকার, বিরোধী দল, ভবন মালিক, ব্যবসায়ী এবং এসব ভবনের যারা অনুমোদন দেন ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন কেউ দায় এড়াতে পারবেন না। দিন দিন বেড়েছে দেনা। আজ যারা শাসক তারা সমালোচনার তীরে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছেন। গতকাল যারা শাসক ছিলেন তারা তাদের সময়কালে আইন, বিধিবিধান মোতাবেক এসব ভবন তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখেননি, মনিটরও করেননি। গরিব মানুষের ভোটে প্রতিটি সরকার এলেও স্বার্থ রক্ষা করেছে মুনাফালোভীদের।

একজন গার্মেন্ট মালিকের বাড়ির গৃহপরিচারিকা যে বেতন, সুযোগ-সুবিধা পায় তার শ্রমিক তার একাংশও পায় না। যাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে বিত্তবৈভব ও বিলাসী জীবনযাপনে গা ভাসিয়েছেন তারা তাদের সেক্টরে সবচেয়ে নির্দয় বৈষম্য তৈরি করেছেন। এমন অমানবিক বৈষম্য আর কোনো ব্যবসা খাতে নেই। দেশের মানুষের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন না, দুনিয়ায়ও পোশাকশিল্পকে মুনাফা লুটতে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখোমুখি করেছেন। যারা গার্মেন্ট শ্রমিকদের হয়ে আন্দোলন করেন তাদের দিনকাল আয়েশে নিরাপদ হলেও শ্রমিকের ভাগ্য বদল হচ্ছে না।

প্রতিবাদের ভাষা কখনোই জনগণের যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল গার্মেন্টগুলোতে হামলা হতে পারে না। গার্মেন্ট শ্রমিকদের বুকের ভেতর জ্বলছে আগুন। ক্রোধের আগুন, দ্রোহের আগুন। এ সময়ে দেশের রাজনীতি যখন বিভক্ত, সংঘাতময়, অর্থনীতি যখন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি তখন বিরোধী দলকেও গণমানুষের অনুভূতি লালন করে হাঁটতে হবে। যারা হরতাল ডেকেছেন তা প্রত্যাহার করা উচিত।

সাভার ধ্বংসস্তূপের খলনায়ক সোহেল রানা গ্রেফতার হয়েছেন। গার্মেন্ট মালিকরা আত্দসমর্পণ করছেন। এই ভবন নির্মাণের অনুমতিদানসহ দেখভালের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদেরও গ্রেফতার করে আনতে হবে। সোহেল রানাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে সরকারের সদিচ্ছা প্রমাণ হয়েছে। মুনাফালোভীদের কাছ থেকে যারা খেয়েপরে নাদুসনুদুস হয়েছেন তারা তাদের বাঁচাতেই চাইবেন।

তাই বলে এত মানুষের জীবনের বিনিময়ে এই হত্যাকারীরা পার পেতে পারে না। আমাদের বিশ্বাস তারা পার পাবেন না। মন্ত্রীদের কথা-আচরণে যেমন সতর্ক হতে হবে, তেমনি সরকারকে 'আইন সবার জন্য সমান' এটি নিশ্চিত করতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। এবার সেটি প্রমাণের পালা।

বিরোধী দলকেও রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার পথে নয়, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে হাঁটতে হবে। বিজিএমইএকে আজ অগি্নপরীক্ষা দিতে হবে। আজ জনগণ জেগে উঠেছে। সরকারকেও আইন বিধিবিধানের সংস্কার করতে হবে এখনই। রাজনীতি ও প্রশাসনকে দুর্নীতির কলঙ্কের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতেই হবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে সংকলিত ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.