আড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস। মার্কিন কূটনীতিকদের ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলের খবর
২০০৭ সালের জানুয়ারি থেকে দুই বছরের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেনাবাহিনীর ‘সম্মানজনক বিদায়’ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং এ দেশের ‘কুশীলবেরা’। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ চেয়েছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ কমাতে সেনাবাহিনী যেন হস্তক্ষেপ না করে।
উইকিলিকসের ফাঁস করা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কূটনৈতিক তারবার্তায় এই তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে তারবার্তায় বলা হয়, সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন করার চেষ্টার বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ।
তারবার্তায় বলা হয়, পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতেন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ। এতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নেতা মার্কিন দূতাবাসকে খোলাখুলিভাবে জানান, আওয়ামী লীগ চায় সেনাবাহিনী যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ কমানোর ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করে। দলটির উপলব্ধি ছিল, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়ন ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী ইস্যুতে সেনাবাহিনীর নীরব সম্মতি বা সুনির্দিষ্ট সমর্থন প্রয়োজন।
তারবার্তায় বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগের সময় সেনাবাহিনী ও এর সমর্থকেরা ‘সম্মানজনক বিদায়’ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে।
তারা এই ধারণাকে সরকারের সিদ্ধান্তে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ‘সুপার কেবিনেট’ তৈরির চেষ্টা বলে আখ্যা দেয়। সাবেক সেনাশাসক এইচ এম এরশাদের আমলেও এমন কাউন্সিল গঠনের চেষ্টা করা হয় বলে উল্লেখ করে তারা। পাকিস্তান ও তুরস্কের উদাহরণ টেনে কেউ কেউ বলেন, এমন কাউন্সিল সেনাশাসন চিরস্থায়ী করার একটি পথমাত্র। আওয়ামী লীগ অবশ্য কিছু প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে। দলটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করে।
তবে এর কাঠামো কেমন হবে, তা বলেনি।
২০০৯ সালের ২৮ জানুয়ারি ঢাকা থেকে পাঠানো মার্কিন ওই তারবার্তার মন্তব্য অংশে বলা হয়, বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক যুগে প্রবেশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের লক্ষ্য হলো সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা এড়ানো, বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক প্রশাসনকে পেশাদারি করা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।