১) একটা কথা খুব বেশি উঠবে এখন। আর সেটা হলো ঘরোয়া ক্রিকেটে পেস বান্ধব উইকেটের প্রয়োজনীয়তা। বিস্তর গবেষণাও হবে। হ্যা, অনেক দু:স্মৃতিময় বিদেশ সফর শেষে প্রতিবার এই ব্যাপারটাই লাইম লাইটে এসেছে। এবং বিসিবি এতদিনে এসব নিয়ে তেমন পদক্ষেপ নেয়নি।
কবে একবার পড়েছিলাম, মেলবোর্ণ-অ্যাডিলিড থেকে মাটি আসছে। তা ওই পর্যন্তই। তবে এটা মনে করি, উপমহাদেশের বাকি তিনটা দলের প্লেয়াররাও পেস বান্ধব উইকেটে না খেলেই বেড়ে ওঠে। তারা পেস সহায়ক উইকেটে সফল হতে পারলে আমাদেরও পারা উচিত।
২) গ্রায়েম ক্রিমারের পরিচয় সে লেগ স্পিনার।
টুকটাক ব্যাট করতে পারে। মিনি-অলরাউন্ডার টাইপ। সে ৮ নাম্বারে ব্যাটিংয়ে নেমে এই টেস্টে বল খেলেছে ২৪৩ টা। মানে ৪০ ওভারেরও বেশি। বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানও এতগুলো বল খেলতে পারেনি।
কেগ্যান মেথ, নাম্বার নাইন ব্যাটসম্যান, সে এক ইনিংসে অপরাজিত থেকে খেলেছে ১০৮ বল। আশরাফুল আর জহুরুলই শুধু এই সীমারেখা পার করেছে। ব্রেন্ডান টেইলর একাই যেখানে ৭৮ ওভারের বেশি খেলেছে সেখানে পুরো বাংলাদেশ দল দুই ইনিংসে খেলেছে সাকুল্যে মাত্র ১০৩ ওভার! এক ইনিংসে অপরাজিত থেকে এই টেস্টে টেইলরের রান সব মিলে ২৭৩। দুই ইনিংসে অলআউট হয়ে বাংলাদেশ করেছে ২৮১ রান! পরিসংখ্যান গুলো এজন্য লিখলাম কারণ মাঝে মাঝে পরিসংখ্যানের কয়েকটা সংখ্যাতে অনেক কাহিনী ভেসে ওঠে।
৩) ইন্ডিয়া যেবার ইন্ল্যান্ডে টেস্টে হোয়াইট ওয়াশ হলো সেবার সঞ্জয় মাঞ্জেরেকারকে বলতে শুনেছিলাম, টেস্টে মোটামুটি দলের দুটো বৈশিষ্ট্য খুব জরুরি।
একটা, বিশ্বের যেকোনো উইকেটে প্রতি ইনিংসে মিনিমাম ৩ সেশন ব্যাটিং করার ক্ষমতা, আরেকটা ২০ উইকেট নেওয়ার মত ৪ টা বোলার। বাংলাদেশ দুই ইনিংস মিলে খেলেছে ১০৩.৩ ওভার যা পুরো টেস্টের ৪৫০ ওভারের চার ভাগের এক ভাগ থেকেও অনেক কম। বিপিএল ইফেক্ট? আই ডোন্ট থিংক সো।
৪) টেস্টে 'কোন বলটা খেলবো' থেকে 'কোন বলটা ছাড়বো' সেটা ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের দুই ইনিংসের ব্যাটিং বলছে এখনও গোড়ায় বেশ খানিকটাই গলদ।
৫) নিউজিল্যান্ড আম্পায়ার টনি হিলের বয়স ৬১ বছর। বেশ বয়স হয়েছে। চোখে ভালো মাত্রায় ছানি পড়েছে। ক্যাটার্যাক্ট সার্জারি করা দরকার।
৬) গত ইনিংসের মুশফিকের মত এই ইনিংসে জহুরুলের আউটটাও হয়নি।
সেট হওয়া জহুরুল যাওয়ার পরই মড়ক লাগা শুরু। জহুরুল আউটের পর ক্রিকইনফো লিখেছে, 'Masakadza to Jahurul Islam, OUT, appeal for caught-behind and he's given him, Jahurul isn't happy, that took off from a good length, Jahurul came forward, that moved away sharply as he tried to defend, there was a sound but it may not have been the bat. Tony Hill thought it was, but watching the replay it seemed it flicked his shirt as it went through to the keeper.'0
৭) এই উইকেট আনপ্লেয়বল ছিলো না আজকেও। তার প্রমান, কেগ্যান মেথ এবং টেইলরের সাবলীল ব্যাটিং। বাংলাদেশ হেরে গেছে স্রেফ 'ধৈর্য' এর কাছে।
৮) টেস্ট শুরুর আগের দিন বিপদজনক হিসাবে ৩ জনের নাম লিখেছিলাম।
টেইলর, জার্ভিস আর ক্রিমার। টেইলর করেছে ২৭৩ রান, জার্ভিস নিয়েছে ৭ উইকেট, ক্রিমার ৮৫ রান করার সাথে সাথে নিয়েছে ৪ উইকেট। বাংলাদেশের ট্রাম্পকার্ড বলেছিলাম সোহাগ গাজীকে। ভুল প্রমানিত হয়েছি। মাত্র ২ উইকেট পেয়েছে সোহাগ।
৯) বাংলাদেশ ১৩৪/৫ থেকে ১৩৪/১০ হয়ে গেছিলো। সেখানে ৮৪/৬ থেকে জিম্বাবুয়ে ২২৭/৭। ৩৩৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় 'ফ্লুক' না। 'অঘটন' এর ক্যাটাগরিতেও ফেলার মত না। ওয়ানডে-টি২০ তে অঘটন ঘটানো যায়।
টেস্টে ব্যাপারটা তা না। সব বিভাগেই বাংলাদেশ আউটপ্লেড হয়েই হেরেছে।
১০) 'ওভার কনফিডেন্স' পরাজয়ের অন্যতম কারণ কি-না নিশ্চিত না। তবে নিশ্চিত, এই দলটা ভুল থেকে শিখবে এবং 'টার্ন ব্যাক' করবে। ইটজ নট দ্যা এন্ড অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।