আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে। তবে একে সরাসরি কালো টাকা না বলে অপদর্শিত অর্থ বলে অভিহিত করা হবে। এর জন্য সীমিত কয়েকটি খাতকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এ জন্য ধসে পড়া শেয়ারবাজারকে প্রধান খাত হিসেবে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি আবাসন খাতেও এ সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে ইতিবাচক সম্মতি দিয়েছেন। তবে শেয়ারবাজার থেকে প্রচুর পরিমাণে টাকা বেরিয়ে যাওয়ায় যে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে তা কাটাতে কালো টাকা বিনিয়োগের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন নীতি নির্ধারণীরা। তারা বলছেন, শেয়ারবাজারের সূচক সাড়ে ৮ হাজার থেকে ৫ পাঁচ হাজার পয়েন্টে এবং দৈনিক গড় লেনদেন ৩ হাজার কোটি থেকে ৪০০ কোটি টাকা নেমে আসায় শেয়ারবাজার এখন তারল্য শূন্য হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া যে টাকা বেরিয়ে গেছে তা পুনরায় বিনিয়োগ করতে এ সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যথায় উধাও হওয়া টাকা বাজারে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে মনে করছে সরকার।
সূত্র জানায়, শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য গঠিত 'বাংলাদেশ ফান্ড' যে মিউচুয়াল ফান্ড গঠন করবে তাতে বিনিয়োগ করলে সে টাকার উৎস নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন তোলা হবে না। তবে এর জন্য সরকারকে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যাবে। এর আগে মার্চের শেষ দিকে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়টিসহ বাজারের স্বার্থে আরও কিছু প্রণোদনা চেয়ে চিঠি পাঠায়। এরপর তা দীর্ঘ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসইসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী।
এতে সবাই একমত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কালো টাকা বলতে সরকার অপ্রদর্শিত আয়কে বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ যে অর্থ অর্জন করা হয়েছে বৈধভাবে, কিন্তু কোনো কর দেওয়া হয়নি বা সরকারকে জানানো হয়নি। তবে অবৈধভাবে অর্জিত আয় যেমন কালোবাজারি, চোরাচালান, ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে আয় করা টাকার কথা বলা হয়নি। এ জন্য এটাকে কালো টাকা না বলে অপ্রদর্শিত আয় বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
আইসিবি থেকে পাঠানো চিঠিতে যেসব প্রণোদনার কথা বলা হয় সেগুলো হলো_ শেয়ারবাজারের স্বার্থে বাংলাদেশ ফান্ডকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি থেকে কিছুটা ছাড় দেওয়া। এসব বিষয়ের প্রতিটি অর্থমন্ত্রী আমলে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, গত দুই বাজেটের অনুমতি অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ কালো টাকা শেয়ারবাজারে ঢুকে পড়ে। ফলে বাজারে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। সে টাকা বাইরে চলে যাওয়ায় এখন তীব্র তারল্য সংকট বিরাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সরকারের চিন্তাভাবনা করা উচিত। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমদ খান বলেন, শেয়ারবাজার এখন ক্রান্তিকাল সময় পার করছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।