আমি বিদ্রোহী
এমডিজি অর্জনে সাফল্যের জন্য জাতিসংঘ পদক সরকারের দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে
রিবেল মনোয়ার
বাংলাদেশের জন্য একটি সুখবর এমডিজি অর্জনে সাফল্যের জন্য জাতিসংঘ পদক প্রাপ্তি । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে বাংলাদেশের বিশেষ কৃতিত্বের জন্য গত রোববার জাতিসংঘ পদক গ্রহণ করেছেন। নিউইয়র্কের এস্টোরিয়া হোটেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিশেষ করে শিশু মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে শেখ হাসিনা দেশের পক্ষে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনের পাশাপাশি উ”চ পর্যায়ের এমডিজি সম্মেলনের একদিন আগে বাংলাদেশ ও আরো ৫টি দেশকে এ পদক প্রদান করা হয়।
পুরস্কার প্রদান কমিটি এমডিজির লক্ষ্য অর্জন প্রচেষ্টায় শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পুরস্কার গ্রহণের পর এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ পুরস্কার আমাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। কারণ সা¤প্রতিক বিশ্ব মন্দা, বিশ্ব উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সত্ত্বেও ২০১৫ সাল নাগাদ এমডিজির লক্ষ্য অর্জন প্রচেষ্টায় আমরা কোনো রকম ছাড় দেইনি। ’২০০০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক অধিবেশনে ৮ দফা এমডিজি নির্ধারণের দশ বছর পর এই পুরস্কার প্রদান করা হলো। ওই অধিবেশনেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা অংশ নিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের শ্রদ্ধেয় নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমি বরাবরই হƒদয়ের গভীর থেকে শিশুদের কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করি। রবি ঠাকুর বলেছিলেন, ‘যতোবার একটি শিশু জš§ নেয়, ততোবার নতুন করে আমার ভেতর এ বিশ্বাস জšে§ ঈশ্বর মানুষকে ছেড়ে যাননি। ’আমরা জানি,জাতিসংঘের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সমর্থনই এ পুরস্কার প্রদানের লক্ষ্য। কারণ জাতিসংঘ এমডিজি অর্জনে সদস্য দেশগুলোর জন্য ১৫ বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল। তবে এই অর্জন সকোরের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ।
প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ ও জলবায়ুর কথাও জাতিসংঘে বলেছেন । পরিবেশ কোনো নগণ্য বিষয় নয়। সে বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যদি বিবেচনা করা যায় তবে সেটা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। কোনো রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি যদি সে দেশের সরকার প্রধানও পরিবেশ বিষযটিকে গুরত্ব প্রদান করেন তবে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন সাধিত করা সহজ হয়ে যায়। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিষ্কার বলেছিলেন পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে।
দিন বদলের সনদের ৮নং পয়েন্টে বলা রয়েছে ‘পরিবেশ ও পানিসম্পদ’ সম্পর্কে। নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে প্রতিশ্র“তি দিয়ে বলা হয়েছিল বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব থেকে রক্ষা, দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা এবং পানিসম্পদ রক্ষায় সমন্বিত নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। নদী খনন, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন রোধ, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ব্যব¯’া করা হবে। সেচ সুবিধা স¤প্রসারণ ও লবণাক্ততা রোধ এবং সুন্দরবনসহ অববাহিকা অঞ্চলে মিঠা পানি প্রাপ্তি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। পরিবেশ ও পানিসম্পদ রক্ষায় কার্যকর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা হবে।
পানি ও বায়ু দূষণ রোধ এবং বর্জ্য ব্যব¯’াপনা আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত ব্যব¯’াপনা গড়ে তোলা হবে। ভূ-উপরি¯ি’ত পানির যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। সুখের সংবাদ হ”েছ বর্তমান সরকার পরিবেশ বিষয়টিকে ব্যাপক গুর“ত্ব প্রদান করার মাধ্যমে আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন যে পরিবেশ কারো ব্যক্তিগত বিষয় নয়। দেশের তথা সমগ্র বিশ্বের পরিবেশকে ¯ি’তিশীল রাখতে হলে আমাদের যৌথভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে পরিবেশ সবার জন্য।
কাজেই পরিবেশ দূষণ হলে কেউ এককভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সে বিষয়টি ভাবার কোনো কারণ নেই। ভবিষ্যৎ প্রজšে§র সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার লক্ষে নতুন প্রজš§কে সংগ্রাম করতে হবে। আমাদের পরিবেশ ধ্বংস হতে পারে না। নতুন প্রজšে§র মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধ ও বন্য প্রাণী শিকার নিষিদ্ধ করতে হবে। নতুন প্রজš§কে প্রাকৃতিক বনায়নের পাশাপাশি পরিবেশ গড়ে তুলতে উদ্যোগী হতে হবে।
ওজোন স্তরের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সাধারণভাবে প্রস্তাবিত সংশোধনীটি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য তবে ‘পাহাড় ও টিলা’ কাটার বিষয়সহ অন্যান্য বিষয়ে যে সকল ফাঁকফোকর রয়েছে সেগুলো সরকার বিবেচনা করে প্রস্তাবিত পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ২০১০ পাস করবে বলে সাধারণ জনগণের বিশ্বাস। আমরা অনেকে জানি ১৯৯৫ সালের যে আইনটি সংশোধন করা হলো, সেটি যে কতো অকার্যকর ও দুর্বল, নতুন আইন এসে সেই ফাঁকগুলো তুলে ধরলো। সেই আইনে পরিবেশ দূষণের বির“দ্ধে মামলা করতে হলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে তাদের মাধ্যমেই করতে হতো। অন্যদিকে পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণগুলোকে অপরাধ হিসেবে গণ্যই করা হতো না।
এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়া তেমনটা জোরদার করার প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না। এখন প্রতিটি জেলায় পরিবেশ আদালত ¯’াপনের প্রয়োজনের কথা আইনে বর্ণিত হয়েছে। লম্বা সময় পর্যন্ত পরিবেশের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করার জন্য সে সকল সংগঠনগুলো ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য বটে। জলাধার ভরাট, পাহাড় কাটা, ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য, জাহাজ ভাঙা বা কাটার ফলে সৃষ্ট দূষণ এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার নিয়ম ভঙ্গ করাকে নতুন আইনে সরাসরি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৯৯৫ সালের আইনে এসব বিষয়ে স্পষ্ট বিধান না থাকার পরও কীভাবে এ রকম আইন সংশোধনে এতো দেরি হলো, তা সত্যিই সমালোচনার বিষয়।
কিš‘ দেরিতে হলেও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর চাপে যে তা সংশোধিত হ”েছ, এটা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। পাহাড় ও টিলা কর্তন সম্পর্কে যে বিধান নতুন প্রস্তাবিত সংশোধনীতে আনা হয়েছে তা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। নতুন আইনের উল্লিখিত ধারার অপপ্রয়োগের আশঙ্কা রয়েছে বলে ধারণা করা হ”েছ। এমডিজি অর্জনে পরিবেশ একটি অতি গুরুত্বপূণৃ বিষয় । প্রবাসীদের অর্থ কাজে লাগাতে হবে বিদেশী সহায়তা নয় তাহলেই আমরা আরেনা এগিয়ে যাব ।
আর বিদেশী সহায়তা নয়, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ কাজে লাগানোর জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের মাত্র ২ শতাংশ বৈদেশিক ঋণ বা অর্থ সহায়তা হিসেবে আসে। অন্যদিকে জাতীয় আয়ের ১০ থেকে ১১ শতাংশ আসে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো রেমিটেন্স থেকে। কিন্তু আক্ষেপ করার বিষয় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সকে কাজে না লাগিয়ে আমরা বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণ করি। বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্সকে কাজে লাগাতে সরকারকে ব্যব¯’া নেয়ার পাশাপাশি বিদেশী ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে চুক্তির সময় সরকার সংশ্লিষ্টদের আরো বেশি সতর্ক হতে পারে।
ঋণদাতাদের সঙ্গে যারা আলোচনা করবেন তাদের আরো বেশি দক্ষ হতে হবে। ঋণ যদি নিতেই হয়, তবে তা অবশ্যই জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে হতে হবে। অভিযোগ অছে, কোনো দাতা সং¯’া ১০০ টাকা ঋণ দিলে এর ৯০ টাকাই বাংলাদেশে আসে না। ‘পরামর্শক, বিমান ভাড়া, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার ও অফিস সরঞ্জামাদিসহ বিভিন্ন কিছু কিনতেই ঋণের বেশিরভাগ টাকা চলে যায়। বিদেশী ঋণের প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অপচয়ই প্রধান বিষয়।
বাংলাদেশে বছরে গড়ে ১ বিলিয়ন ডলার বিদেশী ঋণ আসে এবং প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠান প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। ১০ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠানোদের কোনো সম্মান দেয়া হয় না, তারা এয়ারপোর্টসহ বিভিন্ন ¯’ানে হয়রানির শিকার হন। সেখানে ওই ১ বিলিয়ন প্রদানকারীরা এ দেশের নীতিনির্ধারণে অংশ নেন এবং তাদের দাপটই বেশি। তর“ণ প্রজš§কে দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘ভিশন-২০২১’ ঘোষণা করেছে।
আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত এবং প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজš§ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার। কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা-প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসং¯’ান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। সরকার ইতিমধ্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করেছে। জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ডের খসড়া প্রণীত হয়েছে। তিনি বলেন ২টি মহিলা পলিটেকনিকসহ আরো ২৫টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ¯’াপন করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকার ২০২০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বর্তমানের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ বছরই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সপ্তাহ পালন করা হলো। তাছাড়া জাতীয় শিক্ষানীতিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বিশেষ গুর“ত্ব প্রদান করা হয়েছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এমডিজি অর্জনে আরো সফল করতে শিক্ষা, পরিবেশ,স্বাস্থ, জনশক্তি সব কিছুতেই যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে ।
মনে রাখতে হবে এ দেশ স্বাধনি হয়েছিল মানুষের ভাগ্য বদলের প্রতিশ্রতি নিয়ে । আমরা শহীদদের রক্তও দেশের সাধারন মানুষের কথা ভুলে যেতে পারিনা , সরকারও তার শপথের ব্যতিক্রম করতে পারেনা । এমডিজি অর্জনে সাফল্যের জন্য জাতিসংঘ পদক সরকারের দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে , বাড়িয়েছে প্রত্যাশা ।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।