আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

দুরে বহুদুরে....

ফ আহমেদ ১৯৯৮ সন। বয়সের পালক পেরিয়ে জড়তা ভেঙ্গে ঝাপটা দেওয়া। এ ঝাপটায় অচেনাকে চেনা আর অজানাকে জানা হল ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন পরিবেশে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। অনেক বড় পরিসর। কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা।

বাঁধাধরা নিয়ম আর পড়াশুনা, এর মধ্যে চলতে থাকল আড্ডা, গল্প। আড্ডা গল্পের সাথী হল পাতলা, মাঝারী গড়ন, শ্যামবর্ণের হাস্যউজ্জ্ল এক ছেলে। ও বারোবাজার থেকে এসেছে। হেয়ার স্টাইল, চালচলন সব যেন একটু আধুনিক। শারীরিক গঠন ছিল বেশ।

কলেজে আসার বাহন রেনজার সাইকেল। মাজায় ছিল লাল বেল্ট। পদবী ক্লাস মনিটর। যদিও ছিল ক্লাস মনিটর কিন্তু বিদ্যা ও বুদ্ধিতে ও ছিল শিক্ষকদের থেকে এগিয়ে। প্রত্যেকদিন ক্লাসে ম্যাডাম/স্যাররা আমাদের সিগনেচার শীট দিত, ও তখন আমাদের বান্ধবী (মনিরার) স্বাক্ষর করার স্থানে নিজেই ও মনিরা লিখে দিত।

এরপরের কান্ড হত মারাত্মক। সিগনেচার শীট যখন মনিরার কাছে যেতো তখন মনিরা উঠে দাড়িয়ে বলত স্যার আমার সিগনেচার শীট এর জায়গায় কে যেন সিগনেচাব করেছে। আর তখন আসাদ মিটমিট করে হাসত। এরপর দ্রুত সেকেন্ড ইয়ার-এ উঠলাম। তারপর টেস্ট পরীক্ষা।

এরপর এইচ.এস.সি পরীক্ষা চলে এলো। আমরা যে যার মতো ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। এইচ.এস.সি রেজাল্ট দিল। তারপর কোচিং, ভর্তি পরীক্ষা। বন্ধুরা কেউ ঢাবি, জাবি, আবার কেউবা এম. এম. কলেজে।

আমি জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি হলাম। থাকি ধানমন্ডি-১৯ এ। এভাবেই যাচ্ছিল। প্রচন্ড কনকনে শীতে ধানমন্ডির আলমাস শপিং মল এর সামনে আমার রিক্সা গতিরোধ করে আমাকে জড়িয়ে ধরল কে যেন। তারপর কথা হল।

বলল ঢাকা কলেজে আছি সমাজবিজ্ঞানে। ব্যাস- এ পর্যন্তই। বেশ কিছুদিন পর আমি যশোরে এলাম কাজে। বিকেলে এম. এম. কলেজে গেলাম। হঠাৎ বন্ধু মোমিনের সাথে দেখা।

কথা হল, এক পর্যায়ে মোমিন বলল আমাদের ক্লাস মনিটর বারোবাজার বাড়ী, মনে আছে। আমি বললাম, হ্যাঁ, ও বলল ওতো বারোবাজারে রোড এক্সিডেন্ট করেছিল। ঢাকার পিজিতে ইনটেনসিভ কেয়ার-এ ছিল এক মাস অচেতন অবস্থায়। আমি বললাম তারপর মোমিন। মোমিন কথা বলল না।

শুধু বলল, আসাদ নেই। আমার চোখ দু’টো টলমল করল। আমার চারপাশ ঝাপসা হয়ে আসল। আমি মুহুর্তেই ফিরে যায় আমার কলেজদিনগুলোতে। কল্পলোকের আঙ্গিনায়।

আমি দেখতে পাই আমাদের ক্লাস মনিটর আসছে রেনজার সাইকেল চালিয়ে। তার বুদ্ধিদ্বীপ্ত দুষ্টমি আর দুরন্তপনা চলছে কলেজ প্রাঙ্গনে। কলেজের দোতলায় আমি, আসাদ, মোমিন গল্প করছি। হঠাৎ কলেজ ঘন্টা। আমার ছন্দপতন, চারিদিকে ঘুরিফিরি।

কোথাও কেউ নেই। বাস্তবে আমা প্রিয় কলেজ বন্ধু মো: আসাদুজ্জামান (আসাদ) দুরে বহু দূরে..... দ্বাদশ মানবিক ‘ক’ শাখার ছাত্র ছিল মো: আসাদুজ্জামান (আসাদ) ওর রোল নম্বর ছিল: ৪৭৬/৪৭৭ বাড়ী বারোবাজার। ঢাকা কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানে অনার্স করেছিল। তাঁরপর মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ও চলে যায় না ফেরার দেশে। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।