আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিবেকের হুলিয়া

ট্রুথ নট সেইড টুডে, কুড টার্ন টু আ লাই টুমোরো জনাব সিরাজী, সালাম নিবেন। আজ পত্রিকায় আপনার নামে দূর্নীতি দমন কমিশনের ১১টি মামলার কথা জানতে পেরেছি। বেশ হয়েছে। কি দরকার ছিল আপনার? কি দরকার ছিল সরকারের তাবত মাথাওয়ালা রাঘব বোয়ালদের সাথে পাঙ্গা নেবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ভয়াবহ ইতিহাস না জানলে কারো কিছু ক্ষতি হতো? অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন ঐ টাকা ‘কিছুই না’... আপনিও অমন কিছু ভেবে নিয়ে চেপে যেতেন।

রোজ গাড়িতে করে বাড়ি ফিরতেন। রুই মাছের মাথা দিয়ে লাঞ্চ সারতেন। সরকারের নেক নজরে পড়লে জোষ্ঠ্যতা মত প্রমোশনও পেতেন। এখন সামলান হ্যাপা। আপনি কি ভেবেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টার জোগসাজোগ খুজে পাবে দুদক? উনিতো ‘এলাকার মেয়ে’ মেহেরুন্নেসা মেরীর সাথে শহীদ বুদ্ধিজীবি ডা. ফজলে রাব্বিকে নিয়ে একটা বই লিখছিলেন।

তাই হয়তো ঘন ঘন দেখা করতেন। যদিও ডা. ফজলে রাব্বিকে নিয়ে মেরীর লেখা দুটি বই প্রকাশিত হয়ে গেছে বহু বছর আগেই। তৃতীয় কোন বই হয়তো লিখছিলেন। কিংবা সোনালী ব্যাঙ্কের পরিচালনা পর্ষদকে দেখে নিবেন ভেবেছিলেন? হাসালেন। আপনি কি ভেবেছিলেন সোনালী ব্যাঙ্কের পরিচালনা পর্ষদের সাথে হলমার্কের দহরম মহরম খুজে পাবে দুদক? যারা সুরঞ্জিত সেনের ৭৪ লক্ষ টাকার কালো বিড়াল খুজে পায় নি।

বা, সুরঞ্জিত পূত্রের ৬০হাজার টাকা মাসিক মাইনের সাথে ৫ কোটি টাকার টেলিকম গেটওয়ে লাইসেন্স প্রাপ্তির মাঝেও কোন অসামঞ্জস্য খুজে পায় নি ওরা। বারবার বদলি করেছে ওরা আপনাকে বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। কি মারাত্মক ভূল আপনি করেছেন। এবার ওরা আপনাকে বদলি করবে জেলের কোন অন্ধকার সেলে। নিরীক্ষা রিপোর্টে আপনার দোষ খুজে পেয়ে দায়ী করা হয়নি কোথাও, কিন্তু আপনি ১১টি মামলার আসামী।

বাংলার বিষাক্ত বাতাসে আপনি বিবেকের মতো ভয়ংকর সংক্রামক রোগ নিয়ে ঘুরছেন। রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই আপনাকে কয়েদ করা দরকার। রিমান্ডে নিয়ে আপনার শরীরের গিটে গিটে ঝালাই করে বুঝিয়ে দেয়া দরকার, সত্য কথা বলা কি ভয়ংকর অপরাধ এদেশে। আমার এক ফেইসবুক বন্ধু কুঙ্গ থাঙ জানালো, সর্ষের মধ্যে এখন আর ভূত থাকে না। আজকাল ভূতেরাই সর্ষের চাষ করছে।

এই সমাজে ভালোমানুষ শব্দটা বোকামানুষ দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়ে গেছে কখন, কেউ খেয়াল করেনি। আপনি মাথায় হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে যান। কানাডা, অস্ট্রালিয়া, সুইডেন কিংবা দূরে কোথাও। হয়তো এয়ারপোর্টে ওরা চিনে ফেলবে আপনাকে। ‘নো ফ্লাই’ লিস্টে ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের সাথে আপনার নাম হয়তো চলে এসেছে।

থাক তাহলে, দেশেই কোথাও লুকিয়ে থাকেন। সুরঞ্জিত সাহেবের ড্রাইভার আজম যেমন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, মাসের পর মাস। ধরা দিলে হয়তো শীতলক্ষ্যার পানি দুষিত করতো তার শরীর। পালিয়ে গিয়ে আজম ভালোই করেছে। আমি জানি, নবাব সিরাজৌদ্দলাকে যেমন আশ্রয় দিয়েছিল অভাবী গ্রামের দরিদ্র কৃষক।

আপনাকেও ওরা লুকিয়ে রাখবে পরম যন্তে। রাজ্য আর সুইস একাউন্ট হারালে খালেদা হাসিনাকে হয়তো ওমন কোন বাড়িতে আশ্রয় নিতে হবে। কিন্তু তারা কি পানি পাবে কারো কাছে? আপনি পাবেন নিশ্চিত। অনেক বছর পর ফিরবেন নিজের বাড়িতে। যেমন ফিরতে চাচ্ছে ড্রাইভার আজম।

স্ত্রী-পুত্রকে দেখবেন। কিন্তু উতলা হবেন না। আপাতত পালিয়ে যান। বিবেকের মতো ভয়ংকর রোগের জীবাণু ছড়িয়ে দিন ৫৬ হাজার বর্গমাইলে। ভালো থাকবেন।

ইতি - হতভাগ্য বাঙ্গাল --------------------------------------------------- লেখাটি ফেইসবুকে বাঙ্গাল পেজের ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।