আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নাসির উদ্দিন হোজ্জা-৬

এক তুর্কির ষাঁড় হোজ্জার বাগানের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে তছনছ করে দিয়ে মালিকের কাছে ফিরে গেল। হোজ্জা পুরো ব্যাপারটা লক্ষ করলেন, তারপর একটা বেত নিয়ে বেরিয়ে এসে ষাঁড়টাকে পেটাতে শুরু করলেন। কোন সাহসে আমার ষাঁড়কে আপনি পেটাচ্ছেন! তুর্কি চেঁচিয়ে বলল। কিছু মনে করবেন না আপনি, হোজ্জা বললেন, ও পুরো ব্যাপারটা জানে। এটা ওর আর আমার ব্যাপার! --------------------------------- নাসিরুদ্দীন হোজ্জা ছিলেন বেশ চালাক চতুর।

এমনকি বলা যায় ধূর্তও সে খুবই হিসেবী এবং খুবই সতর্ক। বাড়ীতে তার এক চাকর নতুন কাজে যোগ দিয়েছে। তাই তার মনে কেবলই ঘুরপাক খায় বেটাকে ঠিকঠাক মতো তালিম দিয়ে নিতে হবে। তা না হলে কী না কী ক্ষতি করে বসে। মানে ভুল-চুক আরকি।

তো একটা গ্লাস দিয়ে নাসিরুদ্দীন তার চাকরকে বললো, “এ্যাই শোন, ওটা কিন্তু কাঁচের। খুব দামী। ভেঙে যায়না যেনো। খুব সাবধান!” কিন্তু সে এটা বলেও নিজেকে স্থির রাখতে পারছিলেন না। মনে খুঁতখুঁতি কখন ভেঙে ফেলে।

এতোকিছু কিন্তু মাত্র কয়েক সেকেন্ডের চিন্তা। হঠাৎ করেই, “এ্যাই শিগগীর এদিকে, গ্লাসটা দেতো!” (খুব সাবধানে নিজেই এগিয়ে গিয়ে গ্লাসটা হাতে নিয়ে টেবিলে রাখলেন। )। এরপর চাকরকে কষে একটা চড়! বললেন, “কাঁচের গ্লাস কোনোদিন ধরেছিস? খুব সাবধানে ধরতে হয় বুঝলি? দেখিস খুব সাবধান ভাঙেনা যেন” এটা বলে খুব সাবধানে গ্লাসটা চাকরের হাতে দিলেন। চাকরটি কাচুমাচু-অপ্রস্তুত-কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের মতো কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি নিজেকে ঠিক করে নিলো।

মনিবরা এমন করতেই পারে। হোজ্জার বন্ধুরা এমন অবাক কাণ্ডে কিছু না বলে পারলো না। বললো, “সে কী হে হোজ্জা! এ কি করলে? গরীব ছেলেটা কাজ করতে এসেছে। কোনো কারণ ছাড়াই ওকে মারলে যে!” হোজ্জার উত্তর, “আরে ভাই, সেটাই তো সমস্যা। যদি ওটা ভেঙে ফেলে তাই আগেই সতর্ক করে দেয়া।

ও যে গরীব ওকে তো জরিমানা করলে আমার ঠকা হবে। ” --------------------------------- হাটবারের দিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে জড়বুদ্ধির মতো আচরণ করতেন হোজ্জা, ফলে নির্বোধ ভেবে মানুষ তাকে মুদ্রা দান করত। কিন্তু তার সামনে দুটি মুদ্রা তুলে ধরা হলে, সর্বদাই তিনি ছোট মুদ্রাটি গ্রহণ করতেন, যতবারই, যেভাবেই দেয়া হোক না কেন। একদিন সদাশয় এক ব্যক্তি তাকে বললেন, "নাসিরুদ্দীন, তুমি তো বড় মুদ্রাটা নিতে পার। এতে তোমার দ্রুত বেশ কিছু টাকা-পয়সা জমে যাবে আর মানুষও আগের মতো তোমাকে নিয়ে তামাশা করতে পারবে না।

" "হুমম, আপনি যা বলছেন তা হয়তো ঠিক হতে পারে। কিন্তু আমি ভাবছি, আমি যদি সবসময় বড় মুদ্রাটা গ্রহণ করি, তাহলে মানুষ আমাকে তাদের চেয়েও নির্বোধ ভেবে যে আনন্দটা পায়, সে আনন্দটা আর পাবে না, ফলে দান হয়তো একেবারেই বন্ধ করে দিবে। " হোজ্জা জবাব দেন। ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।