আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি আকুল আবেদন

'জীবন' হলো এক কাপ গরম চা আর একটা জ্বলন্ত বেনসনের মতো। গরম চা একসময় জুড়িয়ে যাবে, বেনসনের তামাকও পুড়ে শেষ হয়ে যাবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,বঙ্গবন্ধুর মানসকন্যা, গণতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী, জনগণের নেত্রী, বাংলাদেশের ’দু'দু'বার করে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, দেশরত্ন, দেশনেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি একটি আকুল আবেদন পেশ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সম্প্রতি আপনি রাশিয়া থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেছেন। অতীতেও আপনি বহু ডিগ্রী লাভের আকাঙ্খা পূরণ করেছেন, দেশ ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

আজ এই মাহেন্দ্রখনে আপনার নিকট হতে কিছু প্রাপ্তি লাভের আশা করছি। দেশ, জনগণ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র - কেউই কখনও আপনার থেকে এ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরে যায়নি। তার অনন্য সাধারণ উদাহরণ হলো আপনি দেশ ও জাতির উন্নতির লক্ষে ভারতকে ট্রানজিট দিতে চেয়েছেন। ভারতের মালবাহী ভারী গাড়ি বাংলাদেশের রাস্তার ওপর দিয়ে বিনা শুল্কে চলাচলের অনুমতি প্রদানের চিন্তা-ভাবনা করেছেন। একই সাথে ভারতকে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও চট্রগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিতে চেয়েছেন।

বেশ কিছুদিন আগে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত ভারত কর্তৃক দাবীকৃত ’টিপাইমুখী বাঁধ’ নির্মাণের অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন। এছাড়াও দেশের উন্নতিকল্পে ভারত থেকে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করতেও আপনি কার্পণ্য বোধ করেন নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি ভারত সফরে গিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যে সকল চুক্তি করার পরিকল্পনা করেছেন, আমরা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে যতটুকু জেনেছি, তাতে বোধগম্য হয়েছে, সকল চুক্তিতেই ভারত সন্তুষ্ট হয়েছে। আমার বিশ্বাস, পত্রপত্রিকার দ্বারা আমরা 'Tip of the Iceberg' জেনেছি, এই 'Iceberg' এর সুবিশাল submerged অংশ সম্পর্কে আসলে আমরা কখনই জানতে পারবোনা, জানার চেষ্টা করাটাও বৃথা। তবে নিজের মনকে সান্ত্বনা দেই এই ভেবে যে, ওই সকল অদৃশ্য চুক্তিতে বাংলাদেশ না হয় উপকৃত না হলো, কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশের মানুষজনতো অন্ত:ত সুফল পাবে।

দেশের মানুষকেও আপনি যে খালি হাতে ফিরান না, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো দেশের প্রতিটি সেক্টরে দলীয়করণ করে আওয়ামী নেতাকর্মীদেরকে আপনি কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করেছেন। বিরোধী দলের আহূত হরতালে জনগণ যেন কষ্ট না পায় এজন্য আপনি পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে আটক করে জনগণের দুর্ভোগ কমিয়েছেন। আপনার মহানুভবতার সাম্প্রতিক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো বিরোধী দলীয় নেত্রীকে তার আবাসস্থল থেকে উচ্ছেদ করে সামরিক বাহিনীকে বাড়ি বুঝিয়ে দিয়েছেন। Click This Link চারিদিকে যখন আপনার এত দান-অনুদানের ছড়াছড়ি, তখন এই অধমের একটি আর্জি পেশ করছি। আপনি হয়তো অবগত আছেন যে, খ্যাতি সম্পন্ন জনাব শাহরুখ খান ওরফে কিং খান আগামী কাল বাংলাদেশে আসবেন।

তার এ আগমন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে টিকিট ক্রয়কারী ও অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যক্তি গতকাল টেলিফোনে জানিয়েছেন, তারা ২৫ হাজার টাকার টিকেট ৫০ হাজার টাকায় ক্রয় করেছেন। আয়োজকরা তাদের আশ্বস্ত করেছেন সামনের সারিতে বসিয়ে দেবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি নিতান্তই একজন ছা-পোষা চাকুরীজীবি মানুষ। মাস শেষে সর্বসাকুল্যে ১১,৫০০/= টাকা পাই যা দিয়ে নির্বাচনের আগে আপনার প্রতিশ্রুত ’ডিজিটাল বাংলাদেশে’ জীবিকা নির্বাহ করা আমার পক্ষে দু:সাধ্য একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু জনাব শাহরুখ খানের অনুষ্ঠান সামনের সারিতে বসে সরাসরি দেখার মনোকামনা আমার বহুদিনের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি যদি জনাব শাহরুখ খানের অনুষ্ঠানের একটি টিকিটের ব্যবস্থা আমাকে করে দেন, তাহলে আমার সেই লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজ পর্যন্ত কেউ কখনও আপনার কাছে চেয়ে ফিরে যায়নি। আমার উপরিউক্ত আর্জিটি বিবেচনাপূর্বক জনাব শাহরুখ খানের অনুষ্ঠানের একটি টিকিটের ব্যবস্থা আমাকে করে দিয়ে বাধিত করবেন। বিনীত নিবেদক, লেখক



এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.