আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বৈমানিক যারা হতে পারেননি তাদের জন্য

(এই পোস্ট শুধু তাদের জন্য যারা যারা শখ থাকা সত্তেও সামর্থের অভাবে পাইলট হবার সপ্ন ত্যাগ করেছেন,কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে ভেবে উঠেন)। (এই পোস্ট শুধু তাদের জন্য যারা যারা শখ থাকা সত্তেও সামর্থের অভাবে পাইলট হবার সপ্ন ত্যাগ করেছেন,কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে ভেবে উঠেন)। শৈশবে বৈমানিক হয়ে আকাশে উড়বার সপ্ন ছিলনা এমন লোক হাতে গোনা। তবে যারা পেপার পত্রিকা নিয়মিত পড়ে বা দুনিয়াদারির খজখবর রাখে তাদের বৈমানিক হতে কি কি করা লাগে এ ব্যাপারে যথেষ্ট জ্ঞান আছে। তাই আজকে আমার পোস্ট তাদের জন্য যারা শখ থাকা সত্তেও সামর্থের অভাবে আকাশে উড়বার আশা ত্যাগ করেছেন বা মাটি চাপা দিয়ে বসে আছেন।

বৈমানিক দুই মাধ্যমে হওয়া যায়। ১। সামরিক বৈমানিক(মিলিটারি/এয়ারফোর্স পাইলট) ২। বেসামরিক বৈমানিক(সিভিল এভিয়েটর) এদের মধ্যে এয়ারফোর্স এ যাবার জন্য কিছু ম্যান্ডেটরি রিকোয়ারমেন্টস আছে যা হল- ১। নির্দিষ্ট বয়সসীমা(অনূর্ধ ২১) ২।

সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ড(ম্যাথ+ফিজিক্স) ৩। (মিলিটারি+এভিয়েশন)স্টান্ডার্ড মেডিক্যাল ফিটনেস, ৪। একজন সামরিক অফিসার হতে যা যা লাগে(কমন ফর আর্মি/নেভী/এয়ারফোর্স) যাই হোক,মিলিটারি এভিয়েশন আমাদের বিষয়বস্তু না, আমাদের সাব্জেক্ট সিভিল এভিয়েশন। সিভিল এভিয়েশন এ যে রিকোয়ারমেন্টস লাগে তা হল – ১। সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ড, ২।

মেডিক্যাল ফিটনেস এর মধ্যে মেডিক্যাল ফিটনেস মিলিটারি থেকে একটু ভিন্ন। যেমন একজন মিলিটারির হাত পা সব ই ফিট থাকা লাগবে কিন্তু একজন সিভিল এর তা লাগবেনা না। কারন প্লেন চালাতে পা লাগেনা। অর্থাত মিলিটারি মেডিক্যাল ফিটনেস হল একটি কমপ্লিট মিলিটারি অফিসার+পাইলট এর ফিটনেস। বিপরীতে সিভিল পাইলট এর লাগে ওনলি প্লেন চালাতে যা যা লাগে তার মেডিক্যাল ফিটনেস।

ইভেন সে যদি ববি ডারলিং ও হয়। এবার আসল টপিক। সপ্ন থাকা সত্তেও মানুষ সাধারনত ৩টি কারনে বৈমানিক হতে চেয়েও আশা ফিরিয়ে নেয়। ১। আর্থিক অপর্যাপ্ততা/অক্ষমতা অর্থাৎ মা-বাবার প্রয়োজনীয় টাকা না থাকা।

২। পর্যাপ্ত টাকা থাকার পরও সময়মত এই এম্বিনেশন না থাকার কারনে মেট্রিক/ইন্টারমিডিয়েট এ সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকা। ৩। মেডিক্যাল আনফিটনেস। এদের মধ্যে ৩ নং কারন-মেডিক্যাল আনফিটনেস এর ব্যাপারে আপাতত কিছু বলার নাই।

কিন্তু বাকী দুইটা কারন এর কিন্তু রিকভারি আছে। ১ নং প্রবলেম-প্রয়োজনীয় অর্থ- ধর যাক আপনার কোর্স করার অর্থ আপনি বাবা-মার কাছ থেকে পাচ্ছেন না। তাই বলে কি আপনি আশা ছেড়ে দিবেন। না আশা না ছাড়াটা যে বোকামি বা আকাশকুসুম কল্পনা তা না। দুইটি পয়েন্ট যা আপনার জোর করে ঘুম পাড়ানো সপ্নকে বাস্তবিক অর্থেই আবারো জাগিয়ে তুলতে পারে।

১। ফ্লাইং কোর্স এ ভর্তি হবার ক্ষেত্রে, এয়ারফোর্স এ জয়েন করা অথবা মেডিক্যাল,ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হবার মত কোন এজ লিমিট নেই। ২। ফ্লাইং কোর্স অধিকাংশ ক্ষেত্রে(গুটিকয়েক বাদে) ওপেন ক্রেডিট সিস্টেম। ইচ্ছা করলে ৪/৫/৬ বছর ধরেও কম্পলিট করতে পারেন।

বিশ্লেষনঃ ১নং- এক্ষেত্রে সুবিধা হল,আপনার ক্যারিয়ার টাকার অভাবে অন্যদিকে ঘুরে গেছে তার মানে এই না আপনি আশা পুরাপুরি ত্যাগ করে আপনার ভবিষয়ত ছেলের ফ্লাইং কোর্সের টাকা জমানো শুরু করবেন। আপনি আজ ২০/২২ বছরে কোর্স ধরতে পারেন নি তো কি হয়েছে? আপনার বয়স ২৫-৩০-৩৫-৪০-৪৫? নো প্রব্লেম!আফটার অল ইট ইজ সিভিল এভিয়েশন(নট মিলিটারি)। এই বয়সেও আপনি সপ্ন পূরনের লক্ষে কাজ করতে পারেন। আফটার অল মানুষের জীবন তো একটাই ,সব সপ্ন পুরন করা চাই। ধরে নিন,আপনার বাবার অনেক টাকা নেই।

আজ আপনি যদি এটা চিন্তা করতে পারেন যে আজ থেকে ১০ বছর পর আপনি একটি ৩০ লাখ টাকার প্রিমিও গাড়ি বা ৬০ লাখ টাকার একটি ফ্লাট কিনবেন,তাহলে আপনি এটি কেন চিন্তা করতে পারবেন না যে ১০ বছর পর যখন আপনার এজ হবে ৩৫ বা ৪০,তখন আপনি ৩০লাখের সমপরিমান অর্থ আপনার তারুন্যের অপূর্ণ শখ এর পিছনে খরচ করবেন। আর আজ যেহেতু প্রাইভেট এয়ারলাইন্সের যুগ,জব পাওয়ার আশাও করা যায় কারন,ডাক্তারি,ইঞ্জিনিয়ারিন,পাইলট এগুলা হচ্ছে টেকনিকাল স্কিল,দক্ষতা থাকলে বয়সের কারনে পিছিয়ে পরার তেমন চান্স নেই যেমনটি করপরেট ফিল্ডে অনেকটা থাকে। ১০কি১২ বছর পর কি পানি আপনার নিজের একটি কোম্পানি,এক্টি গারমেন্টস/বায়িং হাউজ,বা একটি বিজিনেস ফার্ম হবেনা?অথবা কোন উন্নত দেশে অভিবাসী হবার সুবিধা? ২নং-ওপেন ক্রেডিট- ২নং পয়েন্ট টি আরেকটি সু্যোগ যেটি আপনাকে আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে উঠার সু্যোগ দিতে পারে। যেহেতু এটি ওপেন ক্রেডিট তাই আপনি এখন বা পড়ে আপনার কোর্স ডিউরেশন লম্বা করে টাকার চাপ কমিয়ে নিতে পারে। আমাদের দেশে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি (পুরানোটা,কুর্মিটোলায়) অপেন ক্রেডিট আর গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমি(নতুন্টা,উত্তরা অফিস) হচ্ছে ফিক্সড।

লিঙ্ক- বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি(কুর্মিটোলা)-http://www.galaxyflyingacademy.com/index.php গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমি-http://www.galaxyflyingacademy.com/index.php আরইরাং এভিয়েশন লিমিটেড-http://www.arirangaviation.com/index.php বর্তমানে আনুমানিক পুরো কোর্সের খরচ হচ্ছে৩০লাখ টাকা প্রায়। নিজের মত কোর্স সাজালে- ২৪ মাসে = ১লাখ২৫হাজার/পার মান্থ ৩৬ মাসে = ৮৩হাজার/পার মান্থ ৪৮ মাসে =৬২হাজার /পার মান্থ ৬০ মাসে =৫০হাজার/পার মান্থ ৭২ মাসে =৪১ হাজার/ পার মান্থ অর্থাৎ আপনার বাবার বা আপনার নিজের যদি এতো টাকা থাকে,কিন্তু এতো অল্প সময়ে এরেঞ্জ করার সুবিধা না থাকে,তাহলে আপনি এভাবে চাপ কমিয়ে নিতে পারেন। উপরোন্তু ফ্লাইং কোর্সে শুধু গ্রাউন্ড কোর্স (থিওরিটিকাল)টাই আপনাকে ব্যাচ ধরে করতে হবে। আর ফ্লাইং কোর্স মানে ২০০(প্রায়)ঘন্টা প্লেন চালানো্তে খুব অল্প সময় ব্যয় হয়। যেহেতু এতে সময় অত বেশি লাগেনা,কাজেই আপনার প্রফেশন(চাকরী বা ব্যাবসা) ক্ষতিগ্রস্ত হবার ঝুকিও কম।

এটা অবশ্যই একটি গুরুত্তপুর্ণ বিষয় কারন আমার পোস্ট অনুসারে আপনি নিজেই কোর্সের খরচ চালাচ্ছেন। তাহলে এবার আপনারা মন্তব্য করুন,আমার ব্লগ কি আপাদের ভিতরের ঘুমন্ত উতসাহটাকে একটু নাড়াচাড়া দিয়ে গেছে? আর সেই সাথে উদয় করেছে অন্য কোন প্রশ্নের? আগামী পর্ব-যাদের কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ড তারা কি করবেন??? ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১৯ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.