ইসলাম একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ, এটা অস্বীকার করার মতো বোকামি ধার্মিকরা করতে পারেনা
আরবের মুহাম্মদ সা. যেই মতবাদ থ্রো করেছে- এটা আমার ভালো লেগেছে বুঝে শুনে দেখে জেনে পড়ে এবং কার্যত লাইফে এ্যাপ্লাই করে, তবে আমার মন জানে এটা আমি অন্ধ ভাবে মেনে নেইনি বা অন্ধ অনুকরণ করিনি।
আরো অনেক মতবাদ আছে- অনেক বড় বড় ব্যক্তিবর্গ পৃথিবীতে জ্ঞান বিজ্ঞানের গবেষণা করে মানুষের কল্যাণ সাধনে অনেক মতবাদ সামনে নিয়ে এসেছেন- মানুষের চিন্তার জগত উন্মুক্ত করে দিয়েছেন : এই মানুষ চিন্তা করে দেখতে পারে সে কোন্ মতবাদ-মতাদর্শ গ্রহণ করবে নাকি নিজে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে নিজের চলার পথ নিজেই খোঁজে নেবে।
সব মানুষ তো আর প্রবল জ্ঞানী না যে, তার সমস্যাবলীর সমাধান নিজেই বের করে নেবে- এখন মানুষগুলো দেখুন কার মতাদর্শ গ্রহণ করা যায়।
বিভিন্ন মতাবলম্বী বা মতের অনুসারীরা তার অনুসরিত পথের ভালো দিক গুলো মানুষের সামনে উপস্থাপন করুক- তারপর মানুষ ভালোমন্দ বুঝে সেটি গ্রহণ করে কিনা, এতেই তার ভালো। এ ক্ষেত্রে সে বলতেই পারে তার ফলোকৃত মতাবাদ দুনিয়ার সেরা মতবাদ, এগ্রেসিভলি অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়াটা অযৌক্তিক।
এবার হেনা, ইসলাম এবং শরিয়া আইন বিষয়ক কিছু কথা বলি -
তার আগে বলে নিই- মুক্তমনারা (আমরা কিন্তু বদ্ধমনা নই, আমাদেরও চিন্তা করার অবকাশ আছ) অনেক জ্ঞানী, যুক্তিবাদী, গবেষক। তাদের যুক্তির উপর কুরআন হাদিসের রেফারেন্সও দিয়ে থাকেন তারা।
- বিজ্ঞ মহোদয়গণ, আপনি জানেন- ইসলামি শরিয়া আইন বলেন আর মুহাম্মদী আইন বলেন: সে সময়ে যেটা ছিলো সেখানে বলা আছে -
স্ব-প্রণোদিত হয়ে যদি কোনো নারী-পুরুষ ব্যভিচারে (ধর্ষণ বা বলৎকার নয়) লিপ্ত হয় তাহলে উক্ত দুই ব্যক্তি যদি অবিবাহিত হয় তাদের জন্যে রাষ্ট্র কার্যকর করবে ১০০শত বেত্রাঘাতের শাস্তি। আর যদি হয় বিবাহিত, তবে তাদের জন্যে শাস্তি হচ্ছে কোমড় পর্যন্ত (অথচা বুক) মাটিতে গেড়ে পাথর মেরে হত্যা করা হবে (এটা কার্যকর করবে রাষ্ট্রীয় আদালত কোনো সামাজিক শালিস বা মুষ্ঠিমেয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ নয়)। সমাজে এই কাজকে জঘন্য অপকর্ম চিহ্নিত করে এর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
চারজন সাক্ষীর কথা এই জন্যে বলা হচ্ছে যে- যদি তৃতীয় কোনো ব্যক্তি তাদের এই কর্ম দেখে থাকে তাহলে সেই তৃতীয় ব্যক্তি যদি সমাজে এটা প্রচার করে বেড়ায়, তাহলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে তারা যদি এটা না করে থাকে তাহলে তাদের সমাজে সম্মান ক্ষুন্ন করা হচ্ছে, আর যিনি অভিযোগ করছেন তিনিই তার অভিযোগের স্বপক্ষে তিনজন সাক্ষী হাযির করবেন, আর যদি না করতে পারেন তাহলে অপকর্মের শাস্তি অভিযোগকারীর উপরই বর্তাবে অভিযুক্তদের সম্মানহানি করার জন্যে (কুরআনে এটার স্পষ্ট উল্লেখ আছে)।
আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে- তারা যদি সত্যিই এটা করে থাকে তবে তারা যদি স্বীকার না করে এবং অভিযোগের পক্ষে যদি কোনো (চারজন) সাক্ষীও না পাওয়া যায় তবে অভিযোগ থেকে তাদেরকে মুক্ত করে দেয়া হবে কোনো প্রকার শাস্তি দেয়া হবেনা।
আর যদি তারা স্বীকার করে নেয়, তবে রাষ্ট্রের আদালতের দায়িত্ব হচ্ছে- তাদের উপর শাস্তি কার্যকর করা (যেহেতু এটা রাষ্ট্র নির্ধারিত শাস্তি)।
আর যদি কেউ অপকর্ম করে নিজে অনুতপ্ত হয়ে আদালতে বিচার চাইতে আসে অথচ তার অপকর্মের কোনো সাক্ষী নেই- তার বিচার কিভাবে করবে আদালত ? মুহাম্মদ সা.-এর শাসনামলের থেকে একটা ঘটনা উল্লেখ করছি :
"একজন বিবাহিত নারী শাসক মুহাম্মদ সা.-এর কাছে এসে বললো - সে পাপ করেছে, সে ব্যভিচারের ফলে গর্ভবতী হয়েছে। আদালত যেন তার উপর ব্যভিচারের শাস্তি কার্যকর করে।
- শাসক মুহাম্মদ সা. বললেন : তুমি মিথ্যা বলছো অথবা তোমার মাথা ঠিক নেই।
- নারীটি বললেন : আমি ঠিক আছি এবং আমি সত্য বলছি।
- মুহাম্মদ সা. তিনবার নারীটির কথা ফিরিয়ে তাকে ফিরে যেতে বললেন
- নারীটি তার কথায়ই অটল রইলো
- এইবার মুহাম্মদ সা. বললেন : তুমি তোমার গর্ভের সন্তান করে এসো (প্রসবের সময় হলে)
- নারীটি সন্তান জন্ম দিয়ে সন্তানটিকে কারো কাছে রেখে শাস্তি নেয়ার জন্যে আদালতে গেলো
- এই মুহাম্মদ সা.-এর আদালত বললো : তাকে কি দুধ পান করানো শেষ হয়েছে?
- নারী : না
- মুহাম্মদ সা. বললেন : তাকে তার পূর্ণ সময় দুধ পান করিয়ে তারপর এসো
- নারীটি শিশুকে তার দুধপান করা বয়স পর্যন্ত দুধ দিয়ে আবার আদালতে আসলো
- এইবার আদালত তার উপর শাস্তি কার্যকর করলো
- পাথর মেরে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার সময় পাথর লেগে রক্ত ছিটকে এসে উমর রা.-এর মুখে লাগলো- উমর রা. রাগে নষ্ট মেয়ে বলে গালাগাল দিলেন।
- মুহাম্মদ সা. ধমকে উঠলেন " উমর - নারীটি যে তাওবা করেছে - তার তওবার (অনুতপ্ত হয়ে শাস্তি মেনে নেয়া) জন্যে সে এখন অনেক মর্যাদাবান)।
(পরকালে বিশ্বাসী প্রকৃত মুসলিমরা এই মনোভাবই পোষন করে থাকে)।
খুনো খুনি যেমন সমাজে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে তাই শরয়ী বিধানে খুনের বদলা- মৃত্যুদন্ডই কার্যকর করা হয় অথবা যদি ভিকটিম ফ্যামিলি অর্থকড়ি বা অন্যকোনো ভাবে রক্তের ঋণ শোধরাতে চায় তবে আদালত সেভাবেই রায় দেবে, আর যদি ভিকটিম মৃত্যদন্ড চায়, তবে তাই দেবে।
এখন আমরা মানতে পারি আর না পারি
ব্যভিচারকে ইসলাম হত্যার মতোই বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করে
আর কিছুই বলবো না এটুকু ছাড়া -
হেনার উপর যারা নির্যাতনের আদেশ দিয়েছে এবং নির্যাতন চালিয়েছে :
সেই মোল্লাদের পাথর মেরে হত্যা করা দরকার এই জন্যে যে তারা রাষ্ট্রীয় আইন নিজ হাতে তুলে নিয়ে সমাজে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করছে।
ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী জনপদের মানুষ হত্যাকারীর সমান
হেনার উপর যে পাশবিকতা চালিয়েছে - রাষ্ট্র যেন তার হিসেবে পাথর মেরে মৃত্যু দন্ড কার্যকর করে (যদি বাংলাদেশে এই বিধান থেকে থাকে)
রাষ্ট্র ছাড়া শরিয়ার হদ (শাস্তি) কার্যকর করার ক্ষমতা কোনো মানুষের বা সমাজের নেই।
আমি যেই রাষ্ট্রে বসবাস করি- এখানে আমি কোনো অপরাধ করলে রাষ্ট্রীয় আদালত যেই বিচারিক বিধান দিবে- আমি সেটাই মেনে নেবো, বলবো না যে, আমাকে শরিয়া আইনে শাস্তি দেয়া হোক।
আমার চিন্তা চেতনায় শরয়ী বিধান আছে এবং আমি এর অনুসারে নিজের জীবন গড়তে চাই।
এখন আমার জীবদ্দশায় রাষ্ট্রীয় বিধান শরয়ী না হলে আমার ব্যর্থতা না। আমার ব্যর্থতা এটা যে, আমি ধ্যান ধারণা পোষন করলাম অথচ ব্যাক্তিগত জীবনে (রাষ্ট্রের আনুগত্যের বাইরে) এ্যাপ্লাই করলাম না।
- আমি মুসলিম, মুহাম্মদ সা.-এর আদর্শে বিশ্বাসী তাই এরকম ধারণা পোষন করি : এটা কোনো নতুন ইসলামি ভাবধারা না- যে যেভাবে তাদের মতাদর্শ প্র্যাকটিস করে বা সমাজে প্র্যাকটিস করা হয় সেটাই প্রকৃত বা মৌলিক নয়, যেমন নয় গ্রামের মানুষের জীবনাচার শহরের মানুষের জীবনাচারের মতো। আমি যেভাবে কম্পিউটারের কিবোর্ড চালনা করি সেটা গ্র্যামাটিক্যাল নাও হতে পারে- বাংলাতে সবাই কথা বলে- তাই সব সমাজে ব্যাকরণীয় ভাষার প্র্যাকটিস হয়না - যেমন হয়না ইসলামের প্র্যাকটিস সব দেশে মুহাম্মদ সা.-এর মতো করে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।