আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

খোলা আকাশের নিচে কলেজের ক্লাশ!

যেমন কর্ম তেমন ফল। ‘এলাকায় হওয়াতে এই কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন মনে হয় ভুল করেছি। রোদ্রে পুড়ে খোলা আকাশের নিচে ক্লাশ করতে হয়। ঝড়-বৃষ্টির দিনে ক্লাশ হয়না।

আর ভালো লাগেনা এই কলেজ। ভর্তি হয়েই আটকে গেলাম’- এভাবেই নিজ কলেজের দুর অবস্থা আর নিজ ভুলের অনুশোচনার বর্ণনা করছিলেন রাজধানীর উপকণ্ঠ কামরাঙ্গীরচর হাজী আব্দুল আউয়াল কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শারমিন আক্তার। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কলেজটির সমস্যার অন্ত নেই। রয়েছে ৮০ হাতের টিনশেডের একটি একাডেমিক ভবন। ৩টি শ্রেণীকক্ষের পাশাপাশি করা হয়েছে ১টি শিক্ষক-কর্মচারী কক্ষ।

উচ্চ মাধ্যমিক এ কলেজের রয়েছে তিনটি বিভাগ। বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮২জন। ২৪জন শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য রয়েছে একটি কক্ষ। অধ্যক্ষের নেই আলাদা কোন অফিস। প্রয়োজন পূরণ করতে ৩টি শ্রেণী কক্ষকে টিনের বেড়া দিয়ে করা হয়ছে ৯টি।

এরই মধ্যে কবুতরের ক্ষোপের মতো করে করা হয়েছে বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব। যন্ত্রপাতি বলতে তেমন কিছুই নেই। তবে কয়েকটি বোতল, লোহার দন্ড ও বাঁশের লাঠি রয়েছে। এ কলেজের নামে ১ একর জায়গা থাকলেও সীমানা প্রাচীরের অভাবে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অবাধে বখাটেরা কলেজ ক্যাম্পাসে চলাফেরা করে।

মাদকসেবনসহ অসামাজিক ক্রিয়াকলাপ চলে দেদারছে। শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা প্রায়ই বখাটেদের উত্যক্তের শিকার হন। খেলাধুলার মাঠ, সরঞ্জাম কিছুই নেই। কলেজে ছাত্রবাস না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা থাকার কষ্টে ভোগে। মেয়েদের জন্য কমনরুম বা ক্যান্ট্রিন তাদের কাছে অ্যামবস্যার চাঁদের মতো।

হাজী আব্দুল আউয়াল কলেজ সরেজমিন ঘুরে মেলে এসব চিত্র। গত সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা। দ্বিতীয় বর্ষের একটি বিষয়ের ক্লাশ হচ্ছিল ভবনের সামনে গাছের নিচে। ঘুরে দেখাগেল অন্যকক্ষ গুলোতেও শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ের ক্লাশ নিচ্ছে। সাংবাদিক এসেছে, কলেজের সমস্যা নিয়ে লেখা হবে।

একেক করে সবাই বলতে লাগল কলেজের সমস্যার কথা। ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের মুখে একটাই কথা ‘কলেজের সমস্যাগুলো সমাধান চাই। ’ এ সমস্যা নিয়ে আর একটি মুহুর্তও তারা পার করতে চাননা। কলেজের ক্যাম্পাস ছেড়ে আসার সময় শিক্ষক-ছাত্র/ছাত্রীদের এমনকি আকুতি ছিল যে পত্রিকার পাতার একটি লেখাই যেন হয় তাদের সমস্যার সমাধান। জানা যায়, চারদলীয় জোট সরকারের সময় কলেজের উন্নয়ন কল্পে একটি একাডেমিক ভবনের অনুমোদন হয়।

এর কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মালিকানাধীন হওয়ায় ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। বরাদ্দ দেওয়া টাকাও সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়া হয়। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ভবন নির্মাণের আবেদন ও বিদ্যমান সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়ে আসলেও কোন সমাধান মিলছেনা বলে জানান কলেজ কতৃপক্ষ। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শহীদুল আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘আমি অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কিন্তু সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছেনা। এভাবে কলেজের কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কলেজের সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি দ্রুত সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যাবে। শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নোমান উর রশিদ বলেন, হাজী আব্দুল আউয়াল কলেজের সমস্যাগুলো তার জানা নেই।

তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।