আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

'মফিজ' পলাশের প্রথম চট্টগ্রাম ভ্রমণ এবং চট্টগ্রাম শহরে মহিলা ডাক্তার বেশী হওয়ার রহস্যময় কারণ

ভাগাড়ের তেলাপোকা চলল সমুদ্র দেখতে আমার বন্ধু পলাশের সাথে পরিচয় ফোনে, অন্য এক বন্ধু লালনের মধ্যমে। পলাশের বাড়ী রংপুর। বছর পনেরো আগে তার একবার হঠাৎ শখ হল চট্টগ্রামে বেড়াতে আসবে,আমার বাসায়। তার এলাকার মানুষকে তখন 'মফিজ' নাম দিয়ে ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে । মফিজের ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে পলাশ একদিন চলে এল চট্টগ্রামে।

আমি তাকে আনতে স্টেশনে গেলাম । গায়ে ক্যাটক্যাটে মেজেন্টা রংয়ের একটা সোয়েটারপরা ছেলেকে দেখেই চিনে ফেল্লাম, এইটাই পলাশ। আমার ধারণাকে আরেকটু দৃঢ় করার জন্যই হয়তো, হঠাৎ হড় হড় করে রাস্তায় বমি করে দিল ছেলেটা । যাই হোক, ওকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে গেলাম । তারপর হাতমুখ ধুইয়ে খেতে বসলাম দু'জনে।

পলাশের রংপুরের বাইরে এইটাই প্রথম ট্যুর । তাই সবকিছুতেই কেমন যেন মজা পেতে লাগল । চট্টগ্রামের মানুষে চা দিয়ে তেলে ভাজা পরটা খাওয়ার একটা ইউনিক অভ্যাস আছে। লোকের এই কান্ড দেখেতো ও হাসতে হাসতেই শেষ। শুধু হাসলে সমস্যা ছিল না, হঠাৎ দেখি তার আধ ভাংগা ইয়াশিকা ক্যামেরা দিয়ে পাশের একজনের পরটা-রসিকের ছবি তুলে ফেল্ল, এলাকার লোকজনকে এই অভাবনিয় ব্যাপার দেখাবে বলে! আমি আর বেশীদূর এগোতে দিলাম না।

সেদিন বিকালে ওকে নিয়ে গেলাম পতেংগা সী বীচে । পলাশের প্রথম সমুদ্র দর্শন । দেখি, হাতে করে কয়েকটা মাম এর বোতল নিয়ে এসেছে । সাগরের পানি গায়ে মাখলে নাকি খোস-পাঁচড়া ভাল হয়ে যায় । তাই জনদরদী পলাশ এলাকার লোকজনের জন্য সাগরের পানি নিয়ে যাবে ।

পরেরদিন সকালে গেলাম ফয়'স লেক । এইখানে এসেই অঘটন ঘটালো। হঠাৎ কী শখ হল তার, হেঁড়ে গলায় গান গাইতে লাগল চেঁচিয়ে 'লাল শাড়ীরে, নিশি রাইতে যাইও বন্ধু লাল শাড়ীরে' । হঠাৎ দেখী দুইটা ছেলে ওর কলার ধরে ঝাঁকাচ্ছে । ঘটনা বুঝহতে একটু সময় লাগল।

পরে বুঝলাম, ঐ ছেলেদের সাথে তাদের দুই 'তালত বোন' বেড়াতে এসেছে, ওদের একজনের পরণে আবার লাল জামা। তাই নায়ক সাজার এই দুর্লভ সুযোগ তারা মিস করতে চায়নি। যাই হোক, অনেক কষ্টে ঝামেলাটা মেটালাম, বড় কোন দুর্যোগ ছাড়াই। কিন্তু সেদিন কপালে খারাপিই ছিল । আমরা দুজন পাহাড় বেয়ে উপরে উঠলাম ।

উপরে উঠেই পলাশের পেচ্ছাপ পেয়ে গেল। পাহাড়ের উপর থেকে সে একটা ঝোপ টার্গেট করে পেচ্ছাপ করতে লাগল। অর্ধেক কাজ সেরেছে কী সারেনি, দেখি ঝপের আড়াল থেকে হই হই করতে করতে বেরিয়ে এল একজোড়া কপোত-কপোতি। ওয়াটার সাপ্লাই সেখানে থামিয়ে দিয়ে আমরা দুজন আবার ছুটতে শুরু করলাম প্রাণপনে। সেদিনের মত পালিয়ে বেঁচেছিলাম, ভাগ্যিস।

এরপর আরো কয়েকদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘোরা হয়েছিল, বান্দরবানেও গিয়েছিলাম। আমার নিষেধ না শুনে বাংলা মদ গিলে পলাশের কী হাল হয়েছিল, কীভাবে পলাশ একটা মারমা মেয়েকে পটিয়ে ফেলেছিল- সেইসব বলতে গেলে একটা উপন্যাস হয়ে যাবে। তবে পলাশ ফিরে যাবার আগে এখটা রহস্যময় ব্যাপার আবিষ্কার করল। চট্টগ্রাম শহরে মহিলা ডাক্তারের সংখ্যা অত্যান্ত বেশী। অলিতে-গলিতে, রাস্তায়-পার্কে, সবখানেই মহিলা ডাক্তার ।

ব্যাপারটা প্রঠমে ধরতে পারিনি। পরে বুঝলাম। চট্টগ্রামের সব কলেজে মেয়েদের পোষাক হল জামার ওপর একটা সাদা অ্যাপ্রন। পলাশ ওদেরকেই ভেবে বসে আছে মহিলা ডাক্তার। (কাউকে হেয় করার জন্য তুচ্ছার্থে এখানে 'মফিজ' কথাটি ব্যভার করা হয়নি)  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।