এক কথায় ইন্টারনেট আসক্তিকে প্রকাশ করা বেশ কষ্টকর ব্যাপার। ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে মানুষের যে ব্যাপক কৌতুহল, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং অসংযত আচরণবোধ এসব কিছুকেই ইন্টারনেট আসক্তির মাঝে ফেলা যায়। ইন্টারনেট আসক্তির প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে:
১। ইন্টারনেটের প্রতি বাধ্যবাধকতা - এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি পরিবার, বন্ধু-বান্ধব সবকিছু ছেড়ে অন্ধের মতো ইন্টারনেটে সম্ভব-অসম্ভব সব কিছুর পিছনে ছুটে বেড়ায়।
২।
তথ্য নিয়ে হিমশিম খাওয়া - নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহের নেশা একজন মানুষকে এমনভাবে পেয়ে বসে যে এক্ষেত্রে সে ক্রমাগত ওয়েব পেজ হাতড়িয়ে পার করে দেয়। আর এভাবেই সে নিজের অজান্তেই সব কিছু থেকে নিজেকে বিছিন্ন করে ফেলে।
৩। সাইবার সেক্সুয়েল আসক্তি - এ ক্ষেত্রে একজন মানুষের মধ্যে ইন্টারনেটে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত চ্যাট রুম এবং সাইবার পর্ণের প্রতি আকর্ষণ বিশেষভাবে বেড়ে যাবে।
৪।
কম্পিউটার আসক্তি - এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি কম্পিউটার গেম, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার সেটিং প্রভৃতির প্রতি আকর্ষণ আর নির্ভরতা এমন পর্যায়ে চলে আসে যে সারাক্ষণ সে ওগুলো নিয়েই সময় কাটাতে পছন্দ করে।
৫। Status Update Anxiety (SUA) - ইন্টারনেটের কারণে সৃষ্ট নতুন মানসিক রোগ/সমস্যা সুয়া (SUA)। এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার পারিবারিক জীবন তো বটেই, বাস্তব জীবনের বন্ধুবান্ধব থেকেও বিছিন্ন হয়ে পড়ে। কেননা তার ধ্যান ধারণায় স্থান করে নেয় চ্যাট রুম, ব্লগ, ফোরাম, নিউজ গ্রুপ, ফেইসবুক, Twitter, Dopplr, Bedpost ইত্যাদির সুবাদে প্রাপ্ত ভার্চুয়াল জগতের নতুন নতুন বন্ধুবান্ধব।
ইন্টারনেটে নিজের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ঘটনা নিয়মিত অন্যদের সাথে শেয়ার করতে গিয়ে অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে এক ধরনের মানসিক চাপ। তারা দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে ইন্টারনেটে প্রকাশ করতে চাই এবং অন্যদের উত্তর বা প্রতিক্রিয়া জানতে অধৈর্য হয়ে পড়ে। ফলে তার পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। এরা ইন্টারনেট ছাড়া বেশীক্ষণ থাকতে পারে না। ধুমপানে অভ্যস্ত লোক যেমন ধুমপান করতে না পারলে চঞ্চল, বিষন্ন অথবা উত্তেজিত হয়ে ওঠে, তেমনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারলে এদের অবস্থাও তাই হয়।
ইন্টারনেট আসক্তির লক্ষণগুলো
১। আপনি কি ইন্টারনেট নিয়েই সারাক্ষণ চিন্তাভাবনা করছেন?
২। আগের অনলাইনের ঘটনাগুলো কিংবা পরবর্তীতে কী করবেন এসব চিন্তাই কি শুধু মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে?
৩। আপনি কি মনে করেছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভালো ফল পেতে হলে আপনার ইন্টারনেটের প্রতি মনোসংযোগ আরো বাড়িয়ে দিতে হবে?
৪। আপনি কি সাংসারিক ও সামাজিকভাবে সমূহ ক্ষতির সন্মুখীন হয়েও ইন্টারনেটের নির্ভরতা কমাতে পারছেন না?
৫।
আপনি কি যতটুকু সময় অনলাইনে ব্যস্ত থাকা যায় তার চেয়েও বেশিক্ষণ অনলাইন ব্যবহার করে থাকেন?
৬। আপনি ইন্টারনেট নির্ভরশীলতার ব্যাপারে আপনার আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের কাছে সবকিছু গোপন করে যাচ্ছেন অথবা মিথ্যা বলছেন?
৭। আপনি কি হালকা হওয়ার জন্য অথবা সব সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট ভুলবার জন্য ইন্টারনেটকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে নিয়েছেন?
৮। আপনি যখন ইন্টারনেট ব্যবহার কমিয়ে আনা বা বন্ধ করার চেষ্টা করেন, সে সময় কি আপনি চঞ্চল ভাবপ্রবণ, বিষন্ন অথবা উত্তেজিত হয়ে উঠেন?
৯। আপনি কি ইন্টারনেটের প্রতি আপনার অদম্য আকর্ষণ কমিয়ে আনা বা ইন্টারনেট ব্যভার নিয়ন্ত্রনে আনার একাধিক ব্যর্থ উদ্যোগ ইতিপূর্বে নিয়েছেন?
আপনি যদি উল্লিখিত নয়টির মধ্যে পাঁচটি লক্ষণও নিজের মধ্যে শনাক্ত করতে পারেন, তবে ধরে নেবেন আপনার মাঝে ইন্টারনেট আসক্তি কাজ করছে।
প্রতিকার/চিকিৎসা
# চিত্ত বিনোদনের অন্য উপায়গুলোর মাঝে নিজেকে পরিব্যপ্ত করা।
# পরিবারের সাথে দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আরো বেশী সময় দেয়া।
# নিজের প্রকৃত দুঃখ-কষ্ট-সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং তা দূর করার জন্য সচেষ্ট হওয়া।
# নিজের সমস্যাগুলো নিজের মাঝে গুটিয়ে না রেখে আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুবান্ধবের সাথে আলোচনা করা।
# ইন্টারনেট প্রযুক্তিকে আপনার সহায়ক কাজেই একমাত্র ব্যবহার করা, নির্ভরতা যেন পারিবারিক বা সামাজিক গন্ডিকে অতিক্রম না করে।
# প্রয়োজনে মানসিক বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হয়ে চিকিৎসা নেয়া।
প্রতিকারের জন্য নিম্নোক্ত ওয়েবসাইটগুলো দেখতে পারেন:
Internet Addiction Test (IAT)
Internet Addiction Guide
Internet Addiction Treatment
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।