আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হেমন্তের উত্তরবঙ্গ

Never lose hope...., Never Stop Expedition.... চতুর্থ পর্বঃ কবি ও শিক্ষক .....প্রথমাংশ শীতের আগমনীবার্তা নিয়ে ৬ নভেম্বরের কুয়াশাঘেরা ভোর হাজির হলো। ০৬:৩৭ মিনিটে আবার মহাসড়কে নেমে পড়লাম। যতই দিন যেতে লাগলো আমি ততই সকাল সকাল যাত্রা শুরু করতে পারছিলাম। ইচ্ছা করলে সময়টা আরও এগিয়ে নিয়ে আসতে পারতাম। কিন্তু ভাতকুড়া জামে মসজিদে বেশ সময় নিয়ে কিছু কাজ সারলাম।

তার উপর মুয়াজ্জিন সাহেব মসজিদ প্রাঙ্গণে লাগানো পেঁপে গাছের বৃদ্ধি ও তার ফলন সম্পর্কে আমার বিশেষজ্ঞ মতামত চাইলেন। জিন প্রকৌশলের কিতাবে এ ব্যাপারে কি বলা আছে তা জানতে চাইলেন। আমিও বিশেষজ্ঞের (অর্থাৎ বিশেষভাবে অজ্ঞ যিনি) মত পেঁপের কৌলিতত্ত্ব নিয়ে বাঙালি জাতির অবদান আর তৎসংশ্লিষ্ট আরও কিছু পুঁথিগত বিদ্যা ঝাড়লাম। তবে একটা বিষয়ে আমার খটকা লাগলো। মাটিতে প্রচুর ইটের কণা ছিল।

আমার মনে হলো এটাই পেঁপের ফলনের পথে অন্যতম অন্তরায়। তবে যে বিষয়ে যত কম জানি তার সম্পর্কে তত অল্প বলাই উত্তম। তাই আর কথা না বাড়িয়ে বের হয়ে আসলাম। ০৬:৫০ মিনিটে তারটিয়া বাজারে নাস্তা করলাম। সেখানে বার মিনিটের মত ছিলাম।

০৭:০৪ মিনিটে দিনের প্রথম কিলোমিটার পোস্ট আমাকে অবহিত করলো যে আমার গুরুত্বহীন জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আর মাত্র ২৮ কিলোমিটার দূরেই ঘটতে যাচ্ছে। প্রকৃতির একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে। জীবনের রঙ্গমঞ্চে সে যখন এক ঘটনা থেকে অন্য ঘটনার দৃশ্যায়ন করে তখন এক সূক্ষ্ম প্রভাবক পরিবর্তনের নিয়ন্তা হয়ে কাজ করে। আমি যখন ভাতকুড়ার ঐ মসজিদে ছিলাম তখন সারারাত ধরে ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম। রাত গভীর থেকে গভীরতর হলো, কিন্তু ঘুম হলো না।

একসময় রাত শেষ হয়ে ভোর আসলো। এটা প্রকৃতির একটা ক্রান্তিলগ্ন। সময়ের কালান্তর। তারটিয়া বাজারে নাস্তা করে যখন আবার মহাসড়কে নামলাম তখন প্রকৃতির ভোর থেকে সকালে রূপান্তর আমার চোখে পড়লো। যা আগেও আমি দেখেছি।

কিন্তু দেখিনি সেই প্রভাবককে যে এই রূপান্তরের নিয়ন্তা। এটা স্থান-কাল-পাত্র ও ব্যক্তিত্বভেদে পরিবর্তনশীল কিন্তু অস্তিত্বে ধ্রুব। আমি তাকে দেখলাম মহাসড়কের এক সূক্ষ্ম বাঁকের মাঝে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে একটা রাস্তা সোজা চলে গেছে। সেই রাস্তা ধরলে টাঙ্গাইল সদরে যাওয়া যেত।

কিন্তু আমি ডানে বাঁক নেওয়া মহাসড়ককে বেছে নিলাম। আর এই বাঁক ঘুরতে ঘুরতেই আমার মনে হলো এই বুঝি ভোর শেষ হয়ে সকাল এলো। এরকম বোধ বোধ করি সবার হবার সৌভাগ্য হয় না। বাঁকের ধারে ডানদিকে ছিল রবি’র (সাবেক একটেল) একটা বড়সড় বিলবোর্ড। হেমন্তের উজ্জ্বল হলদে সূর্যের অবিরত কিরণচ্ছটা যেন সেই বিলবোর্ডে আছড়ে পড়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছিলো।

রাস্তার বাঁদিকে টাঙ্গাইল টেকনিক্যাল ইন্সিটিউট (TTI) আর দূর পশ্চিমে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেখলাম। সব মিলিয়ে আজকের পরিবেশটাও ছিল নিঃসঙ্গ পথিকের নিস্তরঙ্গ পথচলার এক অসাধারণ বন্ধু। কেউ যদি এই বিমূর্ত অভিজ্ঞতা লাভ করতে চান তাহলে তাকে কোনো এক হেমন্তের ভোরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে যেতে হবে। সকাল আটটার কিছু আগে রাস্তার উপর একটা কুকুর মরে পড়ে থাকতে দেখলাম। তাজা রক্তের ধারা আর উপড়ানো ডান চোখ দেখে বুঝতে পারলাম বেচারা হয়তো কিছুক্ষণ আগেও আমার মত প্রকৃতির ক্রান্তিলগ্নের সৌন্দর্য বোঝার চেষ্টায় ছিল।

মনটা দুঃখে ছেয়ে গেলো। যেদিন থেকে আমি এরকম মহাসড়ক অভিযানে বের হয়েছি সেদিন থেকেই মৃত্যু আমার পিছে আঠার মতো লেগে আছে। হয়তো নিজে মরতে মরতে বেঁচে গেছি নয়তো অন্য কাউকে মরে পড়ে থাকতে দেখেছি। প্রথম প্রথম সেইসব দৃশ্য দেখে ভয় লাগতো। কিন্তু আজ দুঃখ ছাড়া আর কিছু অনুভূত হলো না।

সকাল ০৮:২৬ মিনিটে দিনের ষষ্ঠ কিলোমিটার পোস্ট জানিয়ে দিয়ে গেলো যে ঐতিহাসিক যমুনা সেতু থেকে আমি আর ২২ কিলোমিটার দূরে আছি। এর মিনিট পাঁচেক পর টাঙ্গাইল-রাবনা বাইপাসে এসে পৌঁছলাম। এখান থেকে মহাসড়ক আবার ডানে বেঁকে গেছে। আর বাঁদিকে একটা রাস্তা বের হয়ে টাঙ্গাইল সদরে গিয়ে মিলেছে। আমার ইচ্ছা ছিল টাঙ্গাইল শহরটা একটু ঘুরে দেখবার।

টাঙ্গাইল হলো বহুগুণে গুণান্বিত এক ঐতিহ্যবাহী জেলা। বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলার সব কিছু সদর ও তার আশেপাশে কেন্দ্রীভূত থাকে। কিন্তু অল্প কিছু জেলার মতো টাঙ্গাইল এর ব্যতিক্রম। এর আগাগোড়া ঐতিহ্যমণ্ডিত। যাহোক আমি আমার পথেই হাঁটতে লাগলাম।

টাঙ্গাইল শহর আর দেখা হলো না। পৃথিবীতে সুখ কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। হলে তো আর বেহেশতের দরকার ছিল না। ০৮:৩৯ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রাবনাস্থ মাইক্রোওয়েভ স্টেশনকে (বাঁদিকে রেখে) পাশ কাটানোর সময়ও টের পাইনি সামনে আমার জন্য অপেক্ষা করছে সমগ্র উত্তরবঙ্গের জঘন্যতম (সম্ভবত) মহাসড়ক। কথাটা ঠিক ঐ সময়ের জন্য প্রযোজ্য।

এখন অবশ্য মাননীয় সরকারের সৌজন্যে প্রায় সব সড়কই সমমানে উন্নীত হয়েছে। ওনারা এখন নদীর (আমি তিতাস নদীর কথা বলছি) মাঝখান দিয়ে অত্যাধুনিক সড়ক নির্মাণে মহাব্যস্ত। যাহোক রাস্তাটা এমন বাজে ছিল যে কেবলই মনে হচ্ছিলো পাহাড় ট্রেকিংয়ের ট্রেনিং আমি এখনই নিচ্ছি। সাথে রাস্তার পাশে ছিল প্রাগৈতিহাসিক যুগের কিছু কিলোমিটার পোস্ট। এরই মধ্যে ০৯:০৯ মিনিটে কালিহাতী উপজেলায় প্রবেশ করলাম।

মহাসড়কের এরকম উটকো যন্ত্রণায় সময়মত অনেক কিছুই ক্রনিকলে তুলতে পারিনি। এই যেমন রাস্তার ডানদিকে সমান্তরালে চলে যাওয়া রেলপথের ব্যাপারটা। একে আমি অনেক আগেই দেখেছিলাম। কিন্তু এরকম পাহাড় (!) বেয়ে একবার উঠলে আর নামলে লিখবো কি করে! ০৯:২২ মিনিটে পুংলি সেতু পার হলাম। অদ্ভুত সুন্দর নদীর নাম- পুংলি।

এর মিনিট দশেক পর একটা ট্রেন দেখলাম যমুনা সেতু থেকে আসছিলো। এক সময় বুঝতে পারলাম এভাবে কৌশলতত্ত্ব অনুযায়ী বাঁদিক ধরে হাঁটতে থাকলে হয় বিরক্ত চালকের গাড়ির ধাক্কায় অকালে প্রাণটা যাবে নয়তো ঠ্যাং ভেঙে বসে থাকতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে ০৯:৪৪ মিনিটে ট্র্যাক পরিবর্তন করলাম। তবে বেশিক্ষণ আমাকে ডানদিকে হাঁটতে হলো না। মিনিট ছয়েক পরেই আমি এলেঙ্গা হাইওয়ে রোড বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলাম।

রাবনা বাইপাস আমার জন্য মহাবিরক্তির কারণ হলেও রাস্তাটা ছিল ছায়াঘেরা, সুশীতল ও মনোরম। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এসে চলমান একটা বিশ্রাম নিলাম। অর্থাৎ বিশ্রামও করছিলাম আবার হেঁটে হেঁটে চারপাশটা ভালোভাবে দেখেও নিচ্ছিলাম। এখানে বেশ কয়েকটা ফিলিং স্টেশন চোখে পড়লো। লক্ষণীয় ছিল মহাসড়কের বাঁদিকে খানিকটা দূরে সারি সারি দোকান।

সবাই যার যার ধান্দা নিয়ে ব্যস্ত। এইসব জায়গায় মানুষ এমনই হয়ে যায়। গ্রামের যে সহজ-সরল শ্মশ্রুমণ্ডিত বৃদ্ধ অপার্থিব চিন্তায় চিরসুখী, এই যান্ত্রিক নিরস পরিবেশে এসে সেই মানুষটিই বৈষয়িক ফিকিরের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিষ্ঠুর আচরণে বাধ্য হয়। আমাকে অবশ্য সামনাসামনি এগুলো দেখতে হয়নি। পুরো একুশ মিনিটের পর্যবেক্ষণে এরকম ধারণা জন্মে।

মানুষের পরিবর্তনশীল ব্যক্তিত্ব এক বৃদ্ধের আদলে দেখার চেষ্টা আর কি। এলেঙ্গা বাজার রাস্তা থেকে বাঁদিকে বেশ খানিকটা ভিতরে। আমি সেখানে যাইনি। সকাল ১০:১৮ মিনিটে বঙ্গবন্ধু সেতু (পূর্বতন যমুনা সেতু)–র Extension area-তে প্রবেশ করলাম। একে ইংরেজিতে Approach road বলে।

অল্প কিছুক্ষণ বাদে এলেঙ্গা রিসোর্ট চোখে পড়লো। এর ঠিক দুই মিনিট পর (১০:২২ মিনিটে) সড়ক দুভাগে ভাগ হয়ে গেলো। ডানদিকের রাস্তাটা কালিহাতী, মধুপুর, ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট ও গলফ ক্লাব, জামালপুর এবং ময়মনসিংহে চলে গেছে। মোটামুটি এলাহিকাণ্ড। তিন তিনটা স্থান নির্দেশক বিলবোর্ড বসানো ছিল ঐ জায়গায়।

আর আমি যমুনা অভিমুখে হাঁটতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পরে বাঁদিক দিয়ে একটা রাস্তা এসে আবার ডানে চলে গেলো। এটি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে চলে গেছে। সেতুর Approach road–টিকে এক কথায় Express highway বলা যায়। এই রোডে গাড়ি থামে না বললেই চলে।

চালকরাও মনে হয় এখানটাতে গাড়ি চালিয়ে মজা পান। উল্কাবেগে একেকটা গাড়ি আমাকে পাশ কাটাচ্ছিল। আর যাবার সময় একগাদা ধুলাবালি উপহার দিয়ে যাচ্ছিলো। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বানানো এই সড়কের ভাবই আলাদা। ডানদিক ঘেঁষে ব্রডগেজ রেলওয়ে।

এরকম প্রায় জনমানবহীন রাস্তায় হেঁটে যাওয়া যেখানে চালক ইচ্ছা করলেই যা খুশি তাই করতে পারে। কেউ কেউ আবার একফুট দূর দিয়েও গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলো। লিখতে গিয়ে আমার এখন অবাক লাগছে এই ভেবে যে একেকটা গাড়ি পাশ কাটিয়ে যখন চলে যাচ্ছিলো তখন কেন একবিন্দুও ভয় পাইনি! আমি তো নিজেকে এতো সাহসী ভাবি না। ভাবার অবশ্য কোনো কারণ নেই। কিন্তু কোন সেই শক্তি, কোথাকার সেই উদ্যম, কার সেই প্রেরণা যা আমাকে স্বভাববিরুদ্ধ কাজ করতে উদ্ভুদ্ধ করেছিলো।

আমি জানি না। হয়তো এটাই জীবনের কোনো সূক্ষ্ম বাঁক, অদৃশ্য নিয়ন্তা। এরকম রাস্তায় কেউ বিশ্রাম নেওয়ার জন্য থামে না। এখানে টানা হাঁটার মধ্যে এক রকম আনন্দ আছে। চট্টগ্রাম ট্যুরেও আমি এরকম এক পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের অপার সৌন্দর্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। পায়ের অসহ্য যন্ত্রণা জাদুর মতো উধাও হয়ে গিয়েছিলো। উল্কাবেগে অবিরাম হাঁটছিলাম। পরে এর জন্য বড়সড় একটা খেসারত দিতে হয়েছিলো। এর বিস্তারিত আমি আমার চট্টগ্রাম ট্যুরের কাহিনিতে লিখবো, ইনশাল্লাহ্।

অতীতের ভুল থেকে যে শিক্ষা নেয় ভবিষ্যতে তার হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই আমি বিশ্রাম নেওয়ার জন্য ঘন ঘন থামলাম। প্রথমবার ধোলাটাঙ্গর নামক স্থানে। তখন বাজে বেলা ১১:০৫ মিনিট। এখানে নয় মিনিটের মতো বসে ছিলাম।

জায়গাটা এতো সুন্দর আর নির্জন ছিল যে টানা নয় ঘণ্টা বসে থাকলেও খারাপ লাগার কথা না। পথে একটা কিলোমিটার পোস্ট দেখলাম। এক পিঠে পাবনা ১৩৭ আর ঢাকা ১১০ তার অন্য পিঠে। সেতু এলাকার কিলোমিটার পোস্টগুলি বেশ নাদুসনুদুস, হৃষ্টপুষ্ট। ১১:৩২ মিনিটে ট্র্যাক থেকে নেমে পড়লাম।

উদ্দেশ্য- একটা বিদ্যালয় পরিদর্শন ও বোতলে পানি ভর্তিকরণ। ট্র্যাক থেকে বাঁদিকে কিছুটা ভিতরে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টির নাম আনালিয়া রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওখানকার ছেলে-মেয়েরা চিড়িয়া দেখার মতো করে আমাকে দেখছিলো। স্কুলের চাপকল থেকে পানি ভরে আমি গেলাম প্রধান শিক্ষকের অফিসে। অত্যন্ত সজ্জন মানুষ।

ওনাকে এমনিই জিজ্ঞাসা করলাম যে আমি পায়ে হেঁটে যমুনা সেতু পার হতে পারবো কিনা। উনি বললেন, পায়ে হেঁটে যাবে কেন? সেতুর আগে একটা বাসে উঠে ওপারে চলে যাও, তাহলেই তো হয়। আমি বললাম যে স্যার, আমি সমস্ত পথ পায়ে হেঁটে এসেছি, বাকি পথও যাব পায়ে হেঁটে। তাই সেতুর উপরও আমাকে হাঁটতে হবে। এর অন্য কোনো বিকল্প নেই।

উনি বললেন, কেন বিকল্প থাকবে না! তুমি বাসে উঠে চলে যাও। দশ টাকা ভাড়া নিবে। বেশি না। আমি আবারো ওনাকে বেশ শান্তভাবে হাসিমুখে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। যখন বিদায় নিয়ে চলে আসবো তখন উনি আমাকে আশীর্বাদ করে বললেন, সেতুর আগে বাস পাওয়া যায়।

দশ টাকা নেয়। একটা কৌতুক দিয়ে প্যারাটা শেষ করি। আমার খুব প্রিয় কৌতুক। বাবাঃ সোনা, তুমি বড় হয়ে কি করবে? ছেলেঃ বাবা, আমি বড় হয়ে দোকানে যাবো; তারপর দোকান থেকে গুলতি কিনে পাখি মারবো। বাবাঃ না।

তুমি তা করতে পারো না। তুমি বড় হয়ে লেখাপড়া করবে। এখন বলো তো তুমি বড় হয়ে কি করবে? ছেলেঃ আমি বড় হয়ে লেখাপড়া করবো। তারপর দোকানে গিয়ে গুলতি কিনে পাখি মারবো। বাবাঃ না।

তুমি লেখাপড়া করে ভালো একটা চাকরি করবে, বিয়ে করে সংসার করবে। কি বুঝেছ? ছেলেঃ হ্যাঁ, বুঝেছি। আমি লেখাপড়া করে ভালো একটা চাকরি করবো, বিয়ে করে সংসার করবো। তারপর আমি দোকানে যাবো। গুলতি কিনে পাখি মারবো।

বাবাঃ (রেগে গিয়ে) না। তুমি সারাজীবন ভালোভাবে চলবে। একসময় তুমি বৃদ্ধ হবে। তখন চাকরি থেকে অবসর নিয়ে সুখে-শান্তিতে বাকি জীবনটা কাটাবে। বেশি বেশি আল্লাহ্‌কে ডাকবে।

কি বলেছি বুঝেছ? ছেলেঃ বেশ বুঝেছি, বাবা। আমি সারাজীবন ভালোভাবে চলবো। একসময় বৃদ্ধ হবো। চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বাকি জীবন সুখে-শান্তিতে কাটাবো। বেশি বেশি আল্লাহ্‌কে ডাকবো।

তারপর আমি দোকানে যাবো ............... বি: দ্র: এখানে বর্ণিত প্রতিটি ঘটনা সম্পূর্ণ সত্য। (চলবে......... হেমন্তের উত্তরবঙ্গ প্রথম পর্বঃ অভিযাত্রিক হেমন্তের উত্তরবঙ্গ দ্বিতীয় পর্বঃ বিষণ্ণ গোধূলি হেমন্তের উত্তরবঙ্গ তৃতীয় পর্বঃ কৌশলতত্ত্ব Never lose hope...., Never stop expedition.... ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।