জীবন থেকে
১) মতিঝিল থেকে ফিরছিলাম বিআরটিসি বাসে, অফিসে শেষে। শাহবাগ আসতেই ছেলে মেয়ে যে যার মত দৌড় ঝাপ দিয়ে গাড়িতে উঠতে লাগল। ব্যস্ততায়, ধাক্কা ধাক্কি আর গরমে ঘেমে একাকার, তবুও তো ফিরতে হবে ঘরে উপায় নেই আর। বাস যখন পুনরায় যাত্রা শুরু করল ততক্ষনে গাড়ীতে লোকদাঁড়ানোর মত ঠাই নাই। যাত্রীদের চিল্লা চিল্লি ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে (রিক্সার ড্রাইভার, সব গাড়ী চলে গেল, ডাইনে নিয়ে বাড়াস না ক্যান ইত্যাদি ইত্যাদি, অভিজ্ঞ লোকদের কথোপকথন শ্রবনে শ্রবেন ড্রাইভারের যাত্রা শুরু।
২) স্বভাবগত কারনে সব-সময়ই পেছনে এবং জানালার সাইটে বসার চেষ্টা, কপালগুনে পেয়েও যায়। সেদিনও পেলাম বসে গান শুসছিলাম হেড ফোনে, বিকেল টাইমে একটু ঝাকা নাকা গানই ভাল লাগে তাই জেসম্ এর "বিজলী চলে যেও না" চলছিল। হঠাৎ মনে হচ্ছে মানুষ একটু বেশীই কথা বলছে ২০-২৫বছর (যদিও মেয়েদের বয়স বোঝা দায় বর্তমান প্লাসটারের জামানায়) বয়সী একটি মেয়ের দাড়িয়ে থাকা নিয়ে। দাঁড়ানো যাত্রীরা আদেশ স্বরূপ অনুরোধ করছে বসে থাকা যাত্রীদের।
৩) যাকে অনুরোধ করছে বেচারী সহ আশে পাশে যারা বসে আছেন তাদের বয়স ৩০ উর্দ্ধ।
কথাটি শুনছে বলেও মনে করছে না। হঠাৎ পাশে থাকা একটি ছেলে বয়স ৩০ এর কাছা কাছি হয়তো হবে। বলল দাদারা এত কথা কেন বলছেন- নারীর প্রতি বৈষম্য নয়, চাই নারীর অধিকার, আর অধিকার হল সম-অধিকার অর্থাৎ সব কিছুতেই সমান ভাগ, পাওয়া তেও কষ্টতেও, নয় কোন করুনা, আপনারা দাদা কেন মেয়েটিকে করুনা করতে বছলেন। বাসের মধ্যে ৩০/৪০ দাঁড়ানো যাত্রীর মধ্যে ৩/৪জন মাত্র মেয়ে। আর বাকী সব পুরুষ তো, এত জন পুরুষের কষ্টের মধ্যে কেন একজনের কষ্ট নিয়ে বকছেন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।