শুদ্ধতার আগুনে যেন সতত পুড়ি রাবেয়ার ছেলে হইলো গত বুধবার রাইতে। কিন্তু আমার জানতে ইচ্ছা করতাছিলো ঘড়ির কাঁটার বিচারে বাবুটা বুধবার রাত বারোটার আগে না পরে হইছে। সেই কথাটা কারো কাছে জিজ্ঞেস কইরা সঠিক তথ্য পাইলাম না।
আরে এত ফটফট কইরো না তো! বাবুটা কেমন দেখলা সেইটা আগে বল! উচ্ছ্বসিত শরিফকে মাঝপথে থামিয়ে দেয় রায়না। তারপর তার থমথমে মুখের দিকে তাকিয়ে ফের বলে, বাচ্চা কার মতন দেখলা?
-মনে হইতাছে তো মায়ের মতনই দেখতে সব।
মুখের গড়ন, হাত পা, দেহের আকৃতি এমনকি রঙও।
রায়না বললো, এত ছোট বাচ্চার গঠন আর চেহারা অনুমান ঠিক ঠিক করা যায় না।
রায়নার কথা হয়তো শেষ হয় না, শরিফ তড়বড় করে বলে উঠলো, আরে মাথা আর কপালটা দেইখ্যা মনে হয় ব্যাটায় মস্ত নেতা হইবো!
-রাখ তোমার কবিরাজি! সব খানে জ্যোতিষী ফলাইতে চেষ্টা কইরো না। মানুষের কর্মই সব। তোমার বউ কেমন আছে?
শরিফ হয়তো কিছু একটা নিয়ে ভাবে।
অকস্মাৎ তখনই বাইরে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়। একবার বিজলি বাতিটা কেমন ম্লান হয়ে যায়। যে কোনো সময় বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে বলে কিছুটা ব্যস্ত হয়ে পড়ে রায়না। মোমবাতি লাইটার আর চার্জার লাইটও এক জায়গায় গুছিয়ে রাখে। তারপর আবার বলে, তোমাদের বাচ্চার খবর কি? আল্ট্রাসনোগ্রাম করার কথা ছিলো না?
শরিফ কিছু না বলে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকায়।
রায়না ফের তাড়া দিয়ে বলে, কি, বললে না?
শরিফ কিছুটা সময় নিয়ে ফিরে তাকায়। বলে, তোমারে বলছিলাম না তার জন্ডিস হইছে!
কিন্তু কথাগুলো বলার সঙ্গে সঙ্গে তার দু চোখের কোল ভিজে ওঠে। হয়তো এখনই পানির ফোঁটাগুলো গড়িয়ে পড়বে সেখান থেকে।
কথা শুনে রায়না কেমন বিভ্রান্ত হয়ে তাকিয়ে থাকে শরিফের মুখের দিকে। হয়তো কিছু একটা বলার প্রয়োজন অনুভব করে।
কিন্তু
তখনই ভাঙা কণ্ঠে বলে ওঠে শরিফ, বাচ্চাটা টিকে নাই!
(শেষ)
৮/৫/২০১২ ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।