রমজান মাস মুসলমানের জন্য আত্মশুদ্ধির সুযোগ নিয়ে আসে। সারা বছরের অনুপ্রবেশিত মানবীয় র্দুবলতাকে ঝেড়ে ফেলে আত্মাকে সুন্দরের নতুন সাজে সজ্জিত করার সুযোগ বয়ে আনে রমজান। রোজা অসৎ প্রবৃত্তির সব চোরা গলিপথ বন্ধ করে দেয়। রোজা এক দিকে অন্যায়-অনাচার ও অসততাকে নিষিদ্ধ করে দেয়, অপর দিকে দীর্ঘ সময় উপবাস থাকতে বাধ্য করে দেহের পাশবিক শক্তিকেও দুর্বল করে দেয়। এভাবে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে অসৎ প্রবৃত্তি দুর্বল ও পরাজিত হয় এবং সৎ প্রবৃত্তি প্রবল ও বিকশিত হয়।
দীর্ঘ সময় এ অনুশীলনের ফলে রোজাদার ব্যক্তি অন্যায়, অসৎ ও দুর্নীতিমুক্ত হয়ে সৎ ও সুন্দর মানুষে পরিণত হতে পারে। কিন্তু রোজা রাখলাম অথচ আমাদের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হলো না তাহলে তা শুধু পানাহার পরিত্যাগ করা হবে রোজার আসল উদ্দেশ্য অর্জিত হবে না । রাসূল (স বলেছেন : যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও কাজ বর্জন করে নাই। তাহলে তার পানাহার ছেড়ে রোজা রাখার দরকার নেই। কেননা এতে সে আল্লাহর প থেকে কোন বিনিময় পাবে না।
(বুখারি : ১৯০৩) রোজা আমাদেরকে আত্মসংযমে অভ্যস্ত করে। লোভ-লালসা, কামনা-বাসনা ও দেহের অন্যান্য দাবি নিয়ন্ত্রিত করার নামই আত্মসংযম। আর রোজা আমাদের এই আত্মসংযম অর্জনেরই শিক্ষা দেয়। সারাদিন আমরা না খেয়ে রোজা রাখি। লোকজনের অন্তরালে আমরা খেতে পারি কিন্ত আমরা খাচ্ছিনা।
এভাবে আমরা আমাদের লোভ কে নিয়ন্ত্রন করার শক্তি অর্জন করি। আত্মাকে পরিশুদ্ধি করি। একজন রোজাদার গীবত, অন্যের দোষ বর্ণনা ও কটুকথা, ধোঁকা ও প্রতারণা, হিংসা-বিদ্বেষ, অশ্লীল কথা ও কাজ, গালমন্দ ও ঝগড়া-বিবাদ করে না। আবু হুরাইরাহ রা: থেকে বর্ণিত নবী করিম (স বলেছেন : তোমাদের কেউ যেন রোজা রাখা অবস্থায় কোন খারাপ কর্ম না করে। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে আসে বা গালি দেয় তাহলে সে যেন বলে আমি রোজাদার।
(বুখারি : ১৮৯৪)
রোজা আমাদের ধৈর্য ও সহনশীলতার শিা দেয় যা আমাদের সুন্দর সমাজ গঠনের যোগ্য করে তুলে। রাসূল (সাঃ) রমজান মাস সম্পর্কে ইরশাদ করেন, ‘এ মাস হলো ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের বিনিময় হলো জান্নাত। ’ সারাদিন উপবাস থাকার ফলে বিকেল বেলা যখন ুধায় কাতর হয়ে পড়ে, সেই কঠিন মুহূর্তেও রোজা তাকে কোনো কিছু না খেয়ে ধৈর্য ধারণ করতে বলে। রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় যৌন অনুভূতি জাগ্রত হলেও রোজা স্ত্রীকে ভোগ করতে বারণ করে তাকে ধৈর্য ধারণে বাধ্য করে। এভাবে রোজা আমদের আত্ম সংযমী ও ধৈর্যশীল করে তোলে ।
রোজা আমাদেরকে নিয়মতান্ত্রিক ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তোলে। নির্দিষ্ট সময়ে সেহরি খাওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে ইফতার করা, নির্দিষ্ট সময়ে তারাবিহর নামাজ আদায় করা, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা। নির্দিষ্ট সময়ে এ কাজগুলো করার মধ্য দিয়ে যথাসময়ে নির্দিষ্ট কাজ করার প্রশিণ রোজার মাধ্যমে হয়ে থাকে। রোজা মানুষকে অন্যের দুঃখ-কষ্ট ও ব্যথা-বেদনায় সংবেদনশীল, সমব্যথী ও সহমর্মী করে তোলে। যারা বিত্তশালী তারা রোজা রেখে গরিবের দুঃখ-কষ্ট ও ুধার জ্বালা উপলব্ধি করতে পারে।
রোজা রোজাদার ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় উপবাস রেখে ুধার কী জ্বালা তা মর্মে মর্মে বুঝিয়ে দেয়। এতে তার মধ্যে বিবেকবোধ জাগ্রত হয় এবং সে উপলব্ধি করতে সম হয় যে, তার পার্শ্ববর্তী যেসব মানুষ অভাবের কারণে না খেয়ে থাকতে বাধ্য হয়, তারা ুধায় কত কষ্ট করে। রোজা মানুষকে জড়তা, অলসতা ও আরামপ্রিয়তা ঝেড়ে ফেলে কর্মঠ ও পরিশ্রমী হওয়ার শিা দেয়। সারাদিন কাজের শেষে ইফতারের পর মাগরিবের নামাজ আদায়, রাতের খাবারের পর দীর্ঘ সময় তারাবিহর নামাজ আদায়, সেহরি খাওয়ার জন্য শেষ রাতে জাগরণ, তারপর আবার ফজরের নামাজ আদায়, দিনের বেলায় নিজ নিজ কার্য সম্পাদন ইত্যাদি মানুষকে অলস বসে থাকার কোনো সুযোগই দেয় না; বরং তাকে একের পর এক কাজ করে যেতে হয়। এভাবে দীর্ঘ এক মাস অনুশীলনের ফলে আমরা রোজা রেখে নিজেদের আত্মশুদ্ধি করতে পারি ।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।