আমি বেশ চুপচাপ!! এ জনমে না হলেও পর জনমে একসাথে থাকার অঙ্গীকার করেছিলো চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের নিশি আর সুজন। প্রেমিকা নিশির আত্মহত্যার এক মাসের মাথায় প্রেমিক সুজন আত্মহত্যা করে তাদের সেই কথা রেখেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে। ঘটনাটি নিয়ে ওই দুটি পরিবারের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে।
পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের শান্তি মিয়ার ছেলে স্কুলছাত্র সুজনের (২০) সাথে প্রতিবেশী মধু মন্ডলের মেয়ে স্কুলছাত্রী নিশির (১৬) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
প্রেমিকা নিশির পরিবার বিষয়টি জানতে নিশিকে তড়িঘড়ি করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের এক যুবকের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়। বিয়ের পর প্রেমিক সুজনের সাথে নিশির সম্পর্ক আরো গভীর হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বিষয়টি উভয় পরিবারের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়।
প্রতিবেশীরা জানান, সুজনের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর নিশির পরিবারের লোকজন নিশির ওপর চাপ সৃষ্টি করে সুজনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য। নিশিও বেঁকে বসে তার পরিবারকে সাফ জানিয়ে দেয় ঘর করতে হলে সুজনের সাথেই করবো, অপরিচিত কারো সাথে নয়।
গ্রামের একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্বামীর ঘরে যেতে না চাওয়ায় মাঝে মধ্যেই নিশির পরিবারের সদস্যরা নিশিকে মারধর করতো। এরই এক পর্যায়ে গত ১৩ আগস্ট রাতে নিশি রান্নাঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।
ওই দিনই নিশিকে গ্রাম্য পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর এক সপ্তাহ পর নিশির পরিবার প্রেমিক সুজন ও তার পিতা-মাতার নামে নিশি হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত নিশির লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।
দামুড়হুদা থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ মুন্সি আসাদুজ্জামান জানান, আদালতের আদেশে কয়েক দিনের মধ্যেই নিশির লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করা হবে।
সুজনের বন্ধুরা জানায়, নিশির আত্মহত্যার পর সুজন মাঝে মধ্যেই নিশির কবরস্থানে গিয়ে কান্না-কাটি করতো। বিষয়টি নিয়ে নিশির পরিবারও ছিল বিব্রত। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এ জন্য নিশির পরিবারের অনেক হুমকি ধামকিও শুনতে হয়েছে প্রেমিক সুজনকে। এর মধ্যে নিশির আত্মহত্যার ঠিক এক মাসের মাথায় বুধবার বিকেলে সুজনকে বিষপান করা অবস্থায় গ্রামের একটি আমবাগান থেকে উদ্ধার করে প্রথমে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে সুজন মারা যায়। প্রেমিকা নিশির আত্মহত্যার এক মাসের মাথায় প্রেমিক সুজনের আত্মহত্যার ঘটনাটি গ্রাম জুড়ে নাড়া দিয়েছে। গ্রামের সচেতন মহল বলছে, দুটি পরিবারের বিরোধের কারণেই অকালে ঝড়ে গেল দুটি তরতাজা প্রাণ।
//চুয়াডাঙ্গা, ১৬ সেপ্টেম্বর (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকম)//একেএ//
সত্যতায় এখানে দেখুন ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।