মানুষ খুভই অস্থির এবং যে একবারো পাগল হয়নি,সে নিজের সত্তা এবং বাহিরের সত্তা থেকে নিজেকে বঞ্ছিত করেছে, আমি সেই পথেরই পথিক হতে চাই কিন্তু সত্তার পথ যেমন অস্পষ্ট তেমনি অনিশ্চিত। তারপর ও পথ চলা এবং চলতে থাকবে>>> বিভিন্ন সময়ে লেখাগুল এক সাথে দেয়া হল নিম্নে
এই রাজাকাররা যদি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ফাঁশির দড়িতে না জুলে মরে, তাহলে দ্বিতীয় জীবন ছাড়া পৃথিবীর বুকে বাঙ্গালি কলঙ্ক মুছে আর স্বাধীন হতে পারবে না। এটা শুধু সময়ের দাবী না, এটা পুরো জাতির বিষয়। কোন বাক্তির না, কোন দলের না, পুরো বাংলাদেশীদের বেঁছে থাকার দাবী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলে যাবে কিন্তু বয়ে বেড়াতে হবে যুদ্ধাপরাধের কলঙ্ক।
এই বাংলার স্বাধীন মাটিকে আস্তে আস্তে কুলসিত করবে রাজাকারদের বিচারহীন শরীরের মাংস, দূষিত করবে বিচারহীন রাজাকারদের অবৈধ নিঃশ্বাস।
৭১ রে ২ লক্ষ মা-বোনের উজ্জত ও ৩০ লক্ষ শহীদের জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল, আজ আমরা নতুন প্রজন্ম আরেকটা যুদ্ধ করে এই মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দিয়ে যুদ্ধ শেষ করবো।
যদি এমনও হয় যে যুদ্ধাপরাধীরা মগজে ডুকে গেছে, দরকার হলে মাথা কেটে ফেলবো, তারপরও এই দেহে তাদের বাঁচতে দিব না।
সবার ভাষা ভিন্ন হতে পারে কিন্তু লক্ষ এক,
মুক্তি যুদ্ধের মাটিতে, রাজাকারদের ঠাই নাই। এক দাবী এক রায়, রাজাকারদের ফাঁশি চাই।
রাজাকারদের কবর হবে, পাকিস্তানের মাটিতে।
সেই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তরুণ থেকে শুরু করে মুক্তি যোদ্ধা শত শহস্র মানুষ শাহবাগ মোড়ে কসাই কাদেরের যাবত জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাখ্যান করে ফাঁশির দাবীতে গন আন্দোলন গত কাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে আজ অব্দি চলে আসছে ও চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত ফাঁশির রায় কার্যকর না হয়। সময়ের সাথে সাথে মানুষের পদচারনায় আন্দোলন আর বেগবান হচ্ছে।
প্রজন্ম চত্বরে নতুন প্রজন্মের ডাকা মহাসমাবেসে দল বল নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ আশা করছি যেমনটি ৭১ এ হয়ে ছিল, আজ আরেকটা যুদ্ধের ডাক, যে ডাক রাজাকারদের ফাঁসির দাবী।
আজ প্রজন্ম চত্বরে মহাসমাবেস।
সকালের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পদচারনায় মুখরিত তরুণ প্রজন্মের এই প্রজন্ম চত্বর(শাহবাগ,শাহবাগ স্কয়ার)। তাদের একটাই বেহিসেবি কথা, রাজাকারদের ফাঁশি চাই। বেহিসেবি একারনেই বলা যায়, এরা রাজনীতির হিসাব করে না, করে না নিজের স্বার্থের চিন্তা। নিজেরা যেটা দেশ জাতির জন্যে ভাল মনে করে, সেটার জন্যে জীবন পর্যন্ত দিতে পারে। যেমন দিয়েছিল ৫২,৬২,৬৯,৭১,৯০ এ।
হিসাব না করেই এই তরুণরা বিপ্লবে জাপিয়ে পড়ে, আর যারা ক্ষমতার হিসাব নিয়ে ব্যস্ত, ক্ষমতার জন্যে নিজের মা-মাতৃকাকে বিক্রি করে দিতে পারে, আপোষ করতে পারে, তারা পরে এই বেহিসেবি তরুণদের পিছু ধরে। কোন আপোষ নায়, কোন সমজতা নয়। একটাই দাবী, কসাই মল্লা সহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁশির রায় এই তরুণ প্রজন্ম দেখতে চাই। সে জন্যে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের চেতনায় সিক্ত হয়ে অগ্নি দগ্ধ চোখে আরেকটা যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে এই বলে যে ;
“ একাত্তরে হয়নি সাঁজা, মুক্তি যুদ্ধ হয়নি শেষ”
পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ও মুক্তি যুদ্ধের সঠিক চেতনার বাস্তবায়ন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁশি নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত করতে আজকে তরুণদের এই মহাসমাবেস। ইতিহাস আবারও সাক্ষী হয়ে থাকবে মুক্তি যুদ্ধের চেতনায় সিদ্ধ নব্য মুক্তি যোদ্ধাদের ডাকা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁশির দাবীতে আজকের মহাসমাবেসে।
মহাসমাবেসে থাকবে না কোন ব্যানার, কোন দল, কোন ব্যক্তি স্বার্থ কায়েমি মহল। সব কিছুর উপরে দেশ ও মাকে স্থান দিয়ে সবার অংশগ্রহণ কামনা করে একটাই কথা
“ ফাঁশি, ফাঁশি, ফাঁশি চাই, রাজাকরদের ফাঁশি চাই”
মাথায় একটাই কথা, একটাই স্লোগান
,ক্ষোভ, ঘৃণা, হতাশা, অন্যায় বিচারের প্রতীবাদে একটাই বহিঃপ্রকাশ
বুকের বেথর জ্বলছে আগুন, সারা বাংলায় ছড়িয়ে দাও।
৭১ এর রাজাকারদের বিচার ও ২০১৩ সালের নব্য মুক্তিযুদ্ধে নব্য রাজাকার
আমরা নব্য মুক্তিজুদ্ধারা আরেকবার নব্য রাজাকারদের চিনে রাখলাম যেভাবে আমাদের পূর্বপুরুষেরা ৭১ এ রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি বাহিনীদের চিনেছিল। আজ সেই মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী যারা ধর্মের নামে লুট করেছে, ধর্মকে ব্যাবহার করে খুন হত্যাকে করেছে বৈধ, এমন কি ধর্মের মুখোশ পরে আমদের মা-বোনদের করেছে ধর্ষণ, তাদের লাম্পট্যের শিকার হয়েছে আমাদের ২ লক্ষ মা-বোন। তারা তাদের এত কিছু করত, এত অপকর্ম, এত মানবতাবিরোধী কর্ম, এত ঘৃণিত, এত নিকৃষ্ট, এত জঘন্ন, এত বিকৃত রুচি চরিতার্থ করত, শুধুই ধর্মের দোহাই দিয়ে।
নারীর ইজ্জত হননে ধর্ম নাকি তাদের বৈধতা দিত “গনিমতের মাল” হিশেবে। নিজের মেয়ে মাকে পর্যন্ত গণিমতের মাল বানাতে কুণ্ঠবোধ করেনি এই রাজাকার যুদ্ধাপরাধীরা।
আজ, ৪২ বছরে আমরা তাদের বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁর করিয়ে বিচার করতে পেরেছি, এটাও আমাদের অনেক বড় পাওয়া কিন্তু যথেষ্ট নয়। জামাতে এচলামি (বর্তমানে জামাতে ইসলামী) ও এচলামি ছাত্র সংঘ (বর্তমানে ইসলামী ছাত্র শিবির) যারা ৭১ এ বাংলার স্বাধীনতার বিরোধিতাই করে ক্ষান্ত হননি, বরং সাধারান মানুষ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধাদের খুজে খুজে খুন করত, সাথে ধর্ষণ ও লুটপাট তো আছেই। এমনকি স্বাধীনতার এক দিন আগে (১৫ ডিসেম্বর), যখন তারা বুঝতে পারল, বাংলা স্বাধীন হচ্ছে, তখন তারা আমাদের পঙ্গু করতে ধরে ধরে বুদ্ধি জীবীদের মেরে ফেল্ল যাতে আমরা স্বাধীন হলেও মাথা উছু করে দাড়াতে পারিনি, আজ আমরা তাদেরি সুবিচার চাইতে আসছি।
আজ, যারা তাদের বিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলছে, ট্রাইবুনাল ভেঙ্গে দিতে চাইছে, দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করছে, তারা ৭১ এর রাজাকারের রক্তে বিষাক্ত হয়ে বাংলার মাটি, আকাশ বাতাস দূষিত করছে, তাদেরও আমরা আইনের আওতায় এনে বিচার চাই। তাদের আমরা নব্য রাজাকার বলে রাজাকারদের ও শাস্তি কামনা করি।
জাতি দেখেছে, ক্ষমতার পালাবদলের জন্যে যুদ্ধের স্বপক্ষের দল ও দলসমূহ এই মানবতাবিরধি যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নিয়ে তাদের হাতে মুক্তি যুদ্ধের স্বাধীন পতাকা তুলে দেয়, তাদের সাথে গোপন আঁতাত ও সমজতা করে কিন্তু এই বীরবাঙ্গালীর সন্তানেরা যে ভাবেই হোক, যত আঁতাত ই হোক না কেন, মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের ন্যায় বিচারে মাধ্যমে ফাঁশি নিশ্চিতের লক্ষে হাজার হাজার তরুণের স্লগানে মুখর শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর যেখানে শুধু তরুণরাই না, ৮ বছরের শিশু থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁশির দাবী নিয়ে আসছে। যারা মুক্তি যুদ্ধ দেখেনি, তারা আজ ১৩ (৫ ই ফেব্রুয়ারি,২০১২) এ নব্য মুক্তিযুদ্ধে (দ্বিতীয় মুক্তি যুদ্ধ) অংশ গ্রহণ করে রাজাকাদের সহ নব্য রাজাকারদের ফাঁশি ও শাস্তি দাবী জানাই। এ দাবী শুধু তরুণদের নয়, এ দাবী সমাজের সর্বস্তরে মানুষের, তাই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ আজ এই আন্দোলনের সাথে একাত্মা ও সঙ্গতি জানিয়ে ন্যায় বিচারের মাধ্যমে ফাঁশি রায় নিশ্চিতের দাবী করছে।
আর যারা এই আন্দোলনকে ব্যাহত করতে চাই, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাঞ্চাল করতে চাই, তাদের (নব্য রাজাকারদের) ও আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী জানাই।
সবার অংশগ্রহণে আমাদের প্রানের দাবী যে দাবী ৪২ বছরেও পুরন হয়নি, আমরা কলঙ্ক মুক্ত হতে পারিনি, আজ আমদের কলঙ্ক মুক্তির লক্ষে,সবাই শাহবাগের দাবীর সাথে সাড়া দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি (ন্যায় বিচারের মাধ্যমে মৃত্যু দণ্ড) নিশ্চিত করি।
কাদের মোল্লা সহ সকল মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে রাষ্ট্র পক্ষের প্রসিকিউশনঃ
রাষ্ট্র পক্ষের প্রসিকিউশনের ভূমিকাঃ
এখন পর্যন্ত কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুল একজন ব্যক্তি হিসেবে আনা হয়েছে (Individual Criminal Responsibility) যেটা রাষ্ট্র পক্ষের বিজ্ঞ প্রসিকিউশনের কোন কৌশলগত দুর্বলতার বহিরপ্রকাশ হতে পারে। এছাড়াও তাদের যুক্তি তর্কের অদক্ষতা, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের ব্যর্থতা যুদ্ধাপরাধীদের ন্যায় ও উপযুক্ত শাস্থি (ফাঁশি) নিশ্চিতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু বাংলার সাধারণ জনগণের একটাই দাবী, যে যারা ৭১ এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করে সাধারণ মানুষ থেকে বুদ্ধিজীবী, ধর্ষণ, হত্যা, লুণ্ঠন আর অপকর্মের মাধ্যমে বাংলার ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা ও ২ লক্ষ মা-বোনের উজ্জত হরণ করেছে, তাদের একটাই শাস্তি ফাঁশি হওয়া উচিত।
তাই জনগণের ৪২ বচরের প্রানের দাবী আইনের মাধ্যমেই যুদ্ধাপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যে বিজ্ঞ প্রসিকিউশন কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে নেতা হিসেবে অভিযোগ (Superior Responsibility) আনতে পারে, ৬ অভিযোগ ছাড়াও আর নানা অভিযোগ কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আছে, সেগুল আনতে পারে, কারণ গনজাগরণের প্রাথমিক ফলাফল আইন সংশোধন সহ একটি অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যেখানে ভিকটিম, প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষীরা নির্ভয়ে এবং স্বতঃস্ফুরতভাবে এগিয়ে আসবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।
কাদের মোল্লা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদুল্লাহ হল ইউনিটের ইসলামী ছাত্র সংঘের (বর্তমানে ইসলামী ছাত্র শিবির) তৎকালীন নেতা। তার অধীনেই ইসলামী ছাত্র সংঘের নীতি ও কর্মসূচী বাস্তবায়িত হত। তাদের নীতি ও কর্মসূচীর ফল ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ক মা-বোনের উজ্জত। এই রাজাকার আলবদর আলশামস মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগিতার কারণে ৯ দিনের যুদ্ধ ৯ মাস লাগসে।
তাই তাদের ন্যায় ও উপযুক্ত শাস্তি না হলে বাঙ্গালি জাতি কলঙ্ক থেকে কখনোই মুক্তি পাবেনা, স্বাধীন হয়েও একটা পরাধীনতার অন্ধকার আচ্ছন্ন শিকলে বন্ধি থাকবে। ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহিত হওয়াই সাধারণ জনগণ আস্থাহীন হয়ে পড়েছে, তারই ফল হিসেবে ৫ তারিখ থেকে চলমান ঢাকার শাহবাগ থেকে শুরু করে সাড়া দেশে গণজাগরণে গর্জে উঠেছে তরুণ প্রজন্ম সহ সর্বস্তরের জনসাধারণ, তাদের একটাই দাবী কাদের মোল্লা সহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের ন্যায় বিচারের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি ফাঁশি নিশ্চিত করা।
জামাত শিবির রগ-গলা কেটে হত্যাকে বৈধতা দেয় জিহাদের নামে। ধর্ষণকে নারীর পোশাকের দোহায় দিয়ে নিজের যৌন লালশার চরিতার্থ করতে বৈধতা দেয়। অর্থাৎ তারা তাদের লাম্পট্য, হীন স্বার্থ, হত্যা ইত্যাদিকে ইসলামের নাম ব্যবহার করে জ্বিহাদ বলে চালিয়ে দেয়।
আসলে এরা ধার্মিক না কিন্তু ধার্মিকের মুখোস পরে ধর্মকে সাধারণ মানুষের কাছে বিদ্বেষাসাগার করে অধার্মিক কার্যক্রম চালিয়ে সমাজে একটা অস্থিতিশীলতা তৈরি করে। যেমন হয়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে। বাংলার কে পাকিস্তান বানাতে ৭১ শালে ব্যর্থ রাজাকার আলবদর আলশামস সহ মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীরা আজ আবার সক্রিয় হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বরের মত তারা আবার মুক্তি যুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও উদীয়মান প্রগতিশীল ব্লগারদের টার্গেট করে করে গলা কেটে নির্মম ভাবে হত্যা করছে। ২০১৩ তে নব্য মুক্তি যুদ্ধে (দ্বিতীয় মুক্তি যুদ্ধ) যখন মানবতাবিরোধী যুদ্ধপরাধীদের ন্যায় ও উপযুক্ত শাশ্তির দাবীতে তরুণরা জেগে উঠেছে, তখনই নব্য রাজাকাররা রাজিব হায়দার শোভকে রাত প্রায় সাড়ে ৯ টায় গলা কেটে নির্মম ভাবে হত্যা করে তার বাসার সামনে ফেলে দেওয়া হয়।
তার বলে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ড জ্বিহাদ, স্রস্টার পথে নিয়জিত কাজ।
মূলত, এরা মুসলমানের ছদ্ধবেশ ধারণ করে নিজেরদের ল্যাম্পটা, হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে সাধারণ মানুষের সমর্থন পেতে ইসলামকে পূঁজি করে। এরা মটেও ইসলামের খেদমতে উৎসর্গিত নয়। সাধারণ মানুষের সংবেদনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বীরত্বের মাধ্যমে জখম, হত্যা, রাহাজানি, অরাজকতা ইত্যাদি করে থাকে। ইসলামের মাধ্যমে তারা এই মানবতাবিরোধী কাজগুলোকে বৈধ তো করেই উপরন্তু এই কাজ করলে স্রষ্টা সন্তুষ্ট হয়, এই সেন্টিমেন্ত সাধারনের মাঝে ছড়িয়ে দেয়।
এখন সময় এসেছে সাধারণ মানুষের, তাদের ধর্মকে এই ধর্ম ব্যবসায়ী, ধর্মের নামে রাজনীতি ও জ্বিহাদের নামে হত্যা, জখম, রাহাজানি, ধর্ষণ (গণিমতের মাল), বিশৃঙ্খলার প্রতি রুখে দাঁড়ানো। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আরেকটা দায়িত্ব তাদের ধর্মকে অপব্যবহারের হাত থেকে রক্ষা করা, সতর্ক ও সচেতন থাকা যাতে কেউ ধর্মকে অপব্যবহার করতে না পারে। ধর্ম সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে, তাই যারা ধর্মকে ব্যবহার করে অশান্তি অরাজকতা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, তাদের কে খুজে বের করে উপযুক্ত ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্থি দিয়ে মোসলমানদেরকে কলঙ্ক মুক্ত হতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ বীক্ষণ
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাঃ মালিকানা ছাড়বো না
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাঃ আপোষ কারিদের ছাড়বো না
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাঃ লুটেরাদের ছাড়বো না
৭১ ও নব্য মুক্তিযুদ্ধে ধর্ম রক্ষার নামে জামাত ইসলামী ও শিবিরের নৃশংসতা
সালটা ২০১৩, দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ বা নব্য মুক্তিযুদ্ধে জামাত ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির ধর্মের দোহায় দিয়ে সাধারণ মানুষের সংবেদনশীলতা ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে উদীয়মান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ তরুণ প্রজন্ম ও ব্লগারদের হত্যা শুরু করেছে এবং নারীকে অন্ধকারে রাখার জন্যে নারী বিপ্লবীদের চরিত্র নিয়ে অশ্লীল খেলা খেলছে ও ধর্ষণের ইন্দন যোগাচ্ছে। তাদের হত্যাকাণ্ডের নব্য মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ রাজীব হায়দার ।
একাত্তরেও জামাত ইসলামী ও ছাত্র শিবির মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতের দালাল বলত আর বুদ্ধিজীবীদের ইসলাম বিরোধী বলে হত্যা করত। বর্তমানেও তাদের সেই নৃশংসতার পরিবর্তন হয়নি কারণ তারা কখনো বাংলার মাটিকে নিজের মনে করতে পারেনি, দেশকে আপন ভাবতে পারেনি। পাকিস্তানই তাদের অন্ধ মাতৃভূমি ও মৃত্যু পর স্বর্গ। যদি দেশকেই তারা ভালোবাসতো তাহলে দেশের ক্ষতি তারা করতে পারত না, নিজের বাঙ্গালি ভাই-বোনকে হত্যা ও ধর্ষণ করতে পারত না হোক তারা হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান অথবা অন্য ধর্মের, অন্য বর্ণের, অন্য জাতের অথবা অন্য মতের।
ধর্ম কখনো সহিংসতা শিক্ষা দেয়না, কিন্তু জামাত ইসলামী ও ছাত্র শিবির ধর্মকে ব্যাবহার করে আর্ত-সামাজিক-রাজনৈতিক ফায়দা লুটে ও ধর্ম রক্ষার নামে সহিংসতা সৃষ্টি করে।
প্রকৃত পক্ষে, ধর্ম স্রেফ তাদের হীন স্বার্থ, লাম্পট্য ও বিকৃত রুচি চরিতার্থ করার মাধ্যম ছাড়া অন্য কিছু নয়। ফলে তাদের জন্যে সত্যিকার ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা তাদের দোষে দুষ্ট হচ্ছে, সুতরাং তাদেরকে প্রতিহত করতে ধর্মপ্রাণ মুসলিম ও সাধারণ মানুষদেরকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে।
বাঙ্গালির আত্নপরিচয় ৫২, জাতীয়তা ৭১ ও সেগুলোর বাস্তবায়ন ২০১৩ এর গণজাগরণ
গণজাগরণের মূল দাবী এখন আর শুধু যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায়ে সীমাবদ্ধ নয়, মানবতাবিরোধী সংগঠন জামাত ইসলামী ও ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যাবহার বন্ধ সহকারে দল বল নির্বিশেষে সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সুনিশ্চিত করা যেখানে রাষ্ট্রপতির কোন ক্ষমাই বহাল না রাখা। সর্বোপরি, গণজাগরণে সাধারণ জনগণের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে যে দেশ গড়ার আশা দেখেন, সেই আশা আবার জেগে উঠেছে। তার বিস্তার আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত হয়ে সমাজের ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী সর্বস্তরের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি সহ মৌলিক অধিকার বাস্তাবায়ন করে মুক্তিযুদ্ধের চার নীতি ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও জাতীয়তা প্রতিষ্ঠিত করা।
এ জন্যে চাই, রাজনৈতিক কাঠামো সহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বদেশ চেতনা, দেশকে একটু নিজের মা ভাবা, এর বেশি কিছু নয়।
বাঙ্গালি ৫২ তে নিজের ভাষার জন্যে জীবন দিয়ে মায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করে আত্নপরিচয় অর্জন করেছে, ৬২ তে একমুখি ও বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা আন্দোলনে শহীদ হয়ে জয়ী হয়েছে, ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ব্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে জাতিয়তার পরিচয়ে মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছি। সর্বশেষ ৯০ এ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। কিন্তু তার পরবর্তী সময়সমূহে ক্ষমতার পালাবদল হলেও মানুষের ভাগ্যের অবস্থান ৫২ এর আগে পাকিস্থানের উপনিবেশিক ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনে জর্জরিত। তাহলে এত ত্যাগ-তিতিক্ষা, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়ায় সমগ্রাম, মুক্তির চেতনায় গর্জে উঠা, আত্নপরিচয়ে বলিয়ান হওয়া, জাতীয়তার পরিচয়ে বিশ্বের দরবারে নিজেদের অবস্তান জানান দেয়া, আর্ত-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে জাগ্রত হওয়া, সবই কি শূন্যে বিলীন হয়ে ব্যর্থ হবে, লাখো শহীদের রক্ত বৃথা যাবে??
না, না, বাঙ্গালি আজ আবার জেগে উঠেছে তারুণ্যের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, আবার আশা দেখতে শুরু করেছে নব্য মুক্তিযুদ্ধের জাগরণে, এখন সময়ের দাবী একটাই সেটাকে বাস্তবায়ন করার জন্যে এই চেতনা ও জাগরণ ধরে রাখা।
আর এই সব কিছুরই মূলসূত্রপাত হচ্ছে ছাত্রদের আর্ত-সামাজিক-রাজনৈতিক সচেতনতা ও ছাত্র আন্দোলন যা পরবর্তীতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একই কাতারে শামিল করে।
জয় বাংলা, জয় মুক্তিযুদ্ধ
জামাত ইসলামী ও ছাত্র শিবির নিজেদের সহিংসতা চরিতার্থ করার জন্যে মানুষের সংবেদশীল স্বত্বা “ধর্মকে” ব্যাবহার করে। সে হোক মুসলিম হোক বিধর্মী, হোক আস্তিক হোক নাস্তিক, হোক অপরাধী হোক নিরপরাধী, তাকে নিসংস ভাবে হত্যার পর সে হয়ে যাবে তাদের কাছে “মুরতাদ” যাদেরকে হত্যা করা আর শয়তান মারা একই কথা, এতে তাদের পুণ্য বাড়ে।
আরেকটা বিষয়, বাংলার ১৬ কোটি মানুষের সাথে আল্লাহ নাই, আছে শুধু জামাত-শিবিরের সাথে। অর্থাৎ, আপনাকে মুসলিম হতে হলে আগে জামাত-শিবিরে করতে হবে, আর খাঁটি মুসলিম হতে হলে তাদের ভাষ্য মতে “মুরতাদ” হত্যা করতে হবে, যত নিসংস ভাবে হত্যা করতে পারবেন, তত বেশি পুণ্য পাবেন।
কিন্তু বাংলার সাধারণ জনগণ ৭১ এও যেমন ধর্মের আড়ালে এদের মুখোশ চিনেছে, ১৩ এর নব্য মুক্তিযুদ্ধেও চিন্তে পেরেছে। এরা স্রেফ ধর্মকে ব্যাবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করছে, আর সাধারণ মানুষকে ধর্মের নামে ব্যাবহার করছে। এরাই হচ্ছে ধর্মের বন্ধু বেশে শত্রু যাদের কথা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও এদের থেকে সাবধান থাকতে বলেছেন। এরাই ধর্মের নাম করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এমনকি নিজের স্বার্থে বিক্রি করতেও দ্বিধা করে না কারণ এরাতো ধর্মের রক্ষক না, ধর্মের ব্যবসায়ী। এদের কাছে সাধারণ মানুষ যেমন নিরাপদ না, তেমনি ধর্ম ও না।
এদেরকে আইনের মাধ্যমে প্রতিহত করাই শেষ হবে না, নির্মূল করতে হবে সচেতনতা ও আর্ত-সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে।
এরা যে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা চড়াচ্ছে, সেটা যারা বুঝেও না বুঝার ভান করে, তাদেরকেও আল্লাহ হেদায়াত দান করেন। ধর্মর নামে নৃশংস হত্যা, হাত বোমা দিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা,আর এদের প্রতিহত করতে গেলেই ৭১ এর মত জামায়াত শিবির ও তাদের শুভানুধ্যায়ীরা “ইসলাম গেলে ইসলাম গেলে” বলে রব তোলে। ইসলাম রক্ষার জন্যে কি বাংলাকে পাকিস্তান আর আফগানিস্তান বানাতে হবে???
একবারোকি ভেবে দেখেছেন, এরা সত্যিকারের ধর্ম প্রচারক বা ধর্মের রক্ষক। এরা ধর্মের নামে যা করছে, সেটা কি ধর্ম সমর্থন করে?? ধর্ম শান্তির, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য নয়।
এরা স্রেফ ধর্মকে ব্যাবহার করছে, এবং তাদের উদ্দেশ্য আপনাকে (জামায়াত শিবির ও তাদের শুভানুধ্যায়ী) ধর্মীয় সেন্টিমেন্টাল দিয়ে সফল করেছে!
ধর্ম ও প্রিয় নবী নিয়ে যারা কটূক্তি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং সঠিক প্রদক্ষেপ নেয়া অথবা তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করার-এটার সাথে সবাই এক মত কিন্তু ভাল আজ যখন সহিংসতার মাধ্যমে করা হয়, তখন কি সেটা আর ভাল থাকে??? ধর্ম রাক্ষার নামে আপনে “মুরতাদ” জবাই করে হত্যা করলেন, এটা কি ধর্মের শিক্ষা বা ধর্ম রক্ষা??
ধর্ম ও প্রিয় নবী সম্পর্কে কটূক্তি কুৎসা যারা রটিয়েছে যাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমান সমর্থন করে এমনকি সশরীরে তাদেরে অসহিংস সমর্থন জানায় কিন্তু কাল জুম্মার নামাজের পর যা ঘটে গেল, তাতে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মাঝে ধর্মের মুখোশ পরা জামাত ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবির সহিংসতা ও নৃশংসতা চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটা সহ মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বানচাল করা। ফলে, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলিম ঠিক কাদের কাছ থেকে ইসলামকে রক্ষা করবে, সেটা নিয়ে বিপাকে পড়ে যায়। তবে বুঝতে বেশি সময় লাগেনি, যখনই জামায়াত ও শিবির ৫২ এর ভাষা আন্দলনে শহীদদের জন্যে স্রদ্ধার শহীদ মিনার ভেঙ্গে গুরিয়ে দেয়, ৭১ এ পরাজিত যুদ্ধাপরাধীরা স্বাধীন দেশের জাতীয় পাতাকা পুড়িয়ে দেয়, যুদ্ধাপরাধীরাদের বিচারের দাবীতে গড়া গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙ্গে ফেলা হয়, তখন সাধারণ জনগণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ বুঝতে পারে, এরা ধর্মের নামে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতা ছড়াচ্ছে, ইসলামকে রক্ষার নামে ধ্বংসের মুখে ফেলে দিচ্ছে।
সব থেকে চখে পড়ার বিষয় হচ্ছে, এরা ৫২,৭১ এর মত ধর্মের নাম করে বিশেষ করে “ইসলাম গেল ইসলাম গেল” বলে হত্যা, লুটপাট, সহিংসতা, ধর্ষণ, অগ্নিকান্ড, দখলদারিত্ব ইত্যাদি চালিয়ে যাচ্ছে, যার কিছুটা গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর আমরা দেখতে পেলাম।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।