আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

লটারিতে ছাত্র ভর্তি : একটি প্রতিক্রিয়া



লটারিতে ছাত্র ভর্তি : একটি প্রতিক্রিয়া নামি দামি স্কুলের ব্যাপার স্যাপারই আলাদা। এইসব স্কুলে ভর্তি হতে এক সময় লাখ লাখ টাকার ডোনেশন প্রথার কথা শুনা যেতো। বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বুয়েট বা চিকিৎসা শিক্ষার উচ্চতর কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, সন্তানের প্রাথমিক শিক্ষার তথা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবনের সূচনা করতেই ‘ডোনেশন’ নামের দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তে হতো অভিভাবকদের। এইবার দেখলাম নতুন একটা পদ্ধতি চালু হয়েছে বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করার জন্য। লটারির মাধ্যমে নির্ধারন করা হচ্ছে কে ভর্তি হতে পারবে, কে পারবে না! এই পদ্ধতিটির নাম ‘ডিজিটাল ভর্তি পদ্ধতি’ করা হয়েছে কী না তা অবশ্য জানতে পারিনি।

তবে লটারি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে কোন কোন পত্রিকার খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের কিংবা রাজধানীর সব স্কুলে ভর্তির জন্যে কিন্তু এই অবস্থা নয়। খোদ রাজধানীরই অনেক স্কুলে কিন্তু ছাত্রই পাওয়া যাচ্ছে না। লটারি প্রক্রিয়া চালু হয়েছে ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য। অর্থ্যাৎ ‘ভালো স্কুল’ ‘মন্দ স্কুল’ বলে বিভাজিত আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোভ লটারিতে চান্স না পাওয়া ছোট্ট বাচ্চাটিকে বাধ্য হয়ে ভর্তি হতে হবে ‘মন্দ স্কুলে (!)’।

তার মনের মধ্যে গেথে থাকবে একটা কথা সে ভালো স্কুলের ছাত্র নয়, মন্দ স্কুলের ছাত্র। ভালো স্কুলের ছাত্র হওয়ার যোগ্যতা কিন্তু মেধা,পড়াশুনা পরিশ্রম এই সবের কিছুই নয়। স্রেফ লটারি- যাকে আমরা জুয়া খেলাও বলতে পারি। কোমলমতি এই শিশুদের ভবিষ্যত নির্ধারিত হচ্ছে জুয়া খেলার মাধ্যমে। অনেক মা বাবাই হয়তো বলবেন, লটারিটা হচ্ছে আসলে ভাগ্য।

কোমলমতি শিশুদেরও সান্তনা দেওয়া হবে এই বলে ভাগ্যে নেই বলে চান্স পায়নি। বাচ্চাটি অজান্তেই অদৃষ্টকে গালি দিতে দিতে অদৃষ্টবাদী হয়ে উঠতে পারে। তাতে তাকে দোষ দেওয়ার সুযোগ নেই। সে যদি স্থির করে পড়াশুনা নয়,পরিশ্রম নয়, ভালো হওয়ার একমাত্র নিয়ামক হচ্ছে ভাগ্য এবং সেইভাবে নিজের মানসিকতাকে গড়ে তুলে তবে তাকে দোষ দেওয়ার সুযোগ নেই। পশ্চিমে ভালো স্কুল খারাপ স্কুলের বিভাজনের কথা তেমন একটা শুনা যায় না।

হ্যাঁ, স্কুলগুলোর পারফরমেন্সের উপর একটা রেটিং অবশ্যই হয়। আর বাচ্চাদের শিক্ষা জীবনের শুরুতেই এতো ‘ভগিচকি’র মুখোমুখি হতে হয় না। চার বছরের বাচ্চাটি তার বসবাসের পাশের স্কুলেই ভর্তি হতে হবে এবং তার জন্যে নিয়মিত টিকা দেওয়ার ডাক্তারি কাগজটি ছাড়া আর কিছু দেখানোরও প্রয়োজন পড়ে না। পশ্চিমে শিক্ষাটা হচ্ছে বাচ্চার অধিকার। রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব তাকে সেই অধিকার দেওয়া।

ভালো বা খারাপ স্কুল কিংবা অন্যকোনো বিভাজনে তাকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কিংবা বৈষম্যমূলক আচরন করার সুযোগ নাই। কিন্তু আশ্চর্য, বাংলাদেশে কোনো শিক্ষাই নাগরিকের অধিকার নয়, উচ্চ শিক্ষাতো নয়ই, জীবনের শুরুতে প্রাথমিক শিক্ষা সেটাও না। আর বৈষম্যহীন শিক্ষার প্রসঙ্গ তোলা তো অবান্তর।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।