তারা ভরা রাতের নিষাচর...
ঈদের দিন গুলো সবসময়ই প্রায় একই রকম কাটে। সকালে উঠে তাড়া থাকে নামায ধরার, গোসলেও লাইন। এইদিকে বাবা "নামাজ পাবি না! পাবি না! " বলে চিৎকার করতে থাকেন। পিচ্চিগুলো এই সকালে গোছল করবে না আরও নানা আব্দারে ঘরে মোটামুটি নরক গুলজার অবস্থা। যা হোক গোছলের ফাড়াটা কাটলে মসজিদের দিকে ছুট এবং প্রতিবারই যথারীতি ময়দানের বাইরে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায়।
তখন প্রায়ই ছাত্র জীবনে পঠিত LIFO( last in first out) মেথডের কথা মনে পড়ে যায়। অতঃপর দু চারজন পরিচিত মানুষের সাথে বুক মিলিয়ে আর খানার দাওয়াত দেয়া পূর্বক বাসায় ফেরৎ আসা।
পরবর্তি পর্ব হল গরু জবাই...। এই পর্বে সবাই সম্মিলিত ভাবে একটা অবলা জানোয়ারের উপর ঝাপিয়ে পরে তাকে পাষবিক ভাবে জবাই করে ... তারপর মহা সমরহে গোস্ত সাইজ করাতে ব্যস্ত সময় কাটানো। বিকালে বাংলা নাটক ছিনেমার সাথে সাথে দুই চারজন মেহমান এবং আনেক ফকির সামলানো।
সন্ধ্যার দিকে আম্মা আর আপা অর্থাৎ বাসার মহিলা সমিতী কতৃক ব্যপক ঝাড়ি .. কেন গোস্ত ঠিকমত কাটা হয়নি ..রানের মাংস কই..মাংস এভাবে কেউ কাটে..এত টাকা দিয়ে কসাই রেখে সব আমাদেরই করতে হলো..।
এইসব আরকি।
বাদ মাগরিব বন্ধুদের আড্ডায় জীবন সম্পর্কে ব্যপক হতাশা প্রকাশ এবং এর মাঝে ওর ফোন। যাওবা মনটা একটু ভালো হওয়া শুরু করতেই ওর কোন গুরু( নাকি গরু) জন কতৃক ডাকিত(!) হয়ে বিচ্ছেদ।
সবশেষে একটু রাত করে বাসায় ফেরার ফলাফল হিসাবে বাবা কতৃক ব্যপক ঝাড়ির মাধ্যমে দিনাতিপাত।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।