আজ ১৬ই জুলাই বৈশাখি টিভিতে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও বৈশাখি টিভি’র প্রধান নির্বাহী মন্জুরুল আহসান বুলবুলের উপস্থাপনায় জিরো আওয়ার অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম জিও টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক ও প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মীর আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দ্বারা সংগঠিত গণহত্যার জন্য আবারো তার ব্যক্তিগত অবস্থান ও পাকিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি তার সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন পাকিস্তানের বর্তমান পার্লামেন্টের অন্তত ৬ জন সদস্য আনুষ্ঠানিক ও আইনগতভাবে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে প্রস্তুত আছেন। সেই লক্ষ্যে তারা পাকিস্তানের পার্লামেন্টে একটা রিজলিউশন আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন। তাছাড়া আমরা জানি যে, কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান, বর্তমানে যিনি রাজনীতিবিদ তিনিও তার এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন। অর্থ্যাৎ এটা পরিষ্কার যে খোদ পাকিস্তানে ১৯৭১ সালে আমাদের বাংলাদেশে যে গণহত্যা সংগঠিত হয়েছিল এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছিল এই বাস্তবতার স্বপক্ষে জনমত সংগঠিত হচ্ছে।
কিন্তু কি আশ্চর্যের বিষয় দেখুন আমাদের নিজের দেশ বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু রাজনীতিবিদ ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবী গবেষণা করতে চান বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে গন্ডগোলের সময় (আমাদের গর্বের মুক্তিযুদ্ধকে তারা এই নামেই আখ্যায়িত করেন; কেউ কেউ আবার ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বলতে চান !!!) সত্যি সত্যি ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছিলেন কিনা ?? এই জন্যই বোধ হয় ২০০০ বছর আগেই আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশে পা রেখেই তার সহযোদ্ধা ও সহচর সেলুকাসকে বলেছিলেন –“সেলুকাস! কি বিচিত্র এই দেশ। ” আজ স্বাধীনতার চার দশক পর যখন বর্তমান মহাজোট সরকার এ দেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করছে এবং এই বিচার প্রতিহত করার জন্য যখন দেশি-বিদেশি ব্যাপক ষড়যন্ত্র হচ্ছে তখন পাকিস্তানি একজন প্রভাবশালী সাংবাদিকের মুখ থেকে আমাদের পূর্ব পুরুষদের নৃশংস হত্যাকান্ডের জন্য তাদের জাতির পক্ষ থেকে ক্ষমা ও দু:খ প্রকাশ এবং আইনগত ও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনার উদ্যোগ গ্রহণ একজন বাঙালি হিসেবে আমাকে অনেকটাই সান্ত্বনা দিচ্ছে এবং এই বলে পুন: পুন: প্রেরণা দিচ্ছে যে আমাদের পূর্ব পুরুষদের আত্মত্যাগ যে বৃথা যায় নি তা আবারো প্রমাণিত হচ্ছে ।
কিন্তু আজকে হামিদ মীরের এই সাক্ষাৎকারের যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করেছে তা হচ্ছে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেছেন “জয় বাংলা” বলে। যে “জয় বাংলা” ছিল ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের রণ হুংকার, আমাদের প্রেরণা, আমারদের জাতীয় শ্লোগান। আমাদের কাছ থেকে এই “জয় বাংলা” –কেও কেড়ে নেয়া হয়েছে।
আজ এক ভিনদেশির মুখে, শুধু ভিনদেশি নয়, একজন পাকিস্তানির মুখে “জয় বাংলা” শুনে রক্তের মধ্যে কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো। যে অনুভূতি ব্যাখ্যা করে বুঝাবার মতো নয়। এই অনুভূতির মধ্যে ছিল অহংকার, ছিল বিজয়র উচ্ছ্বাস, সেই সাথে ছিল বেদনা; হারিয়ে ফেলার বেদনা, লালন করতে না পারার ব্যর্থতা, ছিল তীব্র ক্ষোভ। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ যারা আমাদের কাছ থেকে আমাদের “জয় বাংলা” –কে কেড়ে নিয়েছিল।
তাই আজকে অন্তর থেকে চাওয়া আমাকে আমার গৌরব জনক ইতিহাস, আমার জন্মের ইতিহাস ফিরিয়ে দাও।
আমাকে আমার মুক্তিযুদ্ধ ফিরিয়ে দাও। আমাকে আমার “জয় বাংলা” ফিরিয়ে দাও।
তাই যে যেখানে আছো সব বাঙালি গর্জে ওঠো “জয় বাংলা”।
“জয় বাংলা” আমাদের ছিলো, আমাদের আছে, আমাদের থাকবে।
বরং যারা “জয় বাংলা” কেড়ে নিতে চেয়েছিল আমাদের কাছ থেকে তারাও আমাদের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলতে বাধ্য হবে “জয় বাংলা”।
যেমনি বলতে বাধ্য হয়েছেন হামিদ মীর।
একদিন সব রাজারকার, আলবদর, আল-শামসও বলতে বাধ্য হবে “জয় বাংলা”।
ফাসির মঞ্চে দাড়িয়ে ওদের শেষ শ্বাসটি নেবার আগে হলেও ওদেরকে বলতেই হবে “জয় বাংলা”।
“জয় বাংলা”
“জয় বাংলা”
“জয় বাংলা”
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।