যুবলীগ কর্মী ইব্রাহিম আহমেদ হত্যার ঘটনায় আরো দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের গাড়ি চালক নিজাম উদ্দিন ও অফিস সহকারী ঝন্টুকে শনিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে এমপি শাওনের গ্রেফতারকৃত দেহরক্ষী দেলওয়ার ও যুবলীগ কর্মী শিমুলকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ডে নেয় সিআইডি। সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, ইব্রাহিম হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
গতকাল দুপুরে ইব্রাহিম হত্যা মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে দেলওয়ার ও শিমুলকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার খন্দকার আবদুল হালিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার খন্দকার আবদুল হালিম বলেন, ইব্রাহিম হত্যা মামলায় মিঠু, দেলওয়ার ও শিমুলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তবে তারা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে নিশ্চিত কোন তথ্য দেয়নি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরো কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
সুত্র জানায়, সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদে মিঠু, শিমুল এবং দেলওয়ার একই ধরনের তথ্য দিচ্ছে। তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী ইব্রাহিম গুলিবিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে তারা কোন তথ্য জানেন না। তবে গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিমকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল শাওনের পরামর্শে। হাসপাতালে নেয়ার সময় মিঠু ইব্রাহিমের সঙ্গে এবং শিমুল ও দেলওয়ার শাওনের গাড়িতে ছিলেন। পুরান ঢাকার সুমনা হাসপাতাল ইব্রাহিমকে রাখতে অস্বীকৃতি জানালে শাওনের পরামর্শে তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রওনা হয়।
শিমুল ও দেলওয়ার জানিয়েছেন, তারা সব সময় শাওনের সঙ্গে থাকেন। শাওনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তারা সব কাজ করে থাকেন। ইব্রাহিম গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও তারা যা করেছেন সব শাওনের নির্দেশেই করেছেন।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিআইডির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেছেন, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা যাবে না।
তাদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা অনেক তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে।
শাওনের দুই দেহরক্ষীই সন্ত্রাসী
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতারকৃত এমপি শাওনের বডিগার্ড শিমুল পুলিশ-র্যাবের হিটলিস্টে ইয়াবা ব্যবসায়ী ভাতিজা রাসেলের ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে পরিচিত। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় সে শীর্ষ সন্ত্রাসী হারুনের ক্যাডার হিসাবে কাজ করতো। পরে পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে হারুন গা-ঢাকা দিলে শিমুল তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা শাওনের আশ্রয় নেয়।
২০০১ সালে পেয়ারাবাগ এলাকার স্থানীয় লোকজন অস্ত্রসহ আটক করে শিমুলকে পুলিশে সোপর্দ করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সে ইয়াবা ও অস্ত্রসহ একাধিকবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে। সে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ট বন্ধু। বর্তমানে সে ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি সিদ্ধেশ্বরী, মগবাজার, মৌচাক ও মালিবাগ এলাকায় ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করে।
সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালে একটি বেসরকারী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হুমায়ুন জহির মার্ডার মামলার অন্যতম আসামি (পরে রাজসাক্ষী হয়) শীর্ষ সন্ত্রাসী আলমের সহযোগি ছিলো শাওনের বডিগার্ড দেলওয়ার।
ওই মামলায় সন্ত্রাসী আলম গ্রেফতার হওয়ার পর কামাল হোসেন ওরফে কালা ও দেলওয়ার গুরু পরিবর্তন করে। তারা পালাক্রমে গিয়ে ভিড়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, পাপ্পু, আরমান ও জিসানের দলে। গত বছরের শেষদিকে মহাখালী এলাকায় যুবলীগ নেতা লিটন মার্ডার হওয়ার পর দেলওয়ারকে দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেন শাওন। শাওনের গাড়ি চালক কালার বিশেষ সুপারিশেই দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ পায় দেলওয়ার।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।